অতঃপর আয়ুষ্মান আনন্দ পূর্বাহ্ণ সময়ে চীবর পরিধান করে পাত্র-চীবর নিয়ে উপাসিকা মিগসালার গৃহে উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে প্রজ্ঞাপ্ত আসনে বসলেন। তার পর উপাসিকা মিগসালা আয়ুষ্মান আনন্দের নিকট উপস্থিত হয়ে আয়ুষ্মান আনন্দকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্টা উপাসিকা মিগসালা আয়ুষ্মান আনন্দকে এরূপ বললেন :
“ভন্তে, আনন্দ, কী কারণে ভগবান কর্তৃক দেশিত ধর্ম জানা কষ্টকর; যথা : যে ধর্মে ব্রহ্মচারী ও অব্রহ্মচারী উভয়েই পরলোকে একই গতিপ্রাপ্ত হবে? ভন্তে, আমার পিতা পোরাণ গ্রাম্যধর্ম মৈথুন হতে বিরত, দূরে অবস্থানকারী ব্রহ্মচারী ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ভগবান বলেছিলেন যে তিনি সকৃদাগামী এবং তুষিত লোকে উৎপন্ন হয়েছেন। কিন্তু ভন্তে, আমার কাকা ঋষিদত্ত ছিলেন অব্রহ্মচারী এবং শুধুমাত্র নিজ ভার্যায় সন্তুষ্ট। তিনিও কালগত হলে ভগবান বলেছিলেন যে তিনি সকৃদাগামী এবং তুষিত দেবলোকে উৎপন্ন হয়েছেন। ভন্তে, কী কারণে ভগবান কর্তৃক দেশিত ধর্ম জানা কষ্টকর; যথা : যে ধর্মে ব্রহ্মচারী ও অব্রহ্মচারী উভয়েই পরলোকে একই গতিপ্রাপ্ত হবে?”
“হে ভগ্নি, ভগবান কর্তৃক এরূপ ব্যাখ্যাই প্রদত্ত হয়েছে।”
অতঃপর আয়ুষ্মান আনন্দ উপাসিকা মিগসালার গৃহে পিণ্ডপাত গ্রহণ করে আসন হতে উঠে প্রস্থান করলেন। তার পর আয়ুষ্মান আনন্দ আহারকৃত্য সমাপনে ভগবানের নিকট উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্ট হয়ে আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানকে এরূপ বললেন :
“ভন্তে, আমি পূর্বাহ্ণ সময়ে চীবর পরিধান করে পাত্র-চীবর নিয়ে উপাসিকা মিগসালার গৃহে গমন করি। সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রজ্ঞাপ্ত আসনে উপবেশনের পর উপাসিকা মিগসালা আমার সম্মুখে আসেন। এসে আমাকে অভিবাদন করে একপাশে উপবেশন করেন। একপাশে উপবেশনের পর উপাসিকা মিগসালা আমাকে এরূপ জিজ্ঞাসা করলেন :
“ভন্তে, আনন্দ, কী কারণে ভগবান কর্তৃক দেশিত ধর্ম জানা কষ্টকর; যথা : যে ধর্মে ব্রহ্মচারী ও অব্রহ্মচারী উভয়েই পরলোকে একই গতিপ্রাপ্ত হবে? ভন্তে, আমার পিতা পোরাণ গ্রাম্যধর্ম মৈথুন হতে বিরত, দূরে অবস্থানকারী ব্রহ্মচারী ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ভগবান বলেছিলেন যে তিনি সকৃদাগামী এবং তুষিত লোকে উৎপন্ন হয়েছেন। কিন্তু ভন্তে, আমার কাকা ঋষিদত্ত ছিলেন অব্রহ্মচারী এবং শুধুমাত্র নিজ ভার্যায় সন্তুষ্ট। তিনিও কালগত হলে ভগবান বলেছিলেন যে তিনি সকৃদাগামী এবং তুষিত দেবলোকে উৎপন্ন হয়েছেন। ভন্তে, কী কারণে ভগবান কর্তৃক দেশিত ধর্ম কষ্টকর; যথা : যে ধর্মে ব্রহ্মচারী ও অব্রহ্মচারী উভয়েই পরলোকে একই গতিপ্রাপ্ত হবে?”
এরূপে জিজ্ঞাসিত হয়ে আমি উপাসিকা মিগসালাকে বললাম, “হে ভগ্নি, ভগবান কর্তৃক এরূপ ব্যাখ্যাই প্রদত্ত হয়েছে।”
“হে আনন্দ, কে সেই নির্বোধ, অজ্ঞ, স্ত্রী-কায়িক, স্ত্রী-বুদ্ধিসম্পন্না উপাসিকা মিগসালা যে মানুষে মানুষের প্রভেদ নির্ণয় করতে পারে? আনন্দ, জগতে দশ প্রকার পুদ্গল বা মানুষ বিদ্যমান। সেই দশ প্রকার কী কী? যথা :
এক্ষেত্রে আনন্দ, কোনো কোনো ব্যক্তি দুঃশীল হয়। সেরূপ দুঃশীলতা যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে না। ফলে তার ধর্মশ্রবণ অকৃত বা অসম্পাদিত থেকে যায়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও অকৃত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় না এবং সে সাময়িক বিমুক্তিও লাভ করে না। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর পরিহানি প্রাপ্ত হয়, সফলতা নয়। সে পরিহানিতেই গমন করে, সফলতায় নয়।
এক্ষেত্রে আনন্দ, কোনো কোনো ব্যক্তি দুঃশীল হয়। কিন্তু সেরূপ দুঃশীলতা যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে। ফলে তার ধর্মশ্রবণ সম্পাদিত হয়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও সম্পাদিত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় এবং সাময়িক বিমুক্তিও লাভ হয়। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর সফলতা প্রাপ্ত হয়, পরিহানি নয়। সে সিদ্ধিই লাভ করে, পরিহানি নয়।
আনন্দ, এই দুজনের মধ্যে তুলনাকারীরা এমন তুলনা করে যে ‘এর মধ্যে যেই দুঃশীলতা বিদ্যমান, অপর জনের নিকটও একই। কিন্তু কী কারণে একজন হীন আবার আরেকজন উত্তম?’ আনন্দ, এমনতরো চিন্তা তাদের দীর্ঘকাল অহিত ও দুঃখের কারণ হয়।
আনন্দ, এ দুজনের মধ্যে যে দুঃশীল কিন্তু সেরূপ দুঃশীলতা যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে। ফলে তার ধর্মশ্রবণ সম্পাদিত হয়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও সম্পাদিত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় এবং সাময়িক বিমুক্তিও লাভ হয়। আনন্দ, এই পুদ্গল পূর্বের ব্যক্তিটি হতে শ্রেষ্ঠতর ও প্রণীত। তার কারণ কী? কেননা, আনন্দ, এই ব্যক্তিকে ধর্ম-শ্রোত্র বা ধর্মশ্রবণ রক্ষা করে। তা তথাগত ব্যতীত আর কেই বা জানতে সক্ষম, তাই আনন্দ, বলি কি অন্য কোনো ব্যক্তির তুলনাকারী হয়ো না এবং তুলনা করতেও যেও না। অপরের মূল্যায়ন করতে যাওয়া মানে নিজের গর্ত নিজেই খোঁড়া। আনন্দ, কেবল আমি কিংবা আমার ন্যায় ব্যক্তিই অপরকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম।
এক্ষেত্রে আনন্দ, কোনো কোনো ব্যক্তি সুশীল হয়। সেরূপ শীল যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে না। ফলে তার ধর্মশ্রবণ অকৃত বা অসম্পাদিত থেকে যায়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও অকৃত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় না এবং সে সাময়িক বিমুক্তিও লাভ করে না। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর পরিহানি প্রাপ্ত হয়, সফলতা নয়। সে পরিহানিতেই গমন করে, সফলতায় নয়।
এক্ষেত্রে আনন্দ, কোনো কোনো ব্যক্তি সুশীল হয়। কিন্তু সেরূপ শীল যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে। ফলে তার ধর্মশ্রবণ সম্পাদিত হয়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও সম্পাদিত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় এবং সাময়িক বিমুক্তিও লাভ হয়। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর সফলতা প্রাপ্ত হয়, পরিহানি নয়। সে সিদ্ধিই লাভ করে, পরিহানি নয়।
আনন্দ, এই দুজনের মধ্যে তুলনাকারীরা এমন তুলনা করে যে ‘এর মধ্যে যেই শীলগুণ বিদ্যমান, অপর জনের নিকটও একই। কিন্তু কী কারণে একজন হীন আবার আরেকজন উত্তম?’ আনন্দ, এমনতরো চিন্তা তাদের দীর্ঘকাল অহিত ও দুঃখের কারণ হয়।
আনন্দ, এ দুজনের মধ্যে যে সুশীল কিন্তু সেরূপ শীল যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে। ফলে তার ধর্মশ্রবণ সম্পাদিত হয়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও সম্পাদিত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় এবং সাময়িক বিমুক্তিও লাভ হয়। আনন্দ, এই পুদ্গল পূর্বের ব্যক্তিটি হতে শ্রেষ্ঠতর ও প্রণীত। তার কারণ কী? কেননা আনন্দ, এই ব্যক্তিকে ধর্ম-শ্রোত্র বা ধর্মশ্রবণ রক্ষা করে। তা তথাগত ব্যতীত আর কেই বা জানতে সক্ষম, তাই আনন্দ, বলি কী অন্য কোনো ব্যক্তির তুলনাকারী হয়ো না এবং তুলনা করতেও যেও না। অপরের মূল্যায়ন করতে যাওয়া মানে নিজের গর্ত নিজেই খোঁড়া। আনন্দ, কেবল আমি কিংবা আমার ন্যায় ব্যক্তিই অপরকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম।
এক্ষেত্রে আনন্দ, কোনো কোনো ব্যক্তি তীব্র রাগ বা আসক্তিপরায়ণ হয়। সেরূপ তীব্র আসক্তি যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে না। ফলে তার ধর্মশ্রবণ অকৃত বা অসম্পাদিত থেকে যায়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও অকৃত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় না এবং সে সাময়িক বিমুক্তিও লাভ করে না। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর পরিহানি প্রাপ্ত হয়, সফলতা নয়। সে পরিহানিতেই গমন করে, সফলতায় নয়।
এক্ষেত্রে আনন্দ, কোনো কোনো ব্যক্তি তীব্র আসক্তিপরায়ণ হয়। কিন্তু সেরূপ তীব্র আসক্তি যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে। ফলে তার ধর্মশ্রবণ সম্পাদিত হয়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও সম্পাদিত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় এবং সাময়িক বিমুক্তিও লাভ হয়। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর সফলতা প্রাপ্ত হয়, পরিহানি নয়। সে সিদ্ধিই লাভ করে, পরিহানি নয়।
আনন্দ, এই দুজনের মধ্যে তুলনাকারীরা এমন তুলনা করে যে ‘এর মধ্যে যেই তীব্র আসক্তি বিদ্যমান, অপর জনের নিকটও একই। কিন্তু কী কারণে একজন হীন আবার আরেকজন উত্তম?’ আনন্দ, এমনতরো চিন্তা তাদের দীর্ঘকাল অহিত ও দুঃখের কারণ হয়।
আনন্দ, এ দুজনের মধ্যে যে তীব্র আসক্তিপরায়ণ কিন্তু সেরূপ তীব্র আসক্তি যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে। ফলে তার ধর্মশ্রবণ সম্পাদিত হয়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও সম্পাদিত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় এবং সাময়িক বিমুক্তিও লাভ হয়। আনন্দ, এই পুদ্গল পূর্বের ব্যক্তিটি হতে শ্রেষ্ঠতর ও প্রণীত। তার কারণ কী? কেননা, আনন্দ, এই ব্যক্তিকে ধর্ম-শ্রোত্র বা ধর্মশ্রবণ রক্ষা করে। তা তথাগত ব্যতীত আর কেই বা জানতে সক্ষম, তাই আনন্দ, বলি কি অন্য কোনো ব্যক্তির তুলনাকারী হয়ো না এবং তুলনা করতেও যেও না। অপরের মূল্যায়ন করতে যাওয়া মানে নিজের গর্ত নিজেই খোঁড়া। আনন্দ, কেবল আমি কিংবা আমার ন্যায় ব্যক্তিই অপরকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম।
এক্ষেত্রে আনন্দ, কোনো কোনো ব্যক্তি ক্রোধী হয়। সেরূপ ক্রোধ যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে না। ফলে তার ধর্মশ্রবণ অকৃত বা অসম্পাদিত থেকে যায়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও অকৃত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় না এবং সে সাময়িক বিমুক্তিও লাভ করে না। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর পরিহানি প্রাপ্ত হয়, সফলতা নয়। সে পরিহানিতেই গমন করে, সফলতায় নয়।
এক্ষেত্রে আনন্দ, কোনো কোনো ব্যক্তি ক্রোধী হয়। কিন্তু সেরূপ ক্রোধ যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে। ফলে তার ধর্মশ্রবণ সম্পাদিত হয়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও সম্পাদিত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় এবং সাময়িক বিমুক্তিও লাভ হয়। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর সফলতা প্রাপ্ত হয়, পরিহানি নয়। সে সিদ্ধিই লাভ করে, পরিহানি নয়।
