লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

অধিবুত্তি পদ সূত্র

অনন্তর আয়ুষ্মান আনন্দ যেখানে ভগবান অবস্থান করছিলেন সেখানে উপস্থিত হলেন। ভগবান সকাশে উপনীত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একান্তে উপবেশন করলেন। একান্তে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান আনন্দকে ভগবান এরূপ বললেন :

“হে আনন্দ, যে-সকল ধর্ম সেই সেই মতবাদ অভিজ্ঞার দ্বারা উপলব্ধির জন্য পরিচালিত করে, আনন্দ, আমি বিশারদের ন্যায় তা জানি। সেই সেই দৃষ্টি (ধারণা) বা অপর আশয় জ্ঞাত হয়ে সেই সেই ধর্ম দেশনা করতে যেরূপ যেরূপভাবে প্রতিপন্ন হবে। যেমন, একজন ব্যক্তির যা আছে তা আছে বলে জ্ঞাত হবে, যা নেই তা নেই বলে জ্ঞাত হবে; হীনকে (হীন ধর্মকে) হীন বলে জ্ঞাত হবে; প্রণীত বা শ্রেষ্ঠকে শ্রেষ্ঠ বলে জ্ঞাত হবে, সউত্তরকে সউত্তর বলে জ্ঞাত হবে; অনুত্তরকে অনুত্তর বলে জ্ঞাত হবে। যেরূপ যেরূপে তা জ্ঞাতব্য, দ্রষ্টব্য ও গভীরভাবে উপলব্ধি করণীয় সেই সেইভাবেই তা সে জ্ঞাত হবে, দর্শন করবে ও উপলব্ধি করবে, এরূপ কারণ বিদ্যমান। আনন্দ, এরূপ অনুত্তর জ্ঞান অর্থাৎ তত্রতত্র যথাভূত জ্ঞান হতে অন্য কোনো উত্তরিতর, প্রণীততর, জ্ঞান নাই বলে আমি ঘোষণা করছি।

আনন্দ, দশ প্রকার বল বা ক্ষমতা রয়েছে যে-সমস্ত বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন। সেই দশ প্রকার বল কী কী? যথা :

আনন্দ, এক্ষেত্রে তথাগত স্থানকে স্থানরূপে, অস্থানকে অস্থানরূপে যথার্থভাবে জানেন। আনন্দ, ইহা তথাগতের এক প্রকার বল, যে বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।

পুনশ্চ, আনন্দ, তথাগত অতীত, অনাগত ও ভবিষ্যৎ কর্মের কারণ ও উদ্দেশ্যের সাথে বিপাক সম্বন্ধে প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত হন। আনন্দ, ইহা তথাগতের অপর এক প্রকার বল, যে বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।

পুনশ্চ, আনন্দ, তথাগত সর্বগামী প্রতিপদা (সর্ববিধ গতিগামী মার্গ) যথার্থভাবে জ্ঞাত হন। আনন্দ, ইহা তথাগতের অপর এক প্রকার বল, যে বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।

পুনশ্চ, আনন্দ, তথাগত জগৎকে অনেক ধাতু ও নানা ধাতুরূপে যথার্থভাবে জ্ঞাত হন। আনন্দ, ইহা তথাগতের অপর এক প্রকার বল, যে বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।

পুনশ্চ, আনন্দ, তথাগত সত্ত্বদের বহুপ্রকার অভিপ্রায় সম্বন্ধে যথার্থভাবে জ্ঞাত হয়। আনন্দ, ইহা তথাগতের অপর এক প্রকার বল, যে বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।

পুনশ্চ, আনন্দ, তথাগত অন্য সত্ত্বদের (প্রধান সত্ত্ব) অন্য পুদ্গলদের (প্রধান সত্ত্ব হতে হীন) মনোভাব সম্পর্কে যথার্থভাবে জ্ঞাত হন। আনন্দ, ইহা তথাগতের অপর এক প্রকার বল, যে বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।

পুনশ্চ, আনন্দ, তথাগত ধ্যান, বিমোক্ষ, সমাধি, সমাপত্তি, অপবিত্রতা, পবিত্রতা এবং উত্থান সম্বন্ধে যথার্থভাবে জ্ঞাত হন। আনন্দ, ইহা তথাগতের অপর এক প্রকার বল, যে বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।

