একসময় ভগবান শ্রাবস্তীর অনাথপিণ্ডিক নির্মিত জেতবন আরামে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় ভগবান সমবেত ভিক্ষুদের ‘হে ভিক্ষুগণ,’ বলে আহ্বান করলেন। ‘হ্যাঁ ভন্তে’ বলে ভিক্ষুরা প্রত্যুত্তর দিলে ভগবান এরূপ বলতে লাগলেন :
“হে ভিক্ষুগণ, তোমরা শীলসম্পন্ন ও প্রাতিমোক্ষ অধিগত হয়ে অবস্থান কর। প্রাতিমোক্ষ অনুযায়ী সংযত ও আচার-গোচরশীল হয়ে অবস্থান কর। অণুমাত্র বর্জনীয় পাপে ভয় দর্শনপূর্বক শিক্ষাপদসমূহ হৃদয়ঙ্গম করে শিক্ষা কর।
ভিক্ষুগণ, যদি কোনো ভিক্ষু এরূপ আকাঙ্ক্ষা করে যে ‘অহো, আমি যদি আমার সব্রহ্মচারীদের নিকট প্রিয়, মনঃপুত ও সম্মানিত হতাম এবং তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারতাম।’ তবে সেই ভিক্ষুটিকে অবশ্যই শীলসমূহ পরিপূর্ণকারী হতে হবে। তাকে নিজ চিত্তের একাগ্রতা লাভে সচেষ্ট, অনবরত ধ্যানানুশীলন, বিদর্শনে প্রতিমণ্ডিত এবং নির্জন স্থানে অভ্যস্ত হতে হবে।
ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি এরূপ আকাঙ্ক্ষা করে যে ‘অহো, আমি যদি চীবর, শয্যাসন, গ্লান-প্রত্যয় ও ভৈষজ্যসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি লাভ করতে পারতাম।’ তবে সেই ভিক্ষুটিকে অবশ্যই শীলসমূহ পরিপূর্ণকারী হতে হবে। তাকে নিজ চিত্তের একাগ্রতা লাভে সচেষ্ট, অনবরত ধ্যানানুশীলন, বিদর্শনে প্রতিমণ্ডিত এবং নির্জন স্থানে অভ্যস্ত হতে হবে।
ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি এরূপ আকাঙ্ক্ষা করে যে ‘অহো, আমার যেই রক্তসম্বন্ধীয় কালগত জ্ঞাতিপ্রেতরা প্রসন্নচিত্ত বা কুশলচিত্ত অনুস্মরণ করে, তা তাদের মহাফলদায়ক ও মহানিশংসকর হোক।’ তবে সেই ভিক্ষুটিকে অবশ্যই শীলসমূহ পরিপূর্ণকারী হতে হবে। তাকে নিজ চিত্তের একাগ্রতা লাভে সচেষ্ট, অনবরত ধ্যানানুশীলন, বিদর্শনে প্রতিমণ্ডিত এবং নির্জন স্থানে অভ্যস্ত হতে হবে।
ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি এরূপ আকাঙ্ক্ষা করে যে ‘অহো, আমি যাতে যথালব্ধ চীবর, শয্যাসন, গ্লান-প্রত্যয় ও ভৈষজ্যসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিতে সন্তুষ্ট থাকতে পারি!’ তবে সেই ভিক্ষুটিকে অবশ্যই শীলসমূহ পরিপূর্ণকারী হতে হবে। তাকে নিজ চিত্তের একাগ্রতা লাভে সচেষ্ট, অনবরত ধ্যানানুশীলন, বিদর্শনে প্রতিমণ্ডিত এবং নির্জন স্থানে অভ্যস্ত হতে হবে।
ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি এরূপ আকাঙ্ক্ষা করে যে ‘অহো, আমি যাতে শীত-গ্রীষ্ম, ক্ষুধা-পিপাসা, ডাঁশ-মশাদিসহ সরীসৃপের সংস্পর্শে সহনশীল থাকতে পারি। আমি যাতে নিন্দা, মনোকষ্টদায়ক দুর্বাক্য এবং তীব্র, কষ্টকর, কটু, অপ্রিয়, অমনঃপুত, প্রাণহরণকর উৎপন্ন শারীরিক দুঃখদায়ক বেদনাসহিষ্ণু হই!’ তবে সেই ভিক্ষুটিকে অবশ্যই শীলসমূহ পরিপূর্ণকারী হতে হবে। তাকে নিজ চিত্তের একাগ্রতা লাভে সচেষ্ট, অনবরত ধ্যানানুশীলন, বিদর্শনে প্রতিমণ্ডিত এবং নির্জন স্থানে অভ্যস্ত হতে হবে।
ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি এরূপ আকাঙ্ক্ষা করে যে ‘অহো, আমি যেন রতি-অরতিকে অতিক্রম করতে পারি। রতি-অরতি যেন আমাকে পরাভূত করতে না পারে এবং উৎপন্ন রতি-অরতিভাবকে যেন আমি পরাভূত করে অবস্থান করতে পারি।’ তবে সেই ভিক্ষুটিকে অবশ্যই শীলসমূহ পরিপূর্ণকারী হতে হবে। তাকে নিজ চিত্তের একাগ্রতা লাভে সচেষ্ট, অনবরত ধ্যানানুশীলন, বিদর্শনে প্রতিমণ্ডিত এবং নির্জন স্থানে অভ্যস্ত হতে হবে।
ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি এরূপ আকাঙ্ক্ষা করে যে ‘অহো, আমি যেন ভয়-ভীতিকে অতিক্রম করতে পারি। ভয়-ভীতি যেন আমাকে পরাভূত করতে না পারে এবং উৎপন্ন ভয়-ভীতিকে যেন আমি পরাভূত করে অবস্থান করতে পারি।’ তবে সেই ভিক্ষুটিকে অবশ্যই শীলসমূহ পরিপূর্ণকারী হতে হবে। তাকে নিজ চিত্তের একাগ্রতা লাভে সচেষ্ট, অনবরত ধ্যানানুশীলন, বিদর্শনে প্রতিমণ্ডিত এবং নির্জন স্থানে অভ্যস্ত হতে হবে।
ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি এরূপ আকাঙ্ক্ষা করে যে ‘অহো, আমি যেন ইহজীবনেই সুখবিহারস্বরূপ আভিচৈতসিক চর্তুবিধ ধ্যানসমূহ সহজে, অনায়াসে এবং বিনা কষ্টে লাভ করতে পারি।’ তবে সেই ভিক্ষুটিকে অবশ্যই শীলসমূহ পরিপূর্ণকারী হতে হবে। তাকে নিজ চিত্তের একাগ্রতা লাভে সচেষ্ট, অনবরত ধ্যানানুশীলন, বিদর্শনে প্রতিমণ্ডিত এবং নির্জন স্থানে অভ্যস্ত হতে হবে।
ভিক্ষুগণ, যদি ভিক্ষুটি এরূপ আকাঙ্ক্ষা করে যে ‘অহো, আমি যেন আসবসমূহ ক্ষয়ে অনাসব হয়ে ইহজীবনেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি স্বয়ং অভিজ্ঞান বলে সাক্ষাৎ করে এবং তা অধিগত হয়ে অবস্থান করতে পারি।’ তবে সেই ভিক্ষুটিকে অবশ্যই শীলসমূহ পরিপূর্ণকারী হতে হবে। তাকে নিজ চিত্তের একাগ্রতা লাভে সচেষ্ট, অনবরত ধ্যানানুশীলন, বিদর্শনে প্রতিমণ্ডিত এবং নির্জন স্থানে অভ্যস্ত হতে হবে।
ভিক্ষুগণ, তোমরা শীলসম্পন্ন ও প্রাতিমোক্ষ অধিগত হয়ে অবস্থান কর। প্রাতিমোক্ষ অনুযায়ী সংযত ও আচার-গোচরশীল হয়ে অবস্থান কর। অণুমাত্র বর্জনীয় পাপে ভয় দর্শনপূর্বক শিক্ষাপদসমূহ হৃদয়ঙ্গম করে শিক্ষা কর। ইহা বলা হয়েছে, এই প্রত্যয়েই তা বলা হয়েছে।” প্রথম সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]