লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

চেতনা করণীয় সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, শীলবান, শীলসম্পন্ন ভিক্ষুর এরূপ চিন্তা করা অনুচিত; যথা : ‘আমার মধ্যে অনুতাপহীনতা উৎপন্ন হোক।’ ভিক্ষুগণ, তার কারণ শীলবান, শীলসম্পন্ন ভিক্ষুর অনুতাপ উৎপন্ন না হওয়াই স্বাভাবিক।

ভিক্ষুগণ, অনুতাপহীন ভিক্ষুর এমন চৈতন্য অনুচিত; যথা : ‘আমার মধ্যে পরমানন্দভাব উৎপন্ন হোক।’ কেননা ভিক্ষুগণ, অনুতাপহীন ভিক্ষুর নিকট পরমানন্দভাব উৎপন্ন হওয়াই ধর্মতাসিদ্ধ।

ভিক্ষুগণ, প্রমোদিত (পরমানন্দিত) ভিক্ষুর এরূপ চিন্তা করা অনুচিত; যথা : ‘আমার নিকট প্রীতি উৎপন্ন হোক।’ কেননা ভিক্ষুগণ, প্রমোদিত ভিক্ষুর নিকট প্রীতি উৎপন্ন হওয়াই স্বাভাবিক।

ভিক্ষুগণ, প্রীত ভিক্ষুর এরূপ চিন্তা করা অনুচিত; যথা : ‘আমার কায় প্রশান্ত হোক।’ কেননা ভিক্ষুগণ, প্রীত ভিক্ষুর কায় প্রশান্ত হওয়াই স্বাভাবিক।

ভিক্ষুগণ, প্রশান্ত কায়া ভিক্ষুর এরূপ চিন্তা করা অনুচিত; যথা : ‘আমার নিকট সুখ অনুভূত হোক।’ কেননা ভিক্ষুগণ, প্রশান্ত কায়া ভিক্ষুর সুখোপলদ্ধি হওয়াই স্বাভাবিক।

ভিক্ষুগণ, সুখী ভিক্ষুর এরূপ চিন্তা করা অনুচিত; যথা : ‘আমার চিত্ত সমাধিস্থ হোক।’ কেননা ভিক্ষুগণ, সুখী ভিক্ষুর চিত্ত সমাধিস্থ বা একাগ্র হওয়াই ধর্মতাসিদ্ধ।

ভিক্ষুগণ, সমাধিস্থ ভিক্ষুর এরূপ চিন্তা করা অনুচিত; যথা : ‘আমি যাতে যথাভূত বিষয় জানতে ও দেখতে পারি।’ তার কারণ ভিক্ষুগণ, সমাধিস্থ ভিক্ষু যথাভূত বিষয় জানে ও দেখে, ইহাই স্বাভাবিক।

ভিক্ষুগণ, যথাভূত বিষয় জ্ঞাত ও দর্শনকারী ভিক্ষুর এরূপ চিন্তা করা অনুচিত; যথা : ‘আমার নিকট নির্বেদ ও বিরাগভাব উৎপন্ন হোক।’ কেননা ভিক্ষুগণ, যথাভূত বিষয় জ্ঞাত ও দর্শনকারী ভিক্ষুর নিকট নির্বেদ ও বিরাগভাব উৎপন্ন হওয়াই ধর্মতাসিদ্ধ।

ভিক্ষুগণ, নির্বেদলাভী ও বিরাগী ভিক্ষুর এরূপ চিন্তা করা অনুচিত; যথা : ‘আমার নিকট বিমুক্তি জ্ঞান উৎপন্ন হোক।’ কেননা ভিক্ষুগণ, নির্বেদলাভী ও বিরাগী ভিক্ষুর নিকট বিমুক্তি জ্ঞানোদয় হওয়াই স্বাভাবিক।

ভিক্ষুগণ, নির্বেদ ও বিরাগের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিমুক্তিজ্ঞানদর্শন এবং বিমুক্তিজ্ঞানদর্শনই নির্বেদ ও বিরাগভাব অর্জনের সুফল বা আনিশংস। নির্বেদ ও বিরাগভাব প্রাপ্ত হওয়া হচ্ছে যথাভূত জ্ঞানদর্শনের উদ্দেশ্য এবং যথাভূত জ্ঞানদর্শনের সুফলও হচ্ছে নির্বেদ ও বিরাগ। সমাধি অর্জনের উদ্দেশ্য হচ্ছে যথাভূত জ্ঞানদর্শন এবং তার সুফলও তাই। সুখের উদ্দেশ্য ও আনিশংস হচ্ছে সমাধিস্থ হওয়া; প্রশান্তির উদ্দেশ্য ও আনিশংস হচ্ছে সুখ। প্রীতি লাভের উদ্দেশ্য এবং তার সুফলও হচ্ছে প্রশান্তি। পরমানন্দিত হওয়ার উদ্দেশ্য এবং তার সুফল হচ্ছে প্রীতি। অনুতাপহীন হওয়ার উদ্দেশ্য এবং আনিশংস হচ্ছে পরমানন্দ লাভ করা। কুশলশীলাদি পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে অনুতাপহীন হওয়া এবং অনুতাপহীন হওয়াই হলো কুশলশীলাদি পালনের সুফল। ভিক্ষুগণ, এরূপে একটি বিষয়ের ধারা অপর বিষয়ে প্রবহমান, একটি বিষয় অপর বিষয়কে পরিপূর্ণ করে এবং নির্বাণপারে নিয়ে যায়।” দ্বিতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]