পুনশ্চ, আনন্দ, তথাগত বহু প্রকারে বহুবিধ পূর্বজন্ম অনুস্মরণ করতে পারেন; যথা : এক জন্ম, দুই জন্ম, তিন জন্ম, চার জন্ম, পাঁচ জন্ম, বিশ জন্ম, ত্রিশ জন্ম, চল্লিশ জন্ম, পঞ্চাশ জন্ম, শত জন্ম, সহস্র জন্ম, লক্ষ জন্ম, এমনকি বহু সংবর্ত কল্প, বহু বিবর্ত কল্প, বহু সংবর্ত-বিবর্ত কল্পে, অমুক জন্মে আমার এই নাম, এই গোত্র, এই বর্ণ, এই আহার, এই ছিল সুখ-দুঃখ ভোগ, এই পরিমাণ আয়ু, সেখান হতে চ্যুত হয়ে এখানে জন্মগ্রহণ করেছি, এই প্রকারে আকার ও গতিসহ বহুবিধ পূর্বজন্ম অনুস্মরণ করতে পারেন। আনন্দ, ইহা তথাগতের অপর এক প্রকার বল, যে বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।

পুনশ্চ, আনন্দ, তথাগত বিশুদ্ধ লোকাতীত দিব্যচক্ষু দ্বারা যারা চ্যুত হচ্ছে, পুনরায় উৎপন্ন হচ্ছে, কর্মানুসারে গতিপ্রাপ্ত, হীনোৎকৃষ্ট, সুবর্ণ-দুর্বর্ণ, সুগতি-দুর্গতি প্রাপ্ত অপর জীবগণকে দেখতে পান। তথাগত তাদের এরূপে জানতে পারেন যে এই সকল জীব কায়-বাক্য ও মনোদুশ্চরিত্র সমন্বিত, আর্যগণের নিন্দুক, মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন ও মিথ্যাদৃষ্টিসম্ভূত কর্ম সম্পাদনের ফলে দেহান্তে (মৃত্যুর পরে) বিনিপাত নরকে উৎপন্ন হয়েছে। পক্ষান্তরে, এই সকল জীব কায়-বাক্য ও মনোসুচরিত্র সমন্বিত, আর্যগণের অনিন্দুক, সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন, সম্যক দৃষ্টিজাত কর্ম করার ফলে দেহান্তে সুগতি-স্বর্গলোকে উৎপন্ন হয়েছে। যারা চ্যুত হয়ে পুনরায় উৎপন্ন হচ্ছে, স্ব-স্ব কর্মানুসারে গতিপ্রাপ্ত, হীনোৎকৃষ্ট, সুবর্ণ-দুর্বর্ণ, সুগত-দুর্গত, তাদের বিশুদ্ধ লোকাতীত দিব্যচক্ষু দ্বারা তথাগত প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত হন। আনন্দ, এই যে তথাগত বিশুদ্ধ লোকাতীত দিব্যচক্ষু দ্বারা যারা চ্যুত হচ্ছে, পুনরায় উৎপন্ন হচ্ছে, কর্মানুসারে গতিপ্রাপ্ত, হীনোৎকৃষ্ট, সুবর্ণ-দুর্বর্ণ, সুগতি-দুর্গতি প্রাপ্ত অপর জীবগণকে দেখতে পান। ইহা তথাগতের অপর এক প্রকার বল, যে বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।

পুনশ্চ, আনন্দ, তথাগত ইহজীবনে আসবক্ষয়ে অনাসব ও স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি প্রত্যক্ষ করে লাভ করে অবস্থান করেন। আনন্দ, ইহা তথাগতের অপর এক প্রকার বল, যে বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরুগম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।

আনন্দ, এই দশ প্রকার বল বা ক্ষমতা; যে-সমস্ত বলে বলীয়ান হয়ে তথাগত শ্রেষ্ঠস্থান বিশেষভাবে জ্ঞাত থাকেন ও সিংহনিনাদের ন্যায় পরিষদে গুরু-গম্ভীর স্বরে ব্রহ্মচক্র প্রকাশ করেন।” দ্বিতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]