লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৪]

মহালি সূত্র

একসময় ভগবান বৈশালীর নিকটস্থ মহাবনে নির্মিত কূটাগারশালায় অবস্থান করছিলেন। অনন্তর লিচ্ছবী মহালি ভগবানের নিকট উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একপাশে বসলেন। একপাশে বসার পর লিচ্ছবী মহালি ভগবানকে এরূপ বললেন :

“ভন্তে, কী হেতু, কী প্রত্যয়ে পাপকর্ম অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রবর্তিত হয়?”

“হে মহালি, লোভের হেতুতে ও লোভের প্রত্যয়েই পাপকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়ে থাকে; দ্বেষের হেতুতে ও দ্বেষের প্রত্যয়েই পাপকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়ে থাকে; মোহের হেতুতে ও মোহের প্রত্যয়েই পাপকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়ে থাকে; জ্ঞানপূর্বক বিচার না করার হেতুতে ও জ্ঞানপূর্বক বিচার না করার প্রত্যয়েই পাপকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়ে থাকে; মিথ্যায় অভিনিবিষ্ট চিত্তের হেতুতে ও মিথ্যায় অভিনিবিষ্ট চিত্তের প্রত্যয়েই পাপকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়ে থাকে।”

“পুনঃ ভন্তে, কী হেতু, কী প্রত্যয়ে কল্যাণ বা পুণ্যকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়?”

“মহালি, অলোভ হেতুতে ও অলোভের প্রত্যয়েই পুণ্যকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়ে থাকে; অদ্বেষের হেতুতে ও অদ্বেষের প্রত্যয়েই পুণ্যকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়ে থাকে; অমোহের হেতুতে ও অমোহের প্রত্যয়েই পুণ্যকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়ে থাকে; জ্ঞানপূর্বক বিচার করার হেতুতে ও জ্ঞানপূর্বক বিচার করার প্রত্যয়েই পুণ্যকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়ে থাকে; সত্যে অভিনিবিষ্ট চিত্তের হেতুতে ও সত্যে অভিনিবিষ্ট চিত্তের প্রত্যয়েই পুণ্যকর্ম অনুষ্ঠিত এবং প্রবর্তিত হয়ে থাকে। মহালি, যদি এই দশটি ধর্ম জগতে বিদ্যমান না থাকতো তবে অধর্মচর্যা-কুটিলতা এবং ধর্মচর্যা-সারল্যতা দৃষ্টিগোচর হতো না। মহালি, যেহেতু এই দশটি বিষয় জগতে বিদ্যমান সেহেতু জগতে অধর্মচর্যা-কুটিলতা এবং ধর্মচর্যা-সারল্যতা দৃষ্টিগোচর হয়।” সপ্তম সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]