লোড হচ্ছে

The Numbered Discourses

AN10.70 দ্বিতীয় আলোচনার বিষয় সূত্র

অনুবাদসমূহ [১৫]

দ্বিতীয় আলোচনার বিষয় সূত্র

একসময় ভগবান শ্রাবস্তীর অনাথপিণ্ডিক নির্মিত জেতবন আরামে অবস্থান করছিলেন। সেইসময় বহু ভিক্ষু আহারকৃত্য সমাপনে উপস্থান শালায় একত্রিত হয়ে বিবিধ প্রকার বাজে আলাপচারিতায় সময় কাটাচ্ছিলেন। যেমন, রাজা সম্বন্ধীয় আলোচনা, চোর, মহামাত্য, সৈন্য সম্বন্ধে আলাপ, ভয়-সংক্রান্ত কথাবার্তা, যুদ্ধ-বিষয়ক, অন্ন-পানীয় সম্বন্ধে আলাপ, বস্ত্র, শয্যাসন-বিষয়ক কথা, পুষ্পমাল্য, গন্ধ-সংক্রান্ত আলাপ, জ্ঞাতি বিষয়ে আলোচনা, যান-বাহন, গ্রাম-নিগম, নগর-জনপদ সম্বন্ধে আলাপ, স্ত্রীলোক সম্বন্ধে আলাপ, শৌর্য-বীর্যের কথা, শান বাধানো রাস্তা, স্বর্গ, পূর্বপ্রেত সম্বন্ধীয় আলাপ, জগৎ-সমুদ্র এবং ভব-বিভব সম্বন্ধীয় আলাপে রত হয়ে অবস্থান করছিল।

অনন্তর ভগবান সন্ধ্যাবেলায় নির্জনতারূপ ধ্যান হতে এসে উপস্থান শালায় উপস্থিত হলেন এবং পূর্বপ্রস্তুত আসনে বসলেন। আসনে বসে ভগবান সমবেত ভিক্ষুদের উদ্দেশ্য করে বললেন :

“হে ভিক্ষুগণ, তোমরা একত্রিত হয়ে এতক্ষণ কী বিষয়ে আলাপ করছিলে? আমি আসা মাত্র যা অসম্পূর্ণ রয়ে গেলো?”

“ভন্তে, আজ আমরা আহার শেষে এই উপস্থানশালায় একত্রিত হয়ে রাজা সম্বন্ধীয় আলোচনা, চোর, মহামাত্য, সৈন্য সম্বন্ধে আলাপ, ভয়-সংক্রান্ত কথাবার্তা, যুদ্ধ-বিষয়ক, অন্ন-পানীয় সম্বন্ধে আলাপ, বস্ত্র, শয্যাসন-বিষয়ক কথা, পুষ্পমাল্য, গন্ধ-সংক্রান্ত আলাপ, জ্ঞাতি বিষয়ে আলোচনা, যান-বাহন, গ্রাম-নিগম, নগর-জনপদ সম্বন্ধে আলাপ, স্ত্রীলোক সম্বন্ধে আলাপ, শৌর্য-বীর্যের কথা, শান বাধানো রাস্তা, স্বর্গ, পূর্বপ্রেত সম্বন্ধীয় আলাপ, জগৎ-সমুদ্র এবং ভব-বিভব সম্বন্ধীয় আলাপে রত হয়ে অবস্থান করছিলাম।”

“ভিক্ষুগণ, তোমরা যে রাজা সম্বন্ধীয় আলোচনা, চোর, মহামাত্য, সৈন্য সম্বন্ধে আলাপ, ভয়-সংক্রান্ত কথাবার্তা, যুদ্ধ-বিষয়ক, অন্ন-পানীয় সম্বন্ধে আলাপ, বস্ত্র, শয্যাসন-বিষয়ক কথা, পুষ্পমাল্য, গন্ধ-সংক্রান্ত আলাপ, জ্ঞাতি বিষয়ে আলোচনা, যান-বাহন, গ্রাম-নিগম, নগর-জনপদ সম্বন্ধে আলাপ, স্ত্রীলোক সম্বন্ধে আলাপ, শৌর্য-বীর্যের কথা, শান বাধানো রাস্তা, স্বর্গ, পূর্বপ্রেত সম্বন্ধীয় আলাপ, জগৎ-সমুদ্র এবং ভব-বিভব সম্বন্ধীয় আলাপে রত হয়ে অবস্থান করছ, তা তোমাদের ন্যায় শ্রদ্ধায় গৃহ হতে অনাগারিক প্রব্রজ্যায় আগত কুলপুত্রদের পক্ষে সমীচীন নয়।

