একসময় ভগবান শ্রাবস্তীর অনাথপিণ্ডিক নির্মিত জেতবন আরামে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় বহুসংখ্যক ভিক্ষু পূর্বাহ্ণ সময়ে চীবর পরিধান করে পাত্র-চীবর গ্রহণপূর্বক শ্রাবস্তীতে পিণ্ডচারণের জন্য প্রবিষ্ট হলেন। অতঃপর সেই ভিক্ষুদের মনে এরূপ চিন্তার উদ্রেক হলো, ‘আমরা শ্রাবস্তীতে অতি শীঘ্র পিণ্ডচারণের জন্য প্রবিষ্ট হয়েছি। সেহেতু যেখানে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের আশ্রম রয়েছে আমরা এখন সেখানেই গমন করি।’
অতঃপর সেই ভিক্ষুগণ অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের আশ্রমে উপস্থিত হলেন। তথায় উপস্থিত হয়ে সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের সাথে প্রীতিপূর্ণ কথা বললেন। প্রীতিপূর্ণ কথা ও কুশল বিনিময় করে ভিক্ষুগণ একপার্শ্বে উপবেশন করলেন। একপার্শ্বে উপবিষ্ট ভিক্ষুদের সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকেরা এরূপ বললেন :
“হে বন্ধুগণ, শ্রমণ গৌতম নিজ শ্রাবক বা শিষ্যদের এরূপে ধর্মদেশনা করেন যে ‘হে ভিক্ষুগণ, তোমরা এখানে (এই ধর্মবিনয়ে) আগমনপূর্বক সর্ববিধ ধর্ম (বিষয়) সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হও; সর্ববিধ ধর্ম অভিজ্ঞাত হয়ে অবস্থান কর।’
বন্ধুগণ, আমরাও নিজ নিজ শ্রাবকদের এরূপ ধর্মদেশনা করে থাকি; যথা : ‘হে আবুসোগণ, তোমরা এখানে (এই ধর্মবিনয়ে) আগমনপূর্বক সর্ববিধ ধর্ম (বিষয়) সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হও; সর্ববিধ ধর্ম অভিজ্ঞাত হয়ে অবস্থান কর।’
বন্ধুগণ, এক্ষেত্রে গৌতম ও আমাদের ধর্মদেশনা ও অনুশাসনের মধ্যে কে স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন? কে অগ্র বা শ্রেষ্ঠ? এবং এক্ষেত্রে গৌতম ও আমাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্যই বা কী?”
অতঃপর সেই ভিক্ষুগণ অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের ভাষণ আনন্দ-সহকারে গ্রহণও করলেন না আবার নিন্দাও করলেন না। অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের ভাষণ আনন্দ-সহকারে গ্রহণ না করে এবং নিন্দাও না করে ‘এই ভাষণের অর্থ ভগবান বুদ্ধের নিকট হতে জ্ঞাত হবো’ এরূপ চিন্তা করে আসন হতে উঠে প্রস্থান করলেন। তার পর সেই ভিক্ষুগণ শ্রাবস্তীতে পিণ্ডচারণ করে আহারকৃত্য শেষ করে ভগবানের নিকট উপস্থিত হলেন। ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একপার্শ্বে উপবেশন করলেন। অতঃপর একপার্শ্বে উপবিষ্ট সেই ভিক্ষুগণ ভগবানকে এরূপ বললেন :
“ভন্তে, আমরা পূর্বাহ্ণ সময়ে চীবর পরিধান করে পাত্র-চীবর সাথে নিয়ে শ্রাবস্তীতে পিণ্ডচারণের জন্য প্রবিষ্ট হয়েছিলাম। তখন আমাদের এরূপ চিন্তার উদ্রেক হলো যে ‘আমরা শ্রাবস্তীতে অতি শীঘ্র পিণ্ডচারণের জন্য প্রবিষ্ট হয়েছি। সেহেতু যেখানে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের আশ্রম রয়েছে আমরা এখন সেখানেই গমন করব।
অতঃপর আমরা যেখানে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের আরামে উপস্থিত হয়ে সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের সাথে প্রীতিপূর্ণ কথা বলি। প্রীতিপূর্ণ কথা এবং কুশল বিনিময়ের পর একপার্শ্বে উপবেশন করি। একান্তে উপবেশনের পর সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকেরা আমাদেরকে এরূপ বললেন :
“হে বন্ধুগণ, শ্রমণ গৌতম নিজ শ্রাবক বা শিষ্যদের এরূপে ধর্মদেশনা করেন যে ‘হে ভিক্ষুগণ, তোমরা এখানে (এই ধর্মবিনয়ে) আগমনপূর্বক সর্ববিধ ধর্ম (বিষয়) সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হও; সর্ববিধ ধর্ম অভিজ্ঞাত হয়ে অবস্থান কর।’
বন্ধুগণ, আমরাও নিজ নিজ শ্রাবকদের এরূপ ধর্মদেশনা করে থাকি; যথা ‘হে আবুসোগণ, তোমরা এখানে (এই ধর্মবিনয়ে) আগমনপূর্বক সর্ববিধ ধর্ম (বিষয়) সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হও; সর্ববিধ ধর্ম অভিজ্ঞাত হয়ে অবস্থান কর।’
বন্ধুগণ, এক্ষেত্রে গৌতম ও আমাদের ধর্মদেশনা ও অনুশাসনের মধ্যে কে স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন? কে অগ্র বা শ্রেষ্ঠ? এবং এক্ষেত্রে গৌতম ও আমাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্যই বা কী?”
অতঃপর ভন্তে, সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের ভাষণ অভিনন্দন না করে ও নিন্দা না করে, ‘ভগবানের নিকট এই ভাষণের অর্থ জ্ঞাত হব’ এরূপ চিন্তা করে আসন হতে উঠে সেখান হতে প্রস্থান করেছিলাম।”
“হে ভিক্ষুগণ, এরূপ বাদী অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদেরকে তোমাদের এরূপ বলা উচিত; যথা : ‘হে আবুসোগণ, একটি প্রশ্ন, এক প্রকার উদ্দেশ (অর্থ) ও এক প্রকার ব্যাখ্যা আছে; দুটি প্রশ্ন, দুই প্রকার অর্থ ও দুই প্রকার ব্যাখ্যা আছে; তিনটি প্রশ্ন, তিন প্রকার অর্থ ও তিন প্রকার ব্যাখ্যা আছে; চারটি প্রশ্ন, চার প্রকার অর্থ ও চার প্রকার ব্যাখ্যা আছে; পাঁচটি প্রশ্ন, পাঁচ প্রকার অর্থ ও পাঁচ প্রকার ব্যাখ্যা আছে; ছয়টি প্রশ্ন, ছয় প্রকার অর্থ ও ছয় প্রকার ব্যাখ্যা আছে; সাতটি প্রশ্ন, সাত প্রকার অর্থ ও সাত প্রকার ব্যাখ্যা আছে; আটটি প্রশ্ন, আট প্রকার অর্থ ও আট প্রকার ব্যাখ্যা আছে; নয়টি প্রশ্ন, নয় প্রকার অর্থ ও নয় প্রকার ব্যাখ্যা আছে; এবং দশটি প্রশ্ন, দশ প্রকার অর্থ ও দশ প্রকার ব্যাখ্যা আছে। ভিক্ষুগণ, এরূপ জিজ্ঞাসিত হলে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকেরা তার যথার্থ অর্থ প্রকাশ করতে পারবে না অধিকন্তু, বিরক্ত হবে। তার কারণ কী? ভিক্ষুগণ, আমি বলি তা তাদের বোধ শক্তির অতীত। ভিক্ষুগণ, তথাগত, তথাগতের শ্রাবকগণ কিংবা এই ধর্মবিনয় হতে শ্রবণ ব্যতীত দেবলোক, মারলোক, ব্রহ্মলোক ও শ্রমণ-ব্রাহ্মণের মধ্যে এমন কাকেও আমি দেখছি না, যে এই প্রশ্নসমূহের যথার্থ ব্যাখ্যা প্রদানে মনঃতুষ্টি সাধন করতে পারে।
ভিক্ষুগণ, এই যে একটি প্রশ্ন, এক প্রকার অর্থ ও এক প্রকার ব্যাখ্যা আছে বলা হয়েছে। তা কী কারণে বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, এক প্রকার ধর্মে (বিষয়ে) ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। সেই এক প্রকার ধর্ম কী? যথা : ‘সকল সত্ত্ব বা জীব আহারের দ্বারাই স্থিত।’ ভিক্ষুগণ, এই এক প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। এ কারণেই, এ হেতুতেই বলা হয়েছে একটি প্রশ্ন, এক প্রকার অর্থ ও এক প্রকার ব্যাখ্যা আছে।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, দুটি প্রশ্ন, দুই প্রকার অর্থ ও দুই প্রকার ব্যাখ্যা আছে বলা হয়েছে। তা কী কারণে বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, দুই প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। সেই দুই প্রকার ধর্ম কী কী? যথা : ‘নাম ও রূপ।’ ভিক্ষুগণ, এই দুই প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। এ কারণেই, এ হেতুতেই বলা হয়েছে, দুটি প্রশ্ন, দুই প্রকার অর্থ ও দুই প্রকার ব্যাখ্যা আছে।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, তিন প্রশ্ন, তিন প্রকার অর্থ ও তিন প্রকার ব্যাখ্যা আছে বলা হয়েছে। তা কী কারণে বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, তিন প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। সেই তিন প্রকার ধর্ম কী কী? যথা : ‘তিন প্রকার বেদনা (সুখ বেদনা, দুঃখ বেদনা ও উপেক্ষা বেদনা)।’ ভিক্ষুগণ, এই তিন প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। এ কারণেই, এ হেতুতেই বলা হয়েছে, তিন প্রকার প্রশ্ন, তিন প্রকার অর্থ ও তিন প্রকার ব্যাখ্যা আছে।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, চারটি প্রশ্ন, চার প্রকার অর্থ ও চার প্রকার ব্যাখ্যা আছে বলা হয়েছে। তা কী কারণে বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, চার প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। সেই চার প্রকার ধর্ম কী কী? যথা : ‘চতুর্বিধ আহার।’ ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। এ কারণেই, এ হেতুতেই বলা হয়েছে, চারটি প্রশ্ন, চার প্রকার অর্থ ও চার প্রকার ব্যাখ্যা আছে।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, পাঁচটি প্রশ্ন, পাঁচ প্রকার অর্থ ও পাঁচ প্রকার ব্যাখ্যা আছে বলা হয়েছে। তা কী কারণে বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, পাঁচ প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। সেই পাঁচ প্রকার ধর্ম কী কী? যথা : ‘পঞ্চবিধ উপাদান স্কন্ধ।’ ভিক্ষুগণ, এই পাঁচ প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। এ কারণেই, এ হেতুতেই বলা হয়েছে, পাঁচটি প্রশ্ন, পাঁচ প্রকার অর্থ ও পাঁচ প্রকার ব্যাখ্যা আছে।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, ছয়টি প্রশ্ন, ছয় প্রকার অর্থ ও ছয় প্রকার ব্যাখ্যা আছে বলা হয়েছে। তা কী কারণে বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, ছয় প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। সেই ছয় প্রকার ধর্ম কী কী? যথা : ‘ছয় প্রকার আধ্যাত্মিক আয়তন।’ ভিক্ষুগণ, এই ছয় প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। এ কারণেই, এ হেতুতেই বলা হয়েছে, ছয়টি প্রশ্ন, ছয় প্রকার অর্থ ও ছয় প্রকার ব্যাখ্যা আছে।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, সাতটি প্রশ্ন, সাত প্রকার অর্থ ও সাত প্রকার ব্যাখ্যা আছে বলা হয়েছে। তা কী কারণে বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, সাত প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। সেই সাত প্রকার ধর্ম কী কী? যথা : ‘সাত প্রকার বিজ্ঞানস্থিতি।’ ভিক্ষুগণ, এই সাত প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। এ কারণেই, এ হেতুতেই বলা হয়েছে, সাতটি প্রশ্ন, সাত প্রকার অর্থ ও সাত প্রকার ব্যাখ্যা আছে।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, আটটি প্রশ্ন, আট প্রকার অর্থ ও আট প্রকার ব্যাখ্যা আছে বলা হয়েছে। তা কী কারণে বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, আট প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। সেই আট প্রকার ধর্ম কী কী? যথা : ‘অষ্ট লোকধর্ম।’ ভিক্ষুগণ, এই আট প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। এ কারণেই, এ হেতুতেই বলা হয়েছে, আটটি প্রশ্ন, আট প্রকার অর্থ ও আট প্রকার ব্যাখ্যা আছে।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, নয়টি প্রশ্ন, নয় প্রকার অর্থ ও নয় প্রকার ব্যাখ্যা আছে বলা হয়েছে। তা কী কারণে বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, নয় প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। সেই নয় প্রকার ধর্ম কী কী? যথা : ‘নয় প্রকার সত্ত্বাবাস।’ ভিক্ষুগণ, এই নয় প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। এ কারণেই, এ হেতুতেই বলা হয়েছে, নয়টি প্রশ্ন, নয় প্রকার অর্থ ও নয় প্রকার ব্যাখ্যা আছে।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, দশটি প্রশ্ন, দশ প্রকার অর্থ ও দশ প্রকার ব্যাখ্যা আছে বলা হয়েছে। তা কী কারণে বলা হয়েছে? ভিক্ষুগণ, দশ প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। সেই দশ প্রকার ধর্ম কী কী? যথা : ‘দশবিধ অকুশলকর্ম পথ।’ ভিক্ষুগণ, এই দশ প্রকার ধর্মে ভিক্ষু সম্যকরূপে বিরাগ প্রাপ্ত হয়, সম্যকরূপে অপসৃত হয়, সম্যক বিমুক্তি হয়, আদি-অন্তদর্শী হয় এবং যথার্থ কারণ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত হয়ে ইহজীবনেই দুঃখের অন্তসাধন করে। এ কারণেই, এ হেতুতেই বলা হয়েছে, দশটি প্রশ্ন, দশ প্রকার অর্থ ও দশ প্রকার ব্যাখ্যা আছে।” সপ্তম সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]