একসময় আয়ুষ্মান মহাকশ্যপ রাজগৃহের সন্নিকটস্থ বেনুবনের কলন্দক নিবাপে অবস্থান করছিলেন। তথায় আয়ুষ্মান মহাকশ্যপ ভিক্ষুদের ‘আবুসো ভিক্ষুগণ,’ বলে আহ্বান করলেন। ‘হ্যাঁ আবুসো’ বলে সেই ভিক্ষুরা আয়ুষ্মান মহাকশ্যপকে প্রত্যুত্তর দিলেন। অতঃপর আয়ুষ্মান মহাকশ্যপ এরূপ বলতে লাগলেন :
“হে আবুসোগণ, এক্ষেত্রে কোনো কোনো ভিক্ষু অর্হত্ত্ব লাভ সম্বন্ধে এরূপ ব্যাখ্যা করে যথা : ‘আমার জন্ম ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্য উদ্যাপিত হয়েছে, করণীয় সম্পাদিত হয়েছে এবং আমার দুঃখমুক্তি লাভের জন্য অন্য করণীয় নাই এরূপে আমি অবগত আছি।’
অতঃপর ধ্যানী, সমাপত্তিকুশল (ধ্যানে সুদক্ষ), পরচিত্ত নিরীক্ষণে দক্ষ, পরচিত্তের অবস্থা নিরীক্ষণে সুদক্ষ তথাগত কিংবা তথাগতের শিষ্য তাকে সেই বিষয়ে প্রশ্ন করে, ঘনিষ্টভাবে জেরা করে এবং তৎবিষয়ে আলাপ করে। সেই ভিক্ষুটি ধ্যানী, সমাপত্তিকুশল, পরচিত্ত নিরীক্ষণে দক্ষ, পরচিত্তের অবস্থা নিরীক্ষণে সুদক্ষ তথাগত কিংবা তথাগতের শিষ্যের দ্বারা সেই বিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হয়ে, ঘনিষ্টভাবে জেরা এবং তৎবিষয়ে আলাপচারিতার সময় বাকরুদ্ধ হয়, সন্দেহান্বীত হয়, প্রত্যুত্তরে ভুল সিদ্ধান্ত দেয়, অযোগ্যতার প্রকাশ পায় এবং দুর্বিপাকে পরে।
তখন ধ্যানী, সমাপত্তিকুশল, পরচিত্ত নিরীক্ষণে দক্ষ, পরচিত্তের অবস্থা নিরীক্ষণে সুদক্ষ তথাগত কিংবা তথাগতের শিষ্য সেই ভিক্ষুটির চিত্ত এরূপে নিরীক্ষণ করে যে “কী কারণে এই আয়ুষ্মান নিজ অর্হত্ত্বপ্রাপ্তির বিষয় প্রকাশ করে যে, ‘আমার জন্ম ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্য উদ্যাপিত হয়েছে, করণীয় সম্পাদিত হয়েছে এবং আমার দুঃখমুক্তি লাভের জন্য অন্য করণীয় নাই এরূপে আমি অবগত আছি’?”
তার পর ধ্যানী, সমাপত্তিকুশল, পরচিত্ত নিরীক্ষণে দক্ষ, পরচিত্তের অবস্থা নিরীক্ষণে সুদক্ষ তথাগত কিংবা তথাগতের শিষ্য সেই ভিক্ষুটির চিত্ত সম্বন্ধে এরূপ জানতে পারে যে ‘এই আয়ুষ্মান অধিমানসম্পন্ন (নিজ সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণকারী। অধিমানবশে এই আয়ুষ্মান অপ্রাপ্ত বিষয় প্রাপ্ত হয়েছি, অসম্পাদিত বিষয় সম্পাদিত হয়েছে এবং অনধিগত বিষয় অধিগত হয়েছে বলে মনে করে। অধিমানবশেই এই আয়ুষ্মান অর্হত্ত্বপ্রাপ্তি সম্বন্ধে প্রকাশ করেছে যে ‘আমার জন্ম ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্য উদ্যাপিত হয়েছে, করণীয় সম্পাদিত হয়েছে এবং আমার দুঃখমুক্তি লাভের জন্য অন্য করণীয় নাই এরূপে আমি অবগত আছি।’
অতঃপর ধ্যানী, সমাপত্তিকুশল, পরচিত্ত নিরীক্ষণে দক্ষ, পরচিত্তের অবস্থা নিরীক্ষণে সুদক্ষ তথাগত কিংবা তথাগতের শিষ্য সেই ভিক্ষুটির চিত্ত এরূপে নিরীক্ষণ করে যে ‘কী কারণে এই আয়ুষ্মান অধিমানসম্পন্ন এবং অধিমানবশে অপ্রাপ্ত বিষয় প্রাপ্ত হয়েছি, অসম্পাদিত বিষয় সম্পাদিত হয়েছে এবং অনধিগত বিষয় অধিগত হয়েছে বলে মনে করে? এবং কী কারণে অধিমানবশে অর্হত্ত্বপ্রাপ্তি সম্বন্ধে প্রকাশ করেছে যে ‘আমার জন্ম ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্য উদ্যাপিত হয়েছে, করণীয় সম্পাদিত হয়েছে এবং আমার দুঃখমুক্তি লাভের জন্য অন্য করণীয় নাই এরূপে আমি অবগত আছি’?
