লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

ভয় সূত্র

অতঃপর গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। অতঃপর উপবিষ্ট গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে ভগবান এরূপ বললেন :

“হে গৃহপতি, যেহেতু একজন আর্যশ্রাবকের পাঁচ প্রকার ভয়-ভৈবর উপশান্ত হয়, চার প্রকার স্রোতাপত্তি অঙ্গে সে সমন্নাগত হলে এবং আর্যজ্ঞান তার নিকট সম্যক প্রজ্ঞায় উত্তমরূপে উপলব্ধ হলে যদি সে ইচ্ছা করে তবে নিজেই নিজেকে এরূপে প্রকাশ করতে পারে যে ‘আমার নিরয় গমন ক্ষীণ হয়েছে, তীর্যক গমন ক্ষীণ হয়েছে, প্রেতলোকেও প্রতিসন্ধির হেতু ক্ষীণ হয়েছে এবং আমি স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মী ও নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ।’

সেই পাঁচ প্রকার ভয়-ভৈবর কী কী যা তার উপশান্ত হয়?

গৃহপতি, যে প্রাণিহত্যাকারী তার প্রাণিহত্যার দরুন ইহলোক ও পরলোকে ভয়-ভৈরব প্রসব করে এবং মানসিক দুঃখ, দৌর্মনস্য (বিষাদ) ভোগ করে। প্রাণিহত্যা হতে বিরত জনের ইহলোকে ও পরলোকেও ভয়-ভৈরব উৎপন্ন হয় না এবং মানসিক দুঃখ-দৌর্মনস্য ভোগ করতে হয় না। প্রাণিহত্যা হতে বিরত জনের এরূপেই তেমন ভয়-ভৈরব উপশান্ত হয়।

পুনশ্চ, গৃহপতি, অদত্তবস্তু গ্রহণকারী (চোর) তার অদত্তবস্তু গ্রহণের দরুন ইহলোক ও পরলোকে ভয়-ভৈরব প্রসব করে এবং মানসিক দুঃখ, দৌর্মনস্য (বিষাদ) ভোগ করে। অদত্তবস্তু গ্রহণ হতে বিরত জনের ইহলোকে ও পরলোকেও ভয়-ভৈরব উৎপন্ন হয় না এবং মানসিক দুঃখ-দৌর্মনস্য ভোগ করতে হয় না। অদত্তবস্তু গ্রহণ বা চুরি করা হতে বিