লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

শমথ সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, একজন ভিক্ষু অপরের চিত্ত সম্পর্কে দক্ষ হয় না। সে সংকল্পবদ্ধ হয় যে ‘আমি নিজ চিত্তের গতিপথ সম্পর্কেই দক্ষ হবো।’ এরূপই ভিক্ষুগণ, তোমাদের শিক্ষা করা উচিত।

কিরূপে ভিক্ষুগণ, একজন ভিক্ষু নিজ চিত্তের গতিপথ সম্পর্কে দক্ষ হয়? যেমন, স্ত্রী-পুরুষ, বালক বা যুবক কিংবা সাজসজ্জাপ্রিয় কেউ আয়না কিংবা পরিশুদ্ধ, পরিষ্কৃত, নির্মল জলপাত্রে নিজ মুখাবয়ব দেখার সময় যদি কোনো দাগ বা ময়লা দেখে তাহলে সেই দাগ বা ময়লা বিদূরণের জন্য সাগ্রহে চেষ্টা করে। আর যদি নিজ মুখমণ্ডলে কোনো দাগ বা ময়লা না দেখে তখন সে আনন্দিত হয় এবং ইচ্ছাপূরণহেতু ভাবে যে ‘সত্যিই আমার লাভ হয়েছে, সত্যিই আমি দাগহীন পরিষ্কার আছি।’

এরূপেই ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুর কুশলধর্মসমূহের প্রত্যবেক্ষণ বহু প্রকারের হয়, যেমন, ‘আমি কি নিজ চিত্তের সমাধি (আধ্যাত্মিক শমথভাব) লাভ করেছি নাকি করি নাই? আমি কি অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন লাভ করেছি নাকি করি নাই?’

ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি প্রত্যবেক্ষণকালে এরূপ জ্ঞাত হয় যে ‘আমি চিত্তের আধ্যাত্মিক সমাধি লাভ করেছি কিন্তু অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন লাভ করি নাই।’ তাহলে ভিক্ষুগণ, তখন তাকে চিত্তের আধ্যাত্মিক সমাধিতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন লাভের জন্য প্রচেষ্টা করতে হবে। এরূপে সে পরবর্তী সময়ে চিত্তের সমাধি এবং অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন লাভ করতে পারে।

ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি প্রত্যবেক্ষণকালে এরূপ জ্ঞাত হয় যে ‘আমি অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন লাভ করেছি কিন্তু চিত্তের আধ্যাত্মিক সমাধি লাভ করি নাই।’ তাহলে ভিক্ষুগণ, তখন তাকে লব্ধ অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে চিত্তের আধ্যাত্মিক সমাধি লাভের জন্য প্রচেষ্টা করতে হবে। এরূপে সে পরবর্তী সময়ে অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন এবং চিত্তের সমাধি লাভ করতে পারে।

যদি ভিক্ষুগণ, ভিক্ষুটি প্রত্যবেক্ষণকালে এরূপ জ্ঞাত হয় যে ‘আমি চিত্তের আধ্যাত্মিক সমাধি ও অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন লাভ করি নাই।’ তাহলে ভিক্ষুগণ, তখন তাকে কুশলধর্মসমূহ লাভের জন্য অধিকমাত্রায় আগ্রহী, প্রচেষ্টাশীল, উৎসাহী, উদ্যমী, উদ্দীপিত, স্মৃতিমান ও সম্প্রজ্ঞানী হতে হবে। এরূপে সে পরবর্তী সময়ে চিত্তের সমাধি এবং অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন লাভ করতে পারে।

ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি প্রত্যবেক্ষণকালে এরূপ জ্ঞাত হয় যে ‘আমি চিত্তের আধ্যাত্মিক সমাধি এবং অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন লাভ করেছি।’ তাহলে ভিক্ষুগণ, তখন তাকে কুশলধর্মসমূহে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসবসমূহ ক্ষয়ের জন্য উত্তরোত্তর প্রচেষ্টা করতে হবে।

ভিক্ষুগণ, চীবরকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : পরিধানযোগ্য ও পরিধানের অযোগ্য। পিণ্ডপাতকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : আহারযোগ্য ও আহারের অযোগ্য। শয্যাসনকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : ব্যবহারযোগ্য ও ব্যবহারের অযোগ্য। গ্রামকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : সেবনীয় ও অসেবনীয়। জনপদকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : সেবনীয় ও অসেবনীয়। ব্যক্তিকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : সংসর্গের যোগ্য ও অসংসর্গনীয়।