আনন্দ, এই দুজনের মধ্যে তুলনাকারীরা এমন তুলনা করে যে ‘এর মধ্যে যেই ক্রোধ বিদ্যমান, অপরজনের নিকটও একই। কিন্তু কী কারণে একজন হীন আবার আরেকজন উত্তম?’ আনন্দ, এমনতরো চিন্তা তাদের দীর্ঘকাল অহিত ও দুঃখের কারণ হয়।
আনন্দ, এ দুজনের মধ্যে যে ক্রোধী কিন্তু সেরূপ ক্রোধ যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে। ফলে তার ধর্মশ্রবণ সম্পাদিত হয়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও সম্পাদিত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় এবং সাময়িক বিমুক্তিও লাভ হয়। আনন্দ, এই পুদ্গল পূর্বের ব্যক্তিটি হতে শ্রেষ্ঠতর ও প্রণীত। তার কারণ কী? কেননা আনন্দ, এই ব্যক্তিকে ধর্ম-শ্রোত্র বা ধর্মশ্রবণ রক্ষা করে। তা তথাগত ব্যতীত আর কেই বা জানতে সক্ষম, তাই আনন্দ, বলি কী অন্য কোনো ব্যক্তির তুলনাকারী হয়ো না এবং তুলনা করতেও যেও না। অপরের মূল্যায়ন করতে যাওয়া মানে নিজের গর্ত নিজেই খোঁড়া। আনন্দ, কেবল আমি কিংবা আমার ন্যায় ব্যক্তিই অপরকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম।
এক্ষেত্রে আনন্দ, কোনো কোনো ব্যক্তি ঔদ্ধত্য হয়। সেরূপ ঔদ্ধত্য যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে না। ফলে তার ধর্মশ্রবণ অকৃত বা অসম্পাদিত থেকে যায়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও অকৃত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় না এবং সে সাময়িক বিমুক্তিও লাভ করে না। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর পরিহানি প্রাপ্ত হয়, সফলতা নয়। সে পরিহানিতেই গমন করে, সফলতায় নয়।
এক্ষেত্রে আনন্দ, কোনো কোনো ব্যক্তি ঔদ্ধত্য হয়। কিন্তু সেরূপ ঔদ্ধত্য যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে। ফলে তার ধর্মশ্রবণ সম্পাদিত হয়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও সম্পাদিত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় এবং সাময়িক বিমুক্তিও লাভ হয়। সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর সফলতা প্রাপ্ত হয়, পরিহানি নয়। সে সিদ্ধিই লাভ করে, পরিহানি নয়।
আনন্দ, এই দুজনের মধ্যে তুলনাকারীরা এমন তুলনা করে যে ‘এর মধ্যে যেই ঔদ্ধত্য বিদ্যমান, অপরজনের নিকটও একই। কিন্তু কী কারণে একজন হীন আবার আরেকজন উত্তম?’ আনন্দ, এমনতরো চিন্তা তাদের দীর্ঘকাল অহিত ও দুঃখের কারণ হয়।
আনন্দ, এ দুজনের মধ্যে যে ঔদ্ধত্য কিন্তু সেরূপ ঔদ্ধত্য যে কারণে অশেষরূপে নিরুদ্ধ হয়, সেই চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি যথাযথভাবে সে জানতে পারে। ফলে তার ধর্মশ্রবণ সম্পাদিত হয়, প্রয়াসের দ্বারা সম্পাদনযোগ্য বিষয়ও সম্পাদিত হয়, দৃষ্টির দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য বিষয় উপলব্ধ হয় এবং সাময়িক বিমুক্তিও লাভ হয়। আনন্দ, এই পুদ্গল পূর্বের ব্যক্তিটি হতে শ্রেষ্ঠতর ও প্রণীত। তার কারণ কী? কেননা আনন্দ, এই ব্যক্তিকে ধর্ম-শ্রোত্র বা ধর্মশ্রবণ রক্ষা করে। তা তথাগত ব্যতীত আর কেই বা জানতে সক্ষম, তাই আনন্দ, বলি কী অন্য কোনো ব্যক্তির দোষ-গুণের তুলনাকারী হয়ো না এবং তুলনা করতেও যেও না। অপরের মূল্যায়ন করতে যাওয়া মানে নিজের জন্য গর্ত খোঁড়া। আনন্দ, কেবল আমি কিংবা আমার ন্যায় ব্যক্তিই অপরকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম।
আনন্দ, কে সেই নির্বোধ, অজ্ঞ, স্ত্রী-কায়িক এমনকি স্ত্রী-বুদ্ধিসম্পন্না উপাসিকা মিগসালা; যে মানুষে মানুষের প্রভেদ নির্ণয় করতে পারে, আনন্দ, জগতে এই দশ প্রকার পুদ্গল বা মানুষ বিদ্যমান। আনন্দ, যেরূপ শীলে পোরাণ সমৃদ্ধ ছিলেন, একই শীলেও ঋষিদত্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠিত। তাই, এক্ষেত্রে পোরাণ ও ঋষিদত্তের পরলৌকিক গতি ভিন্ন হয়নি। আনন্দ, যেরূপ প্রজ্ঞায় ঋষিদত্ত সমৃদ্ধ ছিলেন, একই প্রজ্ঞাবিমণ্ডিত ছিলেন পোরাণও। তাই, ঋষিদত্ত ও পোরাণের গতিও একই স্থানে হয়েছে। আনন্দ, এরূপে এই উভয় ব্যক্তিরই একটি অঙ্গ কম ছিল।” পঞ্চম সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]