অনন্তর ধ্যানী, সমাপত্তিকুশল, পরচিত্ত নিরীক্ষণে দক্ষ, পরচিত্তের অবস্থা নিরীক্ষণে সুদক্ষ তথাগত কিংবা তথাগতের শিষ্য সেই ভিক্ষুটির চিত্ত সম্বন্ধে এরূপ জানতে পারে যে ‘এই আয়ুষ্মান বহুশ্রুত, শ্রুতধর ও শ্রুতসঞ্চয়ী। যেরূপ ধর্ম আদিতে কল্যাণ, মধ্যে কল্যাণ এবং সমাপ্তিতেও কল্যাণপ্রদ, যা সার্থক, সব্যঞ্জক, শুধুমাত্র পরিপূর্ণ, পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্য প্রকাশ করে, সেরূপ ধর্মে এই আয়ুষ্মান বহুশ্রুত, সেরূপ ধর্ম বাক্য দ্বারা তার পরিচিত, মনেতে অবধারণকৃত এবং দৃষ্টির দ্বারা উত্তমরূপে উপলব্ধ। তদ্ধেতু এই আয়ুষ্মান অধিমানসম্পন্ন। অধিমানবশে অপ্রাপ্ত বিষয় প্রাপ্ত হয়েছি, অসম্পাদিত বিষয় সম্পাদিত হয়েছে এবং অনধিগত বিষয় অধিগত হয়েছে বলে মনে করে। এবং অধিমানবশে অর্হত্ত্বপ্রাপ্তি সম্বন্ধে প্রকাশ করেছে যে ‘আমার জন্ম ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্য উদ্যাপিত হয়েছে, করণীয় সম্পাদিত হয়েছে এবং আমার দুঃখমুক্তি লাভের জন্য অন্য করণীয় নাই এরূপে আমি অবগত আছি।’
অধিকন্তু ধ্যানী, সমাপত্তিকুশল, পরচিত্ত নিরীক্ষণে দক্ষ, পরচিত্তের অবস্থা নিরীক্ষণে সুদক্ষ তথাগত কিংবা তথাগতের শিষ্য সেই ভিক্ষুটির চিত্ত সম্বন্ধে এরূপ জানতে পারে যে ‘এই আয়ুষ্মান অভিধ্যালু এবং অভিধ্যায় পরাভূত চিত্তে অবস্থান করে। অভিধ্যায় পরাভূত হওয়া তথাগত প্রবর্তিত ধর্মবিনয়ে পরিহানিকর।
এই আয়ুষ্মান বিদ্বেষী এবং বিদ্বেষে পরাভূত চিত্তে অবস্থান করে। বিদ্বেষে পরাভূত হওয়া তথাগত প্রবর্তিত ধর্মবিনয়ে পরিহানিকর।
এই আয়ুষ্মান অলস ও তন্দ্রাচ্ছন্ন এবং অলসতা ও তন্দ্রাচ্ছন্নতায় পরাভূত চিত্তে অবস্থান করে। অলসতা ও তন্দ্রাচ্ছন্নতায় পরাভূত হওয়া তথাগত প্রবর্তিত ধর্মবিনয়ে পরিহানিকর।
এই আয়ুষ্মান ঔদ্ধত্য এবং ঔদ্ধত্যে পরাভূত চিত্তে অবস্থান করে। ঔদ্ধত্যে পরাভূত হওয়া তথাগত প্রবর্তিত ধর্মবিনয়ে পরিহানিকর।
এই আয়ুষ্মান সন্দেহপূর্ণ এবং সন্দেহপূর্ণতায় পরাভূত চিত্তে অবস্থান করে। সন্দেহপূর্ণতায় পরাভূত হওয়া তথাগত প্রবর্তিত ধর্মবিনয়ে পরিহানিকর।
এই আয়ুষ্মান কর্মপ্রিয়, কর্মে লিপ্ত এবং কর্মপ্রিয়তায় রত। কর্মপ্রিয়তা তথাগত প্রবর্তিত ধর্মবিনয়ে পরিহানিকর।
এই আয়ুষ্মান গল্পপ্রিয়, গল্পে অনুযুক্ত এবং খোশগল্পে রত। খোশগল্প তথাগত প্রবর্তিত ধর্মবিনয়ে পরিহানিকর।
এই আয়ুষ্মান নিদ্রাপ্রিয়, নিদ্রায় বিভোর এবং নিদ্রায় নিমগ্ন। নিদ্রাপ্রিয়তা তথাগত প্রবর্তিত ধর্মবিনয়ে পরিহানিকর।
এই আয়ুষ্মান সঙ্গপ্রিয়, সঙ্গকামী এবং জনসংসর্গে সংশ্লিষ্ট। সঙ্গপ্রিয়তা তথাগত প্রবর্তিত ধর্মবিনয়ে পরিহানিকর।
এই আয়ুষ্মানের অর্হত্ত্ব লাভের জন্য উত্তরোত্তর করণীয় থাকলেও সে সামান্য বিষয় অধিগমহেতু মধ্যপথেই থেমে গেছে। মধ্যপথে থেমে যাওয়া তথাগত প্রবর্তিত ধর্মবিনয়ে পরিহানিকর।’
আবুসোগণ, সেই ভিক্ষুটি এই দশ প্রকার অবস্থা পরিত্যাগ না করে এরূপ ধর্মবিনয়ে বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও বিপুলতা লাভ করবে, তা অসম্ভব। অধিকন্তু আবুসোগণ, সেই ভিক্ষুটি এই দশ প্রকার অবস্থা পরিত্যাগপূর্বক এরূপ ধর্মবিনয়ে বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও বিপুলতা লাভ করবে, তা সম্ভব।” ষষ্ঠ সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]