লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

কণ্টক বা কাঁটা সূত্র

একসময় ভগবান বৈশালীর মহাবনের কূটাগারশালায় বহু স্থবির শ্রাবক; যথা : আয়ুষ্মান চাল, আয়ুষ্মান উপচাল, আয়ুষ্মান কুক্কুট, আয়ুষ্মান কলিম্ভ, আয়ুষ্মান নিকট, আয়ুষ্মান কটিস্‌সহসহ আরও অন্যান্য নামকরা, সুপরিচিত শিষ্যদের সাথে অবস্থান করছিলেন। তখন একদিন অনেক নামজাদা, সুপরিচিত লিচ্ছবীগণ ভগবানের দর্শনেচ্ছায় যানারূঢ় হয়ে মহাবনের দিকে উচ্চশব্দ ও মহাশব্দ করতে করতে প্রবেশ করলেন। অতঃপর সেই আয়ুষ্মান ভিক্ষুদের এরূপ চিন্তার উদ্রেক হলো, ‘এই নামজাদা, সুপরিচিত লিচ্ছবীগণ ভগবানের দর্শনেচ্ছায় যানারূঢ় হয়ে মহাবনের দিকে উচ্চশব্দ ও মহাশব্দ করতে করতে প্রবেশ করছে। অধিকন্তু ভগবান কর্তৃক বলা হয়েছে যে ধ্যানের কণ্টকস্বরূপ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে শব্দ। সেহেতু আমরা মনোরম গোশৃঙ্গশালবনে গিয়ে অল্পশব্দে ও অল্পাকীর্ণ হয়ে অবস্থান করব।’ অতঃপর সেই আয়ুষ্মানবৃন্দ মনোরম গোশৃঙ্গশালবনে গিয়ে অল্পশব্দে ও অল্পাকীর্ণ হয়ে অবস্থান করতে লাগলেন।

এদিকে ভগবান ভিক্ষুদের ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে ভিক্ষুগণ, চাল, উপচাল, কুক্কুট, কলিম্ভ, নিকট, কটিস্‌সহসহ আরও অন্যান্য শিষ্যরা কোথায়? তারা কোথায় গিয়েছে?”

“ভন্তে, আয়ুষ্মানবৃন্দের এরূপ চিন্তার উদ্রেক হয়েছিল যে ‘এই নামজাদা, সুপরিচিত লিচ্ছবীগণ ভগবানের দর্শনেচ্ছায় যানারূঢ় হয়ে মহাবনের দিকে উচ্চশব্দ ও মহাশব্দ করতে করতে প্রবেশ করছে। অধিকন্তু ভগবান কর্তৃক বলা হয়েছে যে ধ্যানের কণ্টকস্বরূপ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে শব্দ। সেহেতু আমরা মনোরম গোশৃঙ্গশালবনে গিয়ে অল্পশব্দে ও অল্পাকীর্ণ হয়ে অবস্থান করব।’ অতঃপর ভন্তে, সেই আয়ুষ্মানবৃন্দ মনোরম গোশৃঙ্গশালবনে গিয়ে অল্পশব্দে ও অল্পাকীর্ণ হয়ে অবস্থান করছেন।”

“সাধু, ভিক্ষুগণ, সাধু। ‘ধ্যানের কণ্টকস্বরূপ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে শব্দ’ এরূপ আমার দ্বারা ভাষিত বিষয়ের অর্থ সেই মহাশ্রাবকেরা সম্যকরূপে অনুধাবন করতে পেরেছে।

ভিক্ষুগণ, দশ প্রকার কণ্টক রয়েছে। সেই দশ প্রকার কী কী? যথা :

প্রবিবেক বা নির্জনতায় অবস্থানকারীর কণ্টকস্বরূপ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে সঙ্গপ্রিয়তা, অশুভ নিমিত্ত দর্শনকারীর প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে শুভ নিমিত্ত দর্শন (দোষকে দোষরূপে না দেখা), ইন্দ্রিয়সমূহে সংযতজনের কণ্টকসরূপ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে আমোদ-প্রমোদ দর্শন, ব্রহ্মচর্যের কণ্টকস্বরূপ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে স্ত্রীলোকের সংসর্গতা, প্রথম ধ্যানের কণ্টকস্বরূপ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে শব্দ, দ্বিতীয় ধ্যানের কণ্টকস্বরূপ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বিতর্ক-বিচার, তৃতীয় ধ্যানের কণ্টকস্বরূপ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে প্রীতি, চতুর্থ ধ্যানের কণ্টকস্বরূপ প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে নিশ্বাস-প্রশ্বাস, সংজ্ঞা-বেদয়িত নিরোধসমাপত্তির প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে সংজ্ঞা ও বেদনা এবং রাগ-দ্বেষ-মোহও হচ্ছে কণ্টকস্বরূপ প্রতিবন্ধকতা।

ভিক্ষুগণ, কণ্টকহীন হয়ে অবস্থান কর। নিষ্কণ্টক হয়ে অবস্থান কর। কণ্টকহীন ও নিষ্কণ্টক হয়েই অবস্থান কর। কণ্টকহীনতায় অর্হত্ত্বফল লাভ হয়, নিষ্কণ্টকতায় অর্হত্ত্বফল লাভ হয় এবং কণ্টকহীনতায় ও নিষ্কণ্টকতায় অর্হত্ত্বফল লাভ হয়।” দ্বিতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]