আমি এরূপ শুনেছি, একসময় ভগবান শ্রাবস্তীর অনাথপিণ্ডিক নির্মিত জেতবন আরামে অবস্থান করছিলেন। অনন্তর আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবান সকাশে উপস্থিত হলেন। ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একপাশে বসলেন। অতঃপর একপাশে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানকে এরূপ বললেন :
“ভন্তে, কুশলশীল পালনের উদ্দেশ্য কী? তার সুফলই বা কী?”
“হে আনন্দ , কুশলশীল পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে অনুতাপহীনতা এবং ইহাই কুশলশীল পালনের সুফল বা আনিশংস।”
“ভন্তে, অনুতাপহীন হওয়ার উদ্দেশ্য কী? তার সুফলই বা কী?”
“আনন্দ, অনুতাপহীন হওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমানন্দ লাভ করা এবং পরমানন্দই অনুতাপহীনতার সুফল।”
“ভন্তে, পরমানন্দ লাভের উদ্দেশ্য কী? তার সুফলই বা কী?”
“আনন্দ, পরমানন্দ লাভের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রীতি এবং প্রীতিই পরমানন্দের সুফল।”
“ভন্তে, প্রীতি লাভের উদ্দেশ্য কী? তার সুফলই বা কী?”
“আনন্দ, প্রীতি লাভের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রশান্তি অর্জন করা এবং প্রশান্তিই প্রীতির সুফল।”
“ভন্তে, প্রশান্তি অর্জনের উদ্দেশ্য কী? তার সুফলই বা কী?”
“আনন্দ, প্রশান্তি অর্জনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুখ উপলব্ধি করা এবং সুখই প্রশান্তি অর্জনের ফল।”
“ভন্তে, সুখোপলব্ধির উদ্দেশ্য কী? তার সুফলই বা কী?”
“আনন্দ, সুখোপলব্ধির উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাধি অর্জন করা এবং সমাধিই সুখোপলব্ধির ফল।”
“ভন্তে, সমাধি অর্জন করার উদ্দেশ্য কী? তার সুফলই বা কী?”
“আনন্দ, সমাধি অর্জনের উদ্দেশ্য হচ্ছে যথাভূত জ্ঞানদর্শন হওয়া এবং যথাভূত জ্ঞানদর্শন হওয়াই সমাধি অর্জনের ফল।”
“ভন্তে, যথাভূত জ্ঞানদর্শনের উদ্দেশ্য কী? তার সুফলই বা কী?”
“আনন্দ, যথাভূত জ্ঞানদর্শনের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বেদ ও বিরাগভাব অর্জন এবং নির্বেদ ও বিরাগই যথাভূত জ্ঞানদর্শনের আনিশংস বা সুফল।”
“ভন্তে, নির্বেদ ও বিরাগভাব অর্জনের উদ্দেশ্য কী? তার সুফলই বা কী?”
“আনন্দ, নির্বেদ ও বিরাগভাব প্রাপ্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে বিমুক্তিজ্ঞানদর্শন এবং বিমুক্তিজ্ঞানদর্শনই নির্বেদ ও বিরাগভাব প্রাপ্তির আনিশংস বা সুফল।”
এরূপেই আনন্দ, কুশলশীলাদি পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে অনুতাপহীন হওয়া এবং অনুতাপহীনতাই কুশলশীলাদি পালনের আনিশংস বা সুফল। অনুতাপহীন হওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমানন্দিত হওয়া এবং পরমানন্দই অনুতাপহীনতার সুফল। পরমানন্দিত হওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রীতি লাভ করা এবং প্রীতি অর্জনই হচ্ছে পরমানন্দের সুফল। প্রীতি লাভের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রশান্তি অর্জন এবং প্রশান্তিই প্রীতির সুফল। প্রশান্তি লাভের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুখোপলদ্ধি হওয়া এবং সুখই প্রশান্তির আনিশংস বা সুফল। সুখোপলব্ধির উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাধি অর্জন এবং সমাধিই সুখের আনিশংস। সমাধি অর্জনের উদ্দেশ্য হচ্ছে যথাভূত জ্ঞানদর্শন এবং যথাভূত জ্ঞানদর্শনই সমাধির সুফল। যথাভূত জ্ঞানদর্শন হওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বেদ ও বিরাগ এবং নির্বেদ-বিরাগই যথাভূত জ্ঞানদর্শনের সুফল। নির্বেদ ও বিরাগ অবস্থা প্রাপ্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে বিমুক্তিজ্ঞানদর্শন এবং বিমুক্তিজ্ঞানদর্শনই নির্বেদ ও বিরাগের আনিশংস। এরূপে আনন্দ, কুশলশীলাদির পালন অনুক্রমে শ্রেষ্ঠে বা অর্হত্ত্বে উপনীত হয়।” প্রথম সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]