ভিক্ষুগণ, দশ প্রকার প্রশংসনীয় বিষয় রয়েছে। সেই দশ প্রকার কী কী? যথা :

এক্ষেত্রে ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু স্বয়ং অল্পেচ্ছু হয় এবং ভিক্ষুদের নিকট অল্পেচ্ছা বিষয়ে আলোচনা করে। ‘এই ভিক্ষু অল্পেচ্ছু এবং ভিক্ষুদের নিকট অল্পেচ্ছা বিষয়ে আলোচনা করেন’, এই উভয় গুণাবলিই প্রশংসনীয়।

ভিক্ষুটি নিজে যথালাভে সন্তুষ্ট থাকে এবং যথালাভে সন্তুষ্ট থাকার কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করে। ‘ইনি যথালাভে সন্তুষ্ট এবং যথালাভে সন্তুষ্ট থাকার কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করেন’ এই উভয় গুণাবলিই প্রশংসনীয়।

ভিক্ষুটি স্বয়ং প্রবিবেক বা নির্জনপ্রিয় হয় এবং নির্জনপ্রিয়তার কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করে। ‘এই ভিক্ষু নির্জনপ্রিয় এবং নির্জনপ্রিয়তার কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করেন’, এই উভয় গুণাবলিই প্রশংসনীয়।

ভিক্ষুটি নিজে (কোলাহলে) অসংশিৱষ্ঠ এবং ভিক্ষুদের নিকট অসংশিৱষ্ঠতার কথা আলোচনা করে। ‘এই ভিক্ষু (কোলাহলে) অসংশ্লিষ্ট এবং ভিক্ষুদের নিকট অসংশ্লিষ্টতার কথা আলোচনা করেন’, এই উভয় গুণাবলিই প্রশংসনীয়।

ভিক্ষুটি স্বয়ং দৃঢ় পরাক্রমী হয় এবং দৃঢ় পরাক্রমতার কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করে। ‘এই ভিক্ষু দৃঢ় পরাক্রমী হয় এবং দৃঢ় পরাক্রমতার কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করেন’, এই উভয় গুণাবলিই প্রশংসনীয়।

ভিক্ষুটি নিজে শীলবান এবং শীল পালনের কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করে। ‘এই ভিক্ষু শীলবান এবং শীল পালনের কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করেন’ এই উভয় গুণাবলিই প্রশংসনীয়।

ভিক্ষুটি স্বয়ং সমাধিলাভী এবং সমাধি অর্জনের কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করে। ‘এই ভিক্ষু সমাধিলাভী এবং সমাধি অর্জনের কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করেন’ এই উভয় গুণাবলিই প্রশংসনীয়।

ভিক্ষুটি নিজে প্রজ্ঞাবান এবং প্রজ্ঞা অর্জনের কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করে। ‘এই ভিক্ষু প্রজ্ঞাবান এবং প্রজ্ঞা অর্জনের কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করেন’ এই উভয় গুণাবলিই প্রশংসনীয়।

ভিক্ষুটি স্বয়ং বিমুক্তিসম্পন্ন এবং বিমুক্তি অর্জনের কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করে। ‘এই ভিক্ষু বিমুক্তিসম্পন্ন এবং বিমুক্তি অর্জনের কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করেন’ এই উভয় গুণাবলিই প্রশংসনীয়।

ভিক্ষুটি নিজে বিমুক্তিজ্ঞানদর্শন প্রতিমণ্ডিত এবং বিমুক্তিজ্ঞানদর্শনের কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করে। ‘এই ভিক্ষু প্রজ্ঞাবান এবং প্রজ্ঞা অর্জনের কথা ভিক্ষুদের নিকট আলোচনা করেন’ এই উভয় গুণাবলিই প্রশংসনীয়।

ভিক্ষুগণ, এই দশ প্রকার হচ্ছে প্রশংসনীয় বিষয়।” দশম সূত্র।

যমক বর্গ সমাপ্ত।

তস্সুদ্দানং/সূত্রসূচি

অবিদ্যা, ভবতৃষ্ণা, পূর্ণাঙ্গতা সূত্রত্রয়,
অটুট প্রসাদ ও দুই সুখ সূত্র উক্ত হয়;
দুই নলকপান সূত্রযোগে হলো অষ্টবিধ,
আলোচ্য বিষয় সূত্র দুয়ে যমক বর্গ গঠিত॥

ব্যাখ্যা [০]