“হে ভিক্ষুগণ, দশ প্রকার খারাপ বিষয়ে সমন্নাগত জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে। সেই দশ প্রকার কী কী? যথা : সে প্রাণিহত্যাকারী হয়, অদত্তদ্রব্য হরণ করে, মিথ্যা কামাচারে লিপ্ত থাকে, মিথ্যাবাক্য বলে, ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ করে, কর্কশভাষী হয়, বৃথালাপ করে এবং সে হয় অভিধ্যালু, ব্যাপন্ন বা বিদ্বেষপরায়ণ ও মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন। ভিক্ষুগণ, এই দশটি খারাপ বিষয়ে সমন্নাগত জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে।
ভিক্ষুগণ, দশটি গুণধর্মে সুসমৃদ্ধ জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে না। সেই দশ প্রকার কী কী? যথা :
সে প্রাণিহত্যা হতে বিরত হয়, অদত্তদ্রব্য হরণ করে না, মিথ্যা কামাচারে লিপ্ত হয় না, মিথ্যাবাক্য বলে না, ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ করে না, কর্কশভাষী হয় না, বৃথালাপ করে না এবং সে হয় অনভিধ্যালু, মৈত্রীপরায়ণ ও সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন। ভিক্ষুগণ, এই দশটি গুণধর্মে সুসমৃদ্ধ জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে না।” পঞ্চম সূত্র।
“হে ভিক্ষুগণ, বিশ প্রকার খারাপ বিষয়ে সমন্নাগত জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে। সেই বিশ প্রকার কী কী? যথা :
সে স্বয়ং প্রাণিহত্যা করে ও অন্যকে প্রাণিহত্যাতে প্ররোচিত করায়, সে স্বয়ং অদত্তদ্রব্য হরণ করে ও অন্যকে অদত্তদ্রব্য গ্রহণে প্ররোচিত করায়, স্বয়ং সে মিথ্যা কামাচারে লিপ্ত থাকে এবং অপরকেও তাতে উদ্বুদ্ধ করায়, সে স্বয়ং মিথ্যাবাক্য বলে ও অন্যকে মিথ্যা বলার পরামর্শ দেয়, স্বয়ং সে ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ করে এবং অপরকে ভেদবাক্য বলার জন্য অনুপ্রাণিত করে, সে নিজে কর্কশভাষী হয় ও অন্যকে কর্কশ ভাষণে প্ররোচিত করায়, সে স্বয়ং বৃথালাপ করে ও অন্যকে বৃথাবাক্য বলানোর চেষ্টা করে এবং সে নিজে অভিধ্যালু হয় ও অপরকেও অভিধ্যালু হওয়ার জন্য প্ররোচিত করে, স্বয়ং ব্যাপন্ন বা বিদ্বেষপরায়ণ হয় এবং অন্যকে বিদ্বেষী হতে প্ররোচিত করে, সে নিজে মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন হয় এবং অন্যকেও মিথ্যাদৃষ্টি পোষণে উদ্বুদ্ধ করে। ভিক্ষুগণ, এই বিশটি খারাপ বিষয়ে সমন্নাগত জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে।
ভিক্ষুগণ, বিশটি গুণধর্মে সুসমৃদ্ধ জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে না। সেই বিশ প্রকার কী কী? যথা :
