অতঃপর আয়ুষ্মান আনন্দ ভিক্ষুদের আহ্বান করে বললেন, “হে আবুসোগণ, দুঃশীলের শীলভঙ্গহেতু মনস্তাপ উৎপন্ন হয়; মনস্তাপ উৎপন্নহেতু পরমানন্দ বা প্রমোদিত ভাব উৎপন্ন হয় না; পরমানন্দ অনুৎপন্নহেতু প্রীতি উৎপন্ন হয় না; প্রীতি অনুৎপন্নহেতু প্রশান্তি লাভ হয় না; প্রশান্তি অনুৎপন্নহেতু সুখ অনুভূত হয় না; সুখ অলব্ধহেতু সম্যক সমাধি লাভ হয় না; সমাধির অবিদ্যমানতায় যথাভূত জ্ঞানদর্শন হয় না; যথাভূত জ্ঞান অদর্শনহেতু নির্বেদ বা বিরাগভাব লাভ হয় না; নির্বেদ বা বিরাগের অনুপস্থিতিতে বিমুক্তিজ্ঞানদর্শন হয় না।
যেমন, আবুসোগণ, নির্জীব বৃক্ষের শাখা, পত্রাদির অপরিপূর্ণতাহেতু সেই বৃক্ষের বহির্ভাগের বাকল পরিপূর্ণ হয় না; বাকলের অপরিপূর্ণতার দরুন বহির্ভাগের কাষ্ঠ পূর্ণতা লাভ করে না এবং বহির্ভাগের কাষ্ঠের অপূর্ণতার দরুন অভ্যন্তরীণ কাষ্ঠও (সারাংশ) পরিপূর্ণতা প্রাপ্ত হয় না। ঠিক সেরূপেই আবুসোগণ, দুঃশীলের শীলভঙ্গহেতু মনস্তাপ উৎপন্ন হয়; মনস্তাপ উৎপন্নহেতু পরমানন্দ বা প্রমোদিত ভাব উৎপন্ন হয় না; পরমানন্দ অনুৎপন্নহেতু প্রীতি উৎপন্ন হয় না; প্রীতি অনুৎপন্নহেতু প্রশান্তি লাভ হয় না; প্রশান্তি অনুৎপন্নহেতু সুখ অনুভূত হয় না; সুখ অলব্ধহেতু সম্যক সমাধি লাভ হয় না; সমাধির অবিদ্যমানতায় যথাভূত জ্ঞানদর্শন হয় না; যথাভূত জ্ঞান অদর্শনহেতু নির্বেদ বা বিরাগভাব লাভ হয় না; নির্বেদ বা বিরাগের অনুপস্থিতিতে বিমুক্তিজ্ঞানদর্শন হয় না।
পুনশ্চ, আবুসোগণ, শীলবান, সুশীল ভিক্ষুর নিকট অনুতাপহীনতা উৎপন্ন হয়; অনুতাপহীনতার দরুন মনে পরমানন্দভাব উৎপন্ন হয়; পরমানন্দভাব উৎপন্নহেতু প্রীতি উৎপন্ন হয়; প্রীতি উৎপন্নহেতু প্রশান্তি অর্জন হয়; প্রশান্তি অর্জনহেতু সুখ অনুভূত হয়; সুখ উপলব্ধির দরুন সম্যক সমাধি লাভ হয়; সম্যক সমাধির বিদ্যমানতায় যথাভূত জ্ঞানদর্শন হয়; যথাভূত জ্ঞানদর্শনহেতু নির্বেদ বা বিরাগাবস্থা লাভ হয়; নির্বেদ বা বিরাগের উপস্থিতিতে বিমুক্তিজ্ঞানদর্শন হয়।
ঠিক যেমন আবুসোগণ, সজীব বৃক্ষের শাখা-পত্রাদির পরিপূর্ণতাহেতু সেই বৃক্ষের বহির্ভাগের বাকল পরিপূর্ণ হয়; বাকলের পূর্ণতার দরুন বহির্ভাগের কাষ্ঠ পূর্ণতা লাভ করে এবং বহির্ভাগের কাষ্ঠের পূর্ণতার দরুন অভ্যন্তরীণ কাষ্ঠও (সারাংশ) পরিপূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। ঠিক সেরূপেই আবুসোগণ, শীলবান, সুশীল ভিক্ষুর নিকট অনুতাপহীনতা উৎপন্ন হয়; অনুতাপহীনতার দরুন মনে পরমানন্দভাব উৎপন্ন হয়; পরমানন্দভাব উৎপন্নহেতু প্রীতি উৎপন্ন হয়; প্রীতি উৎপন্নহেতু প্রশান্তি অর্জন হয়; প্রশান্তি অর্জনহেতু সুখ অনুভূত হয়; সুখ উপলব্ধির দরুন সম্যক সমাধি লাভ হয়; সম্যক সমাধির বিদ্যমানতায় যথাভূত জ্ঞানদর্শন হয়; যথাভূত জ্ঞানদর্শনহেতু নির্বেদ বা বিরাগাবস্থা লাভ হয়; নির্বেদ বা বিরাগের উপস্থিতিতে বিমুক্তিজ্ঞানদর্শন হয়।” পঞ্চম সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]