লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

কোশল সূত্র

হে ভিক্ষুগণ, কাসি-কোশল রাজ্য যতদূর বিস্তৃত, যতদূর পর্যন্ত কোশলরাজ প্রসেনজিতের বিজিত রাজ্য রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসেনজিৎ কোশলই শ্রেষ্ঠরূপে বিবেচিত হন। কিন্তু, ভিক্ষুগণ, কোশলরাজ প্রসেনজিতেরও বিনাশ ও বিপরিণাম বিদ্যমান। এরূপ দর্শন করে একজন শ্রুতবান আর্যশ্রাবক তৎপ্রতি বিরক্ত (বিরাগ) হয়। সেরূপ বিরক্তির দরুন তাদৃশ অগ্র বা শ্রেষ্ঠ বিষয়ের প্রতি সে আগ্রহহারা হয়, হীন বিষয়ের কথাই বা কী!

ভিক্ষুগণ, যতদূর পর্যন্ত চন্দ্র-সূর্য চারিদিকে মণ্ডলাকারে গমন করে এবং সর্বদিক তাদের আলোয় আলোকিত হয়, ঠিক তদ্দূর পর্যন্ত জগৎ সহস্রভাগে বিভক্ত। সেই সহস্র জগতে সহস্র চন্দ্র, সহস্র সূর্য, সহস্র সিনেরু পর্বতরাজ, সহস্র জম্বুদ্বীপ, সহস্র অপরগোয়ান, সহস্র উত্তরকুরু, সহস্র পূর্ববিদেহ, চারি সহস্র মহাসমুদ্র, চারি সহস্র মহারাজ, সহস্র চতুর্মহারাজিক, সহস্র ত্রয়োত্রিংশ, সহস্র যাম, সহস্র তুষিত, সহস্র নির্মাণরতী, সহস্র পরনির্মিত বশবর্তী ও সহস্র ব্রহ্মলোক বিদ্যমান। ভিক্ষুগণ, সেই সহস্র লোকধাতু বা জগতের মধ্যে মহাব্রহ্মাই শ্রেষ্ঠরূপে বিবেচিত হন। কিন্তু, ভিক্ষুগণ, মহাব্রহ্মারও বিনাশ ও বিপরিণাম বিদ্যমান। এরূপ দর্শন করে একজন শ্রুতবান আর্যশ্রাবক সেই বিষয়ের প্রতি বিরক্ত হয়। সেরূপ বিরক্তির দরুন তাদৃশ শ্রেষ্ঠ বিষয়ের প্রতি সে আগ্রহহারা হয়, হীন বিষয়ের কথাই বা কী!

ভিক্ষুগণ, এমন সময় আসে যখন এই জগৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। মহাপ্রলয় কালে জগতের বহুসংখ্যক সত্ত্ব আভাস্বর ব্রহ্মলোকে উৎপন্ন হয়। সেখানে তারা মনোময়, প্রীতি আস্বাদনকারী, স্বয়ং প্রভাস্বর, অন্তরীক্ষচর ও যশস্বী হয়ে সুদীর্ঘকাল অবস্থান করে। ভিক্ষুগণ, জগতের মহাপ্রলয়কালে প্রভাস্বর ব্রহ্মাগণ সর্বশ্রেষ্ঠরূপে বিবেচিত হন। কিন্তু, ভিক্ষুগণ, আভাস্বর ব্রহ্মাদেরও বিনাশ ও বিপরিণাম বিদ্যমান। এরূপ দর্শন করে একজন শ্রুতবান আর্যশ্রাবক সেই বিষয়ের প্রতি বিরক্ত হয়। সেরূপ বিরক্তির দরুন তাদৃশ শ্রেষ্ঠ বিষয়ের প্রতি সে আগ্রহহারা হয়, হীন বিষয়ের কথাই বা কী!

ভিক্ষুগণ, দশ প্রকার কৃৎস্ন আয়তন রয়েছে। সেই দশ প্রকার কী কী? যথা : একজন পৃথিবী-কৃৎস্নকে ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক, অযুগ্ম এবং অপ্রমাণভাবে জানে; এভাবে একজন আপ বা জল, তেজ, বায়ু, নীল, পীত, লোহিত, শ্বেত, আকাশ এবং বিজ্ঞান-কৃৎস্নকে ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক, অযুগ্ম এবং অপ্রমাণভাবে জানে। এই দশ প্রকারই হচ্ছে কৃৎস্ন আয়তন। ভিক্ষুগণ, এই দশ প্রকার কৃৎস্ন আয়তনের মধ্যে বিজ্ঞান-কৃৎস্ন আয়তনই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ যা একজন ঊর্ধ্ব, অধঃ, তির্যক, অযুগ্ম এবং অপ্রমাণভাবে জানে। ভিক্ষুগণ, এরূপ সংজ্ঞাসম্পন্ন সত্ত্বগণ বিদ্যমান। কিন্তু, ভিক্ষুগণ, এরূপ সংজ্ঞাসম্পন্ন সত্ত্বদেরও বিনাশ ও বিপরিণাম ঘটে। তা জ্ঞানযোগে দর্শন করে একজন শ্রুতবান আর্যশ্রাবক সেই বিষয়ের প্রতি বিরক্ত হয়। সেরূপ বিরক্তির দরুন তাদৃশ শ্রেষ্ঠ বিষয়ের প্রতি সে আগ্রহহারা হয়, হীন বিষয়ের কথাই বা কী!