সে স্বয়ং প্রাণিহত্যা হতে বিরত হয় ও অন্যকে প্রাণিহত্যা হতে বিরত হওয়ার জন্য প্ররোচিত করায়, সে স্বয়ং অদত্তদ্রব্য হরণ করে না ও অন্যকে অদত্তদ্রব্য গ্রহণ না করার জন্য প্ররোচিত করায়, স্বয়ং সে মিথ্যা কামাচারে লিপ্ত থাকে না এবং অপরকেও তা না করার জন্য উদ্বুদ্ধ করায়, সে স্বয়ং মিথ্যাবাক্য বলা হতে বিরত হয় ও অন্যকে মিথ্যা বলা ত্যাগের পরামর্শ দেয়, স্বয়ং সে ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ হতে বিরত থাকে এবং অপরকে ভেদবাক্য না বলার জন্য অনুপ্রাণিত করে, সে নিজে মিষ্টভাষী হয় ও অন্যকে মিষ্টভাষণে প্ররোচিত করায়, সে স্বয়ং বৃথালাপ হতে বিরত হয় ও অন্যকে বৃথাবাক্য ত্যাগের চেষ্টা করে এবং সে নিজে অনভিধ্যালু হয় ও অপরকেও অনভিধ্যালু হওয়ার জন্য প্ররোচিত করে, স্বয়ং অব্যাপন্ন বা অবিদ্বেষপরায়ণ হয় এবং অন্যকে তাতে প্ররোচিত করে, সে নিজে সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন হয় এবং অন্যকেও সম্যক দৃষ্টি পোষণে উদ্বুদ্ধ করে। ভিক্ষুগণ, এই বিশটি গুণধর্মে সুসমৃদ্ধ জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে না।” ষষ্ঠ সূত্র।
“হে ভিক্ষুগণ, ত্রিশ প্রকার খারাপ বিষয়ে সমন্নাগত জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে। সেই ত্রিশ প্রকার কী কী? যথা :
সে স্বয়ং প্রাণিহত্যা করে ও অন্যকে প্রাণিহত্যাতে প্ররোচিত করায় এবং প্রাণিহত্যাকে অনুমোদন করে। সে স্বয়ং অদত্তদ্রব্য হরণ করে, অন্যকে অদত্তদ্রব্য গ্রহণে প্ররোচিত করায় এবং অদত্তগ্রহণকে অনুমোদন করে। স্বয়ং সে মিথ্যা কামাচারে লিপ্ত থাকে, অপরকেও তাতে উদ্বুদ্ধ করায় এবং মিথ্যা কামাচারকে অনুমোদন করে। সে স্বয়ং মিথ্যাবাক্য বলে, অন্যকে মিথ্যা বলার পরামর্শ দেয় এবং মিথ্যা ভাষণকে অনুমোদন করে। স্বয়ং সে ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ করে, অপরকে ভেদবাক্য বলার জন্য অনুপ্রাণিত করে এবং ভেদবাক্যকে অনুমোদন করে। সে নিজে কর্কশভাষী হয়, অন্যকে কর্কশ ভাষণে প্ররোচিত করায় এবং কর্কশ বাক্যকে অনুমোদন করে। সে স্বয়ং বৃথালাপ করে, অন্যকে বৃথাবাক্য বলানোর চেষ্টা করে এবং বৃথাবাক্য অনুমোদনও করে। সে নিজে অভিধ্যালু হয়, অপরকেও অভিধ্যালু হওয়ার জন্য প্ররোচিত করে এবং অভিধ্যাকে অনুমোদন করে। স্বয়ং ব্যাপন্ন বা বিদ্বেষপরায়ণ হয়, অন্যকে বিদ্বেষী হতে প্ররোচিত করে এবং বিদ্বেষপরায়ণতাকে অনুমোদন করে। সে নিজে মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন হয়, অন্যকেও মিথ্যাদৃষ্টি পোষণে উদ্বুদ্ধ করে এবং মিথ্যাদৃষ্টিকে অনুমোদন করে। ভিক্ষুগণ, এই ত্রিশটি খারাপ বিষয়ে সমন্নাগত জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে।
ভিক্ষুগণ, ত্রিশটি গুণধর্মে সুসমৃদ্ধ জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে না। সেই ত্রিশ প্রকার কী কী? যথা :
