লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

কুশীনারা সূত্র

একসময় ভগবান কুশীনারার বলিহরণের বনসন্ডে অবস্থান করছিলেন। অনন্তর ভগবান সমবেত ভিক্ষুদের আহ্বান করে বললেন, “হে ভিক্ষুগণ,” ভিক্ষুরা “হ্যাঁ ভন্তে” বলে প্রত্যুত্তর দিলেন। অতঃপর ভগবান এরূপ বললেন :

“হে ভিক্ষুগণ, দোষ আরোপকারী ভিক্ষুকে অন্যের উপর দোষারোপ করার সময় পাঁচটি বিষয় নিজমধ্যে সূক্ষ্মরূপে বিচার করে এবং সেই পাঁচটি গুণধর্ম নিজমধ্যে আনয়ন করে অন্যের উপর দোষারোপ করতে হয়। এই পাঁচটি বিষয় কী কী যা নিজমধ্যে সূক্ষ্মরূপে বিচার ও প্রতিস্থাপন করতে হয়? যথা : দোষ আরোপকারী ভিক্ষুর অন্যের উপর দোষারোপ করার সময় এরূপ চিন্তা করতে হয় যে ‘আমার কায়িক আচার পরিশুদ্ধ আছে কি? ছিদ্রাদি মলরহিত, নির্দোষ, পরিশুদ্ধ, কায়িক আচারে কি আমি সমন্নাগত? আমার নিকট এই ধর্ম আছে না নাই?’ ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুর কায়িক আচার পরিশুদ্ধ না থাকে, ছিদ্রাদি মলরহিত, নির্দোষ, পরিশুদ্ধ, কায়িক আচারে সে সমন্নাগত না হয় তাহলে তাকে লোকে বলবে, ‘আয়ুষ্মান, প্রথমে স্বয়ং কায়িক আচার অভ্যাস করুন।’

পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, দোষারোপকারী ভিক্ষুর অন্যের উপর দোষারোপ করার সময় এরূপ চিন্তা করতে হয় যে ‘আমার বাচনিক আচার পরিশুদ্ধ আছে কি? ছিদ্রাদি মলরহিত, নির্দোষ, পরিশুদ্ধ, বাচনিক আচারে কি আমি সমন্নাগত? আমার নিকট এই ধর্ম আছে না নাই?’ ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুর বাচনিক আচার পরিশুদ্ধ না থাকে, ছিদ্রাদি মল রহিত নির্দোষ পরিশুদ্ধ বাচনিক আচারে সে সমন্নাগত না হলে তাকে লোকে বলবে, ‘আয়ুষ্মান, প্রথমে স্বয়ং বাচনিক আচার অভ্যাস করুন।’

পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, দোষারোপকারী ভিক্ষুর অন্যের উপর দোষারোপ করার সময় এরূপ চিন্তা করতে হয় যে ‘সব্রহ্মচারীদের প্রতিক্রোধহীন মৈত্রীপূর্ণ চিত্ত আমার সর্বদা থাকে কি? আমার নিকট এ ধর্ম বিদ্যমান আছে কি না নাই?’ ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুর চিত্ত সর্বদা সব্রহ্মচারীদের প্রতি ক্রোধহীন মৈত্রীপূর্ণ চিত্ত না থাকে তাহলে তাকে লোকে বলবে, ‘আয়ুষ্মান, প্রথমে স্বয়ং মৈত্রীচিত্ত জাগ্রত করুন।’

পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, দোষারোপকারী ভিক্ষুর অন্যের উপর দোষারোপ করার সময় এরূপ চিন্তা করতে হয় যে ‘আমি কি বহুশ্রুত, শ্রুতধর ও শ্রুতসঞ্চয়ী? যেই সব ধর্ম আদিতে কল্যাণ, মধ্যে কল্যাণ, পর্যবসানে কল্যাণময়; যা অর্থ ও ব্যঞ্জনসহ সম্যকরূপে পরিপূর্ণ, পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্য প্রকাশ করে সেরূপ ধর্মে আমি বহুশ্রুত কি? বাক্য দ্বারা বুঝতে পেরেছি কি? দৃষ্টি দ্বারা সম্যকরূপে বুঝেছি কি?’ ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষু বহুশ্রুত, শ্রুতধর ও শ্রুতসঞ্চয়ী না হয়, যে সব ধর্ম আদিতে, মধ্যে ও পর্যবসানে কল্যাণময় এবং যা অর্থ ও ব্যঞ্জনসহ সম্যকরূপে পরিপূর্ণ, পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্য প্রকাশ করে সেরূপ ধর্মে বহুশ্রুত না হয়; তা ধারণ না করে এবং বাক্য ও দৃষ্টি দ্বারা সম্যকরূপে বুঝতে না পারে তাহলে তাকে লোকে বলবে, ‘আয়ুষ্মান, প্রথমে স্বয়ং শাস্ত্র পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে শিক্ষা করুন।’

পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, দোষারোপকারী ভিক্ষুর অন্যের উপর দোষারোপ করার সময় এরূপ চিন্তা করতে হয় যে ‘সুবিভক্ত, সুবিন্যস্ত, অনুব্যঞ্জনসহ সূত্রে নিশ্চিতকৃত উভয় প্রাতিমোক্ষ (ভিক্ষু-ভিক্ষুণী-প্রাতিমোক্ষ) আমার নিকট কি বিস্তৃতভাবে হৃদয়ঙ্গম হয়েছে? আমার নিকট এই ধর্ম আছে কি নাই?’ যদি ভিক্ষুগণ, সুবিভক্ত, সুবিন্যস্ত, অনুব্যঞ্জনসহ সূত্রে নিশ্চিতকৃত উভয় প্রাতিমোক্ষ (ভিক্ষু-ভিক্ষুণী-প্রাতিমোক্ষ) ভিক্ষুর নিকট বিস্তৃতভাবে জানা না থাকে, তাহলে ‘আয়ুষ্মান, ভগবান বুদ্ধ এ বিষয় কোথায় বলেছেন?’ এরূপে জিজ্ঞাসিত হয়ে প্রত্যুত্তর দিতে পারবে না। সেজন্য অন্যরা তখন তাকে বলবে, ‘আয়ুষ্মান, প্রথমে স্বয়ং বিনয় শিক্ষা করুন।’ ভিক্ষুগণ, দোষ আরোপকারী ভিক্ষুকে অন্যের উপর দোষারোপ করার সময় এই পাঁচটি গুণধর্ম নিজমধ্যে সূক্ষ্মরূপে বিচার করে তার পরই অন্যের উপর দোষারোপ করতে হয়।

ভিক্ষুগণ, অপরকে দোষারোপ করার পূর্বে কোন পাঁচটি গুণধর্ম নিজমধ্যে উপস্থাপিত করতে হয়? যথা : (ক) সময়ে বলব, অসময়ে নয়; (খ) যথার্থ বলব, অযথার্থ নয়; (গ) মৃদুতার সাথে বলব, কর্কশভাবে নয়; (ঘ) হিত-মঙ্গলার্থে বলব, অহিতের জন্য নয়; এবং (ঙ) মৈত্রীপূর্ণ হৃদয়ে বলব, দ্বেষবশে নয়। ভিক্ষুগণ, অপরকে দোষারোপ করার পূর্বে এই পাঁচটি গুণধর্ম নিজমধ্যে উপস্থাপিত করতে হয়।” চতুর্থ সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]