ভিক্ষুগণ, আট প্রকার অভিভূ-আয়তন রয়েছে। সেই আট প্রকার কী কী? যথা এক্ষেত্রে একজন নিজমধ্যে (অধ্যাত্ম) রূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক সীমাবদ্ধ সুবর্ণ-দুর্বর্ণ রূপসমূহ দর্শন করে। ‘তৎসমস্ত আয়ত্ত করে জ্ঞাত আছি এবং দর্শন করি’ এরূপ সংজ্ঞী হয় সে। ইহা হচ্ছে প্রথম অভিভূ-আয়তন।

একজন অধ্যাত্ম রূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক অপ্রমাণ সুবর্ণ-দুর্বর্ণ রূপসমূহ দর্শন করে। ‘তৎসমস্ত আয়ত্ত করে জ্ঞাত আছি এবং দর্শন করি’ এরূপ সংজ্ঞী হয় সে। ইহা হচ্ছে দ্বিতীয় অভিভূ-আয়তন।

একজন অধ্যাত্ম অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক সীমাবদ্ধ সুবর্ণ-দুর্বর্ণ রূপসমূহ দর্শন করে। ‘তৎসমস্ত আয়ত্ত করে জ্ঞাত আছি এবং দর্শন করি’ এরূপ সংজ্ঞী হয় সে। ইহা হচ্ছে তৃতীয় অভিভূ-আয়তন।

একজন অধ্যাত্ম অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক অপ্রমাণ সুবর্ণ-দুর্বর্ণ রূপসমূহ দর্শন করে। ‘তৎসমস্ত আয়ত্ত করে জ্ঞাত আছি এবং দর্শন করি’ এরূপ সংজ্ঞী হয় সে। ইহা হচ্ছে চতুর্থ অভিভূ-আয়তন।

একজন নিজমধ্যে অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক নীল, নীলরঙ্গা, নীল চিহ্নসম্পন্ন ও উজ্জ্বল নীলাভ রূপসমূহ দর্শন করে। অতসী ফুল যেমন নীল, নীলরঙ্গা, নীলচিহ্ন এবং উজ্জ্বল নীলাভ কিংবা বেনারসীর নীলরঙ্গা মসলিন কাপড় যেমন উভয় অংশেই নীল, নীলরঙ্গা, নীল চিহ্নসম্পন্ন এবং উজ্জ্বল নীলাভ; ঠিক তদ্রূপ সে নিজমধ্যে অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক নীল, নীলরঙ্গা, নীল চিহ্নসম্পন্ন ও উজ্জ্বল নীলাভ রূপসমূহ দর্শন করে। ‘তৎসমস্ত আয়ত্ত করে জ্ঞাত আছি এবং দর্শন করি’ এরূপ সংজ্ঞী হয় সে। ইহা হচ্ছে পঞ্চম অভিভূ-আয়তন।

একজন নিজমধ্যে অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক পীত, পীতরঙ্গা, পীতচিহ্ন ও পীতাভ রূপসমূহ দর্শন করে। কর্ণিকার ফুল যেমন পীত (স্বর্ণালী), পীতরঙ্গা, পীত চিহ্ন ও পীতাভ; ঠিক তদ্রূপ সে নিজমধ্যে অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক পীত, পীতরঙ্গা, পীত চিহ্ন ও পীতাভ রূপসমূহ দর্শন করে। ‘তৎসমস্ত আয়ত্ত করে জ্ঞাত আছি এবং দর্শন করি’ এরূপ সংজ্ঞী হয় সে। ইহা হচ্ছে ষষ্ঠ অভিভূ-আয়তন।

একজন নিজমধ্যে অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক লোহিত, লোহিতরঙ্গা, লোহিতচিহ্ন ও রক্তাভ রূপসমূহ দর্শন করে। বন্ধুজীবক ফুল (বা চীনা গোলাপফুল) যেমন লোহিত, লোহিতরঙ্গা, লোহিত চিহ্ন ও রক্তাভ; ঠিক তদ্রূপ সে নিজমধ্যে অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক লোহিত, লোহিতরঙ্গা, লোহিত চিহ্ন ও রক্তাভ রূপসমূহ দর্শন করে। ‘তৎসমস্ত আয়ত্ত করে জ্ঞাত আছি এবং দর্শন করি’ এরূপ সংজ্ঞী হয় সে। ইহা হচ্ছে সপ্তম অভিভূ-আয়তন।