সে স্বয়ং প্রাণিহত্যা হতে বিরত হয়, অন্যকে প্রাণিহত্যা হতে বিরত হওয়ার জন্য প্ররোচিত করায় এবং প্রাণিহত্যা হতে বিরতিকে অনুমোদন করে। সে স্বয়ং অদত্তদ্রব্য হরণ করে না, অন্যকে অদত্তদ্রব্য গ্রহণ না করার জন্য প্ররোচিত করায় এবং অদত্তদ্রব্য গ্রহণ হতে বিরতিকে অনুমোদন করে। স্বয়ং সে মিথ্যা কামাচারে লিপ্ত থাকে না, অপরকেও তা না করার জন্য উদ্বুদ্ধ করায় এবং মিথ্যা কামাচার হতে বিরতিকে অনুমোদন করে। সে স্বয়ং মিথ্যাবাক্য বলা হতে বিরত হয়, অন্যকে মিথ্যা বলা ত্যাগের পরামর্শ দেয় এবং মিথ্যাবাক্য বলা হতে বিরতিকে অনুমোদন করে। স্বয়ং সে ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ হতে বিরত থাকে, অপরকে ভেদবাক্য না বলার জন্য অনুপ্রাণিত করে এবং ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ হতে বিরতিকে অনুমোদন করে। সে নিজে মিষ্টভাষী হয়, অন্যকে মিষ্টভাষণে প্ররোচিত করায় এবং মিষ্টভাষণ-কে অনুমোদন করে। সে স্বয়ং বৃথালাপ হতে বিরত হয়, অন্যকে বৃথাবাক্য ত্যাগের চেষ্টা করে এবং বৃথালাপ হতে বিরতিকে অনুমোদন করে। সে নিজে অনভিধ্যালু হয়, অপরকেও অনভিধ্যালু হওয়ার জন্য প্ররোচিত করে এবং অনভিধ্যাকে অনুমোদন করে। স্বয়ং অব্যাপন্ন বা অবিদ্বেষপরায়ণ হয়, অন্যকে তাতে প্ররোচিত করে এবং অবিদ্বেষপরায়ণতাকে অনুমোদন করে। সে নিজে সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন হয়, অন্যকেও সম্যক দৃষ্টি পোষণে উদ্বুদ্ধ করে এবং সম্যক দৃষ্টিকে অনুমোদন করে। ভিক্ষুগণ, এই ত্রিশটি গুণধর্মে সুসমৃদ্ধ জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে।” সপ্তম সূত্র।
“হে ভিক্ষুগণ, চল্লিশ প্রকার খারাপ বিষয়ে সমন্নাগত জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে। সেই চল্লিশ অভিধ্যাকে কী কী? যথা :
সে স্বয়ং প্রাণিহত্যা করে, অন্যকে প্রাণিহত্যাতে প্ররোচিত করায়, প্রাণিহত্যাকে অনুমোদন করে এবং প্রাণিহত্যার গুণকীর্তন করে। সে স্বয়ং অদত্তদ্রব্য হরণ করে, অন্যকে অদত্তদ্রব্য গ্রহণে প্ররোচিত করায়, অদত্তগ্রহণকে অনুমোদন করে এবং অদত্তদ্রব্য গ্রহণের গুণকীর্তন করে। স্বয়ং সে মিথ্যা কামাচারে লিপ্ত থাকে, অপরকেও তাতে উদ্বুদ্ধ করায়, মিথ্যা কামাচারকে অনুমোদন করে এবং মিথ্যা কামাচারের প্রশংসা করে। সে স্বয়ং মিথ্যাবাক্য বলে, অন্যকে মিথ্যা বলার পরামর্শ দেয়, মিথ্যা ভাষণকে অনুমোদন করে এবং মিথ্যা ভাষণের প্রশংসা করে। স্বয়ং সে ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ করে, অপরকে ভেদবাক্য বলার জন্য অনুপ্রাণিত করে, ভেদবাক্যকে অনুমোদন করে এবং ভেদবাক্যের প্রশংসা করে। সে নিজে কর্কশভাষী হয়, অন্যকে কর্কশ ভাষণে প্ররোচিত করায়, কর্কশ বাক্যকে অনুমোদন করে এবং কর্কশ ভাষণের প্রশংসা করে। সে স্বয়ং বৃথালাপ করে, অন্যকে বৃথাবাক্য বলানোর চেষ্টা করে, বৃথাবাক্য অনুমোদনও করে এবং বৃথাবাক্য ভাষণের প্রশংসা করে। সে নিজে অভিধ্যালু হয়, অপরকেও অভিধ্যালু হওয়ার জন্য প্ররোচিত করে, অভিধ্যাকে অনুমোদন