লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

ক্ষীণাসব সূত্র

অনন্তর আয়ুষ্মান সারিপুত্র ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। অতঃপর একপাশে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান সারিপুত্রকে ভগবান এরূপ বললেন :

“হে সারিপুত্র, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল (ক্ষমতা) কত প্রকার, যে বল বা ক্ষমতার দরুন ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানে যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’?”

“ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল (ক্ষমতা) দশ প্রকার, যে বল বা ক্ষমতার দরুন ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’। সেই দশ প্রকার কী কী? যথা :

ভন্তে, ইহজগতে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর নিকট অনিত্যরূপে সকল সংস্কার যথাভূতভাবে সম্যক প্রজ্ঞা দ্বারা উপলব্ধ হয়। ভন্তে, এই যে ক্ষীণাসব ভিক্ষু অনিত্যরূপে সকল সংস্কারকে যথাভূতভাবে সম্যক প্রজ্ঞা দ্বারা উপলব্ধি করেন, ইহা হচ্ছে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল। যে বলে সমৃদ্ধ হয়ে ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।

পুনশ্চ, ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর নিকট অঙ্গারপূর্ণ গর্ত সদৃশ কাম যথাভূতভাবে সম্যক প্রজ্ঞা দ্বারা উপলব্ধ হয়। ভন্তে, এই যে ক্ষীণাসব ভিক্ষু অঙ্গারপূর্ণ গর্ত সদৃশ কামকে যথাভূতভাবে সম্যক প্রজ্ঞা দ্বারা উপলব্ধি করেন, ইহাও হচ্ছে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল। যে বলে সমৃদ্ধ হয়ে ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।

পুনশ্চ, ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর চিত্তবিবেক বা ভাবনায় রত হয়, বিবেক বা ভাবনাভিমুখী এবং বিবেকের দিকেই ক্রমাবনত হয়। তার চিত্তবিবেকস্থ বা ধ্যানস্থ ও সে নৈষ্ক্রম্যে অভিরত হয় এবং তার সমস্ত আসবস্থানীয় বিষয় বিনাশ পায়। ভন্তে, এই যে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর চিত্তবিবেক বা ভাবনায় রত হয়, বিবেক বা ভাবনাভিমুখী এবং বিবেকের দিকেই ক্রমাবনত হয়। তার চিত্তবিবেকস্থ বা ধ্যানস্থ ও সে নৈষ্ক্রম্যে অভিরত হয় এবং তার সমস্ত আসবস্থানীয় বিষয় বিনাশ পায়, ইহাও হচ্ছে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল। যে বলে সমৃদ্ধ হয়ে ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।

পুনশ্চ, ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর চারি স্মৃতি-প্রস্থান ভাবিত ও সুভাবিত হয়। ভন্তে, এই যে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর চারি স্মৃতি-প্রস্থান ভাবিত ও সুভাবিত হয়, তা-ও হচ্ছে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল। যে বলে সমৃদ্ধ হয়ে ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।

পুনশ্চ, ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর চারি সম্যক প্রধান ভাবিত ও সুভাবিত হয়। ভন্তে, এই যে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর চারি সম্যক প্রধান ভাবিত ও সুভাবিত হয়, তা-ও হচ্ছে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল। যে বলে সমৃদ্ধ হয়ে ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।

পুনশ্চ, ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও সুভাবিত হয়। ভন্তে, এই যে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর চারি ঋদ্ধিপাদ ভাবিত ও সুভাবিত হয়, তা-ও হচ্ছে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল। যে বলে সমৃদ্ধ হয়ে ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।

পুনশ্চ, ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর পঞ্চ-ইন্দ্রিয় ভাবিত ও সুভাবিত হয়। ভন্তে, এই যে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর পঞ্চ-ইন্দ্রিয় ভাবিত ও সুভাবিত হয়, তা-ও হচ্ছে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল। যে বলে সমৃদ্ধ হয়ে ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।

পুনশ্চ, ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর পঞ্চবল ভাবিত ও সুভাবিত হয়। ভন্তে, এই যে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর পঞ্চবল ভাবিত ও সুভাবিত হয়, তা-ও হচ্ছে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল। যে বলে সমৃদ্ধ হয়ে ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।

পুনশ্চ, ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর সপ্ত বোধ্যঙ্গ ভাবিত ও সুভাবিত হয়। ভন্তে, এই যে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর সপ্ত বোধ্যঙ্গ ভাবিত ও সুভাবিত হয়, তা-ও হচ্ছে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল। যে বলে সমৃদ্ধ হয়ে ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।

পুনশ্চ, ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ ভাবিত ও সুভাবিত হয়। ভন্তে, এই যে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ ভাবিত ও সুভাবিত হয়, তা-ও হচ্ছে ক্ষীণাসব ভিক্ষুর বল। যে বলে সমৃদ্ধ হয়ে ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।

ভন্তে, ক্ষীণাসব ভিক্ষুর এই দশ প্রকার বল, যে বল বা ক্ষমতার দরুন ক্ষীণাসব ভিক্ষু আসবসমূহের ক্ষয় সম্বন্ধে জানেন যে ‘আমার আসবসমূহ ক্ষীণ হয়েছে’।” দশম সূত্র।

থের বর্গ সমাপ্ত।

তস্সুদ্দানং/সূত্রসূচি

বাহন, আনন্দ, পূর্ণিয় আর ব্যাকরণ,
দাম্ভিক, অধিমান, অপ্রিয় ও আক্রোশন;
কোকালিক, ক্ষীণাসব সূত্র হলো উক্ত,
দশ সূত্র যোগে থের বর্গ হলো সমাপ্ত॥

ব্যাখ্যা [০]