একসময় মহাকাত্যায়ন অবন্তী প্রদেশের কুরুরঘরের সন্নিকটস্থ পবত্ত নামক পর্বতে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর কুরুরঘরের জনৈক কালী নাম্নী উপাসিকা আয়ুষ্মান মহাকাত্যায়নের নিকট উপস্থিত হয়ে আয়ুষ্মান মহাকাত্যায়নকে অভিবাদনপূর্বক একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্ট সেই কুরুরঘরের কালী নাম্নী উপাসিকা আয়ুষ্মান মহাকাত্যায়নকে এরূপ বললেন :
“ভন্তে, ভগবান কর্তৃক কুমারী প্রশ্নে বলা হয়েছে যে,
‘প্রিয় ও সুখরূপ সেনাদল করে পরাজিত,
সদর্থ ও হৃদয়ের শান্তি আমার হয়েছে অর্জিত;
একাকী নিরালায় করে ধ্যান হয়েছি সুখ প্রাপ্ত,
তাই অন্যের সাথে নই আমি কদাচ সম্পৃক্ত।
পারস্পারিক মিত্র বন্ধন যত প্রকার হয়,
সেরূপ বন্ধন আমাতে মানানসই নয়।’
ভন্তে, ভগবানের এই সংক্ষিপ্ত ভাষণের বিস্তারিত ব্যাখ্যা কিরূপ?
“হে ভগ্নী, পৃথিবী-কৃৎস্ন সমাপত্তিতে সুদক্ষ কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণগণ তা দ্বারা (সেই সমাপত্তি দ্বারা) তাদের মঙ্গল প্রাপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ভগবান সেই পৃথিবী-কৃৎস্ন সমাপত্তির চূড়ান্ত অবস্থান পর্যন্ত জ্ঞাত হয়েছিলেন। তা জ্ঞাত হয়ে ভগবান তার মূল তলিয়ে দেখলেন, সেই বিষয়ের যাবতীয় আদীনব বা দোষ বিচার করে দেখলেন, তার নিঃসরণ বা মুক্তির বিষয় দেখতে পেলেন এবং মার্গ ও অমার্গ সম্বন্ধে জ্ঞান ও দর্শন বিবেচনাপূর্বক দেখতে পেলেন। সেরূপে মূল, আদীনব, নিঃসরণ এবং মার্গ-অমার্গ সম্বন্ধে জ্ঞান ও দর্শনহেতু ভগবানের সদর্থ বা নিজ মঙ্গল সাধিত হয়েছে এবং হৃদয়ের শান্তি প্রাপ্ত হয়েছেন।
ভগ্নী, জল-কৃৎস্ন, তেজ-কৃৎস্ন, বায়ু-কৃৎস্ন, নীল-কৃৎস্ন, পীত-কৃৎস্ন, লোহিতকৃৎস্ন ওদাত বা শ্বেত-কৃৎস্ন, আকাশ-কৃৎস্ন এবং বিজ্ঞান-কৃৎস্ন সমাপত্তিতেও সুদক্ষ কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণগণ তা দ্বারা তাদের মঙ্গল প্রাপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ভগবান সেই কৃৎস্ন সমাপত্তিসমূহের চূড়ান্ত অবস্থান পর্যন্ত জ্ঞাত হয়েছিলেন। তা জ্ঞাত হয়ে ভগবান তার মূল তলিয়ে দেখলেন, সেই বিষয়ের যাবতীয় আদীনব বা দোষ বিচার করে দেখলেন, তার নিঃসরণ বা মুক্তির বিষয় দেখতে পেলেন এবং মার্গ ও অমার্গ সম্বন্ধে জ্ঞান ও দর্শন বিবেচনাপূর্বক দেখতে পেলেন। সেরূপে মূল, আদীনব, নিঃসরণ এবং মার্গ-অমার্গ সম্বন্ধে জ্ঞান ও দর্শনহেতু ভগবানের সদর্থ বা নিজ মঙ্গল সাধিত হয়েছে এবং হৃদয়ের শান্তি প্রাপ্ত হয়েছেন।
ভগ্নী, এ কারণে ভগবান কর্তৃক কুমারী-প্রশ্নে বলা হয়েছে যে—
‘প্রিয় ও সুখরূপ সেনাদল করে পরাজিত,
সদর্থ ও হৃদয়ের শান্তি আমার হয়েছে অর্জিত;
একাকী নিরালায় করে ধ্যান হয়েছি সুখ প্রাপ্ত,
তাই অন্যের সাথে নই আমি কদাচ সম্পৃক্ত।
পারস্পারিক মিত্র বন্ধন যত প্রকার হয়,
সেরূপ বন্ধন আমাতে মানানসই নয়।’
ভগ্নী, ভগবান কর্তৃক ভাষিত এই সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত অর্থ এরূপেই জানা উচিত।” ষষ্ঠ সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]