করে এবং অভিধ্যার প্রশংসা করে। স্বয়ং ব্যাপন্ন বা বিদ্বেষপরায়ণ হয়, অন্যকে বিদ্বেষী হতে প্ররোচিত করে, বিদ্বেষপরায়ণতাকে অনুমোদন করে এবং বিদ্বেষপরায়ণতার প্রশংসা করে। সে নিজে মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন হয়, অন্যকেও মিথ্যাদৃষ্টি পোষণে উদ্বুদ্ধ করে, মিথ্যাদৃষ্টিকে অনুমোদন করে এবং মিথ্যা মিথ্যাদৃষ্টির প্রশংসা করে। ভিক্ষুগণ, এই চল্লিশটি খারাপ বিষয়ে সমন্নাগত জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে।
ভিক্ষুগণ, চল্লিশটি গুণধর্মে সুসমৃদ্ধ জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে না। সেই চল্লিশ অভিধ্যাকে কী কী? যথা :
সে স্বয়ং প্রাণিহত্যা হতে বিরত হয়, অন্যকে প্রাণিহত্যা হতে বিরত হওয়ার জন্য প্ররোচিত করায়, প্রাণিহত্যা হতে বিরতিকে অনুমোদন করে এবং প্রাণিহত্যা হতে বিরতির গুণ বর্ণনা করে। সে স্বয়ং অদত্তদ্রব্য হরণ করে না, অন্যকে অদত্তদ্রব্য গ্রহণ না করার জন্য প্ররোচিত করায়, অদত্তদ্রব্য গ্রহণ হতে বিরতিকে অনুমোদন করে এবং অদত্তদ্রব্য গ্রহণ হতে বিরতির গুণ বর্ণনা করে। স্বয়ং সে মিথ্যা কামাচারে লিপ্ত থাকে না, অপরকেও তা না করার জন্য উদ্বুদ্ধ করায়, মিথ্যা কামাচার হতে বিরতিকে অনুমোদন করে এবং মিথ্যা কামাচার হতে বিরতির গুণ বর্ণনা করে। সে স্বয়ং মিথ্যাবাক্য বলা হতে বিরত হয়, অন্যকে মিথ্যা বলা ত্যাগের পরামর্শ দেয়, মিথ্যাবাক্য বলা হতে বিরতিকে অনুমোদন করে এবং মিথ্যাবাক্য বলা হতে বিরতির গুণ বর্ণনা করে। স্বয়ং সে ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ হতে বিরত থাকে, অপরকে ভেদবাক্য না বলার জন্য অনুপ্রাণিত করে, ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ হতে বিরতিকে অনুমোদন করে এবং ভেদপূর্ণ বাক্য ভাষণ হতে বিরতির গুণ বর্ণনা করে। সে নিজে মিষ্টভাষী হয়, অন্যকে মিষ্টভাষণে প্ররোচিত করায়, মিষ্টভাষণকে অনুমোদন করে এবং মিষ্টভাষণের প্রশংসা করে। সে স্বয়ং বৃথালাপ হতে বিরত হয়, অন্যকে বৃথাবাক্য ত্যাগের চেষ্টা করে, বৃথালাপ হতে বিরতিকে অনুমোদন করে এবং বৃথালাপ হতে বিরতির প্রশংসা করে। সে নিজে অনভিধ্যালু হয়, অপরকেও অনভিধ্যালু হওয়ার জন্য প্ররোচিত করে, অনভিধ্যাকে অনুমোদন করে এবং অনভিধ্যার প্রশংসা করে। স্বয়ং অব্যাপন্ন বা অবিদ্বেষপরায়ণ হয়, অন্যকে তাতে প্ররোচিত করে, অবিদ্বেষপরায়ণতাকে অনুমোদন করে এবং অবিদ্বেষপরায়ণতার গুণ বর্ণনা করে। সে নিজে সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন হয়, অন্যকেও সম্যক দৃষ্টি পোষণে উদ্বুদ্ধ করে, সম্যক দৃষ্টিকে অনুমোদন করে এবং সম্যক দৃষ্টি পোষণের প্রশংসা করে। ভিক্ষুগণ, এই চল্লিশটি গুণধর্মে সুসমৃদ্ধ জন নিজেকে ছিন্নমূল ও অর্ধমৃত করে রাখে না।” অষ্টম সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]