ভিক্ষুগণ, চীবরকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : পরিধানযোগ্য ও পরিধানের অযোগ্য। ইহা বলা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে বলা হয়েছে? কারণ, যে চীবর পরিধানে অকুশল বৃদ্ধি পায় ও কুশলধর্মসমূহের পরিহানি হয় সেরূপ চীবর পরিধানের অযোগ্য। আবার যেরূপ চীবর পরিধানে অকুশলধর্ম হ্রাস পায় ও কুশলধর্মের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হয় সেরূপ চীবরই পরিধানযোগ্য। এ কারণেই বলা হয়েছে : ‘চীবরকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : পরিধানযোগ্য ও পরিধানের অযোগ্য।’

ভিক্ষুগণ, পিণ্ডপাতকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : আহারযোগ্য ও আহারের অযোগ্য। ইহা বলা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে বলা হয়েছে? কারণ, যেরূপ আহার পরিভোগে অকুশল বৃদ্ধি পায় ও কুশলধর্মসমূহের পরিহানি হয় সেরূপ আহার পরিভোগের অযোগ্য। আবার যেরূপ আহার গ্রহণে অকুশলধর্মের হ্রাস হয় ও কুশলধর্মের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হয় সেরূপ আহারই পরিভোগযোগ্য। এ কারণেই বলা হয়েছে : ‘পিণ্ডপাতকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : আহারযোগ্য ও আহারের অযোগ্য।’

ভিক্ষুগণ, শয্যাসনকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : ব্যবহারযোগ্য ও ব্যবহারের অযোগ্য। ইহা বলা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে বলা হয়েছে? কারণ, যেরূপ শয্যাসন ব্যবহারে অকুশল বৃদ্ধি পায় ও কুশলধর্মসমূহের পরিহানি হয় সেরূপ শয্যাসন ব্যবহারের অযোগ্য। আবার যেরূপ শয্যাসন ব্যবহারে অকুশলধর্মের হ্রাস হয় ও কুশলধর্মের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হয় সেরূপ শয্যাসনই ব্যবহারের যোগ্য। এ কারণেই বলা হয়েছে : ‘শয্যাসনকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : ব্যবহারযোগ্য ও ব্যবহারের অযোগ্য।’

ভিক্ষুগণ, গ্রামকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : সেবনীয় ও অসেবনীয়। ইহা বলা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে বলা হয়েছে? কারণ, যেরূপ গ্রামকে নিশ্রয় করে অবস্থানের দরুন অকুশল বৃদ্ধি পায় ও কুশলধর্মসমূহের পরিহানি হয় সেরূপ গ্রামকে নিশ্রয় করে অবস্থান করা অনুচিত। আবার যেরূপ গ্রামকে নিশ্রয় করে অবস্থানের দরুন অকুশলধর্মের হ্রাস হয় ও কুশলধর্মের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হয় সেরূপ গ্রামকে নিশ্রয় করে অবস্থান করা উচিত। এ কারণেই বলা হয়েছে : ‘গ্রামকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : সেবনীয় ও অসেবনীয়।’

ভিক্ষুগণ, জনপদকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : সেবনীয় ও অসেবনীয়। ইহা বলা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে বলা হয়েছে? কারণ, যেরূপ জনপদকে নিশ্রয় করে অবস্থানের দরুন অকুশল বৃদ্ধি পায় ও কুশলধর্মসমূহের পরিহানি হয় সেরূপ জনপদকে নিশ্রয় করে অবস্থান করা অনুচিত। আবার যেরূপ জনপদকে নিশ্রয় করে অবস্থানের দরুন অকুশলধর্মের হ্রাস হয় ও কুশলধর্মের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হয় সেরূপ জনপদকে নিশ্রয় করে অবস্থান করা উচিত। এ কারণেই বলা হয়েছে : ‘জনপদকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : সেবনীয় ও অসেবনীয়।’

ভিক্ষুগণ, ব্যক্তিকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : সংসর্গযোগ্য ও অসংসর্গনীয়। ইহা বলা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে বলা হয়েছে? কারণ, যেরূপ ব্যক্তির সংসর্গে অকুশল বৃদ্ধি পায় ও কুশলধর্মসমূহের পরিহানি হয় সেরূপ ব্যক্তির সাথে মেশা অনুচিত। আবার যেরূপ ব্যক্তির সংসর্গে অবস্থানের দরুন অকুশলধর্মের হ্রাস হয় ও কুশলধর্মের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হয় সেরূপ ব্যক্তির সংসর্গে থাকা উচিত। এ কারণেই বলা হয়েছে : ‘ব্যক্তিকে আমি দু-প্রকার বলছি; যথা : সংসর্গযোগ্য ও অসংসর্গনীয়।” চতুর্থ সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]