লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৪]

ইষ্টধর্ম সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, জগতে দশটি ধর্ম বা বিষয় আছে যা ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু অতীব দুর্লভ। সেই দশ প্রকার কী কী? যথা :

জগতে ভোগ্যবিষয় হচ্ছে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ; জগতে উত্তম বর্ণ হচ্ছে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ; জগতে আরোগ্য সম্পত্তি হচ্ছে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ; জগতে শীল হচ্ছে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ; জগতে ব্রহ্মচর্যা হচ্ছে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ; জগতে সৎমিত্র হচ্ছে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ। জগতে বহু বিষয়ে জ্ঞান (বহুসচ্চ) হচ্ছে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ; জগতে প্রজ্ঞা হচ্ছে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ; জগতে ধর্ম বা শিক্ষা হচ্ছে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ; এবং জগতে স্বর্গ লাভ হচ্ছে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ।

ভিক্ষুগণ, এই দশ প্রকার ধর্ম যা জগতে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ, তার আবার দশ প্রকার প্রতিবন্ধকতা রয়েছে; যথা :

আলস্য ও অনুত্থান হচ্ছে ভোগ্য সম্পত্তি লাভের প্রতিবন্ধকতা; সাজসজ্জা না করা হচ্ছে বর্ণের প্রতিবন্ধক; অশোভনীয় কর্ম হচ্ছে আরোগ্যের প্রতিবন্ধক; পাপমিত্রতা হচ্ছে শীলাদির প্রতিবন্ধক; অসংযত ইন্দ্রিয় হচ্ছে ব্রহ্মচর্যার প্রতিবন্ধক; প্রবঞ্চনা হচ্ছে সৎমিত্র লাভের প্রতিবন্ধকতা; অনধ্যয়ন হচ্ছে বিদ্যা অর্জনের প্রতিবন্ধক; শ্রবণেচ্ছাহীনতা এবং জিজ্ঞাসা না করা হচ্ছে প্রজ্ঞা লাভের বাধাস্বরূপ; অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ না করা হচ্ছে ধর্ম বা শিক্ষা লাভের প্রতিবন্ধকতা; এবং মিথ্যা আচরণ বা পাপ আচরণ হচ্ছে স্বর্গ লাভের প্রতিবন্ধকতা।

ভিক্ষুগণ, এই দশ প্রকার ধর্ম যা জগতে ইষ্ট, কান্ত, মনোজ্ঞ, কিন্তু দুর্লভ, তার আবার দশ প্রকার আহার বা তা লাভের পন্থা রয়েছে; যথা :

পরিশ্রম ও উত্থান হচ্ছে হচ্ছে ভোগ্য সম্পত্তি লাভের আহার বা ভোগ্যবিষয় লাভের সহায়ক; সাজসজ্জা করা হচ্ছে বর্ণ লাভের সহায়ক; শোভনীয় কর্ম হচ্ছে আরোগ্যের আহার; কল্যাণমিত্রতা হচ্ছে শীলাদির আহার; সংযত ইন্দ্রিয় হচ্ছে ব্রহ্মচর্যার আহার; প্রবঞ্চনাহীনতা বা সততা হচ্ছে সৎমিত্র লাভের সহায়ক; অধ্যয়ন হচ্ছে বিদ্যা অর্জনের সহায়ক; শ্রবণেচ্ছা এবং জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে প্রজ্ঞা লাভের সহায়ক; অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে ধর্ম বা শিক্ষা লাভের পন্থা; এবং সম্যক আচরণ বা কুশল আচরণ হচ্ছে স্বর্গ লাভের সহায়ক। ভিক্ষুগণ, এসকল হচ্ছে দশ প্রকার ধর্ম লাভের পন্থা বা আহার।” তৃতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]