একজন নিজমধ্যে অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক শ্বেত, শ্বেতরঙ্গা, শ্বেত চিহ্ন ও শ্বেতাভ রূপসমূহ দর্শন করে। শুকতারা যেমন শ্বেত, শ্বেতরঙ্গা, শ্বেতচিহ্ন ও শ্বেতাভ; ঠিক তদ্রূপ সে নিজমধ্যে অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক শ্বেত, শ্বেতরঙ্গা, শ্বেত চিহ্ন ও শ্বেতাভ রূপসমূহ দর্শন করে। ‘তৎসমস্ত আয়ত্ত করে জ্ঞাত আছি এবং দর্শন করি’ এরূপ সংজ্ঞী হয় সে। ইহা হচ্ছে অষ্টম অভিভূ-আয়তন। ভিক্ষুগণ, এই আট প্রকার হচ্ছে অভিভূ-আয়তন। ভিক্ষুগণ, এই আট প্রকারের মধ্যে সে-ই উত্তম বা শ্রেষ্ঠ যে নিজমধ্যে অরূপসংজ্ঞী হয়ে বাহ্যিক শ্বেত, শ্বেতরঙ্গা, শ্বেত চিহ্ন ও শ্বেতাভ রূপসমূহ দর্শন করে। ‘তৎসমস্ত আয়ত্ত করে জ্ঞাত আছি এবং দর্শন করি’ এরূপ সংজ্ঞী হয় সে। ভিক্ষুগণ, এরূপ সংজ্ঞাসম্পন্ন সত্ত্বগণ বিদ্যমান। কিন্তু, ভিক্ষুগণ, এরূপ সংজ্ঞাসম্পন্ন সত্ত্বদেরও বিনাশ ও বিপরিণাম ঘটে। তা জ্ঞানযোগে দর্শন করে একজন শ্রুতবান আর্যশ্রাবক সেই বিষয়ের প্রতি বিরক্ত হয়। সেরূপ বিরক্তির দরুন তাদৃশ শ্রেষ্ঠ বিষয়ের প্রতি সে আগ্রহহারা হয়, হীন বিষয়ের কথাই বা কী!

ভিক্ষুগণ, প্রতিপদা (বা আচরণের পন্থা) চার প্রকার। সেই চার কী কী? যথা : দুঃখকর অথচ মন্থর গতিসম্পন্ন পন্থা বা প্রতিপদা, দুঃখকর অথচ ক্ষীপ্র গতিময় পন্থা, সুখকর অথচ মন্থর গতিসম্পন্ন পন্থা এবং সুখকর অথচ ক্ষীপ্র গতিশীল পন্থা। ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকার হচ্ছে প্রতিপদা বা পন্থা। এই চার প্রকার পন্থার মধ্যে সুখকর অথচ ক্ষীপ্র গতিশীল পন্থাই উৎকৃষ্ট। এরূপ পন্থা অনুশীলনকারী সত্ত্বও বিদ্যমান। কিন্তু, ভিক্ষুগণ, এরূপ পন্থায় প্রতিপন্ন সত্ত্বগণেরও বিনাশ ও বিপরিণাম ঘটে। তা জ্ঞানযোগে দর্শন করে একজন শ্রুতবান আর্যশ্রাবক সেই বিষয়ের প্রতি বিরক্ত হয়। সেরূপ বিরক্তির দরুন তাদৃশ শ্রেষ্ঠ বিষয়ের প্রতি সে আগ্রহহারা হয়, হীন বিষয়ের কথাই বা কী!

ভিক্ষুগণ, সংজ্ঞা চার প্রকার। সেই চার কী কী? যথা : কেউ কেউ ‘সীমাবদ্ধ’ (বা সামান্য) এরূপ জ্ঞান লাভ করে, আবার কেউ কেউ ‘বিস্তৃত’ (বা ব্যাপক) এরূপ জ্ঞান লাভ করে, কেউ কেউ ‘অপ্রমাণ’ (বা অপরিমিত) এরূপ জ্ঞান লাভ করে, আবার কেউ কেউ ‘শূন্যতা ব্যতীত কিছুই নাই’ এরূপ জ্ঞান লাভ করে। ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকার হচ্ছে সংজ্ঞা। এই চার প্রকার সংজ্ঞার মধ্যে যে ‘শূন্যতা ব্যতীত কিছুই নাই’ এরূপ জ্ঞান লাভ করে, সেই উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত হয়। ভিক্ষুগণ, এরূপ সংজ্ঞাসম্পন্ন সত্ত্বও জগতে বিদ্যমান। কিন্তু, এমন সংজ্ঞাসম্পন্ন সত্ত্বদেরও বিনাশ ও বিপরিণাম ঘটে। তা জ্ঞানযোগে দর্শন করে একজন শ্রুতবান আর্যশ্রাবক সেই বিষয়ের প্রতি বিরক্ত হয়। সেরূপ বিরক্তির দরুন তাদৃশ শ্রেষ্ঠ বিষয়ের প্রতি সে আগ্রহহারা হয়, হীন বিষয়ের কথাই বা কী!

ভিক্ষুগণ, এই ধর্মবিনয়ের বাইরে এমন মতবাদীদের মধ্যে এরূপ ধারণাই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হয়; যথা :

‘পূর্ব কর্ম না হলে মোর,
হতো না এই দেহ-ধর!
অনাগতে জন্ম না হলে আর

কিবা হবে ভবিষ্যতে আমার!!’

ভিক্ষুগণ, এরূপ ধারণা পোষণকারী জনের নিকট ইহাই প্রত্যাশিত যে ‘ভবের (উৎপত্তি বা সংসার) মধ্যে যে অপ্রতিকূলতা রয়েছে তার নিকট তা পুনঃ উৎপন্ন হবে না এবং ভব-নিরোধে যে প্রতিকুল্যতা রয়েছে তা-ও তার নিকট উৎপন্ন হবে না।’ ভিক্ষুগণ, এরূপ ধারণা পোষণকারী সত্ত্ব বিদ্যমান। কিন্তু, এরূপ সত্ত্বগণেরও বিনাশ ও অন্যথাভাব ঘটে। তা জ্ঞানযোগে দর্শন করে একজন শ্রুতবান আর্যশ্রাবক সেই বিষয়ের প্রতি বিরক্ত হয়। সেরূপ বিরক্তির দরুন তাদৃশ শ্রেষ্ঠ বিষয়ের প্রতি সে আগ্রহহারা হয়, হীন বিষয়ের কথাই বা কী!

ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ আছেন যারা পরমার্থ (শ্রেষ্ঠ বা যথার্থ) বিশুদ্ধি প্রচার করেন। এদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠরূপে বিবেচ্য যারা সর্বতোভাবে আকিঞ্চন-আয়তন (‘কিছুই নাই’-এরূপ) অতিক্রমপূর্বক নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তন অবস্থা লাভ করে অবস্থান করেন। তারা তা উপলব্ধি ও সাক্ষাৎ করার জন্য অপরকে ধর্মোপদেশ দেন। ভিক্ষুগণ, এরূপ মতবাদী সত্ত্বগণও বিদ্যমান। কিন্তু এমন মতাবলম্বীদেরও বিনাশ ও বিপরিণাম ঘটে। তা জ্ঞানযোগে দর্শন করে একজন শ্রুতবান আর্যশ্রাবক সেই বিষয়ের প্রতি বিরক্ত হয়। সেরূপ বিরক্তির দরুন তাদৃশ শ্রেষ্ঠ বিষয়ের প্রতি সে আগ্রহহারা হয়, হীন বিষয়ের কথাই বা কী!

ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ আছেন যারা ইহজীবনেই পরম নির্বাণপদ প্রচার করেন। এদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ যারা ছয় প্রকার স্পর্শ-আয়তনের সমুদয় বা উৎপত্তি, বিলয়, আস্বাদ, আদীনব (বা দোষ) এবং নিঃসরণ (মুক্তি) যথার্থভাবে জ্ঞাত হয়ে উপাদানহীন বিমোক্ষ প্রচার করেন। আর আমিই এরূপ মতবাদী ও এরূপ বর্ণনাকারী। অথচ কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণেরা আমাকে অসত্য, বাজে, মিথ্যে ও অভূত বিষয়ে দোষারোপ করেন যে ‘শ্রমণ গৌতম কামসমূহ সম্বন্ধে পরিজ্ঞান বা অন্তর্দৃষ্টি লাভের জন্য কিছুই প্রচার করেন না, রূপ ও বেদনা-বিষয়ক অন্তর্দৃষ্টি লাভের জন্য ও কিছুই প্রচার করেন না।’ ভিক্ষুগণ, আমি কামসমূহের পরিজ্ঞান প্রচার করি, রূপ ও বেদনা-বিষয়ক পরিজ্ঞানও প্রচার করি এবং ইহজীবনেই অনাসক্তি, নিবৃত্তি, প্রশান্তভাবপ্রাপ্ত, উপাদানহীন ‘পরিনির্বাণ’ সম্বন্ধে প্রচার করি।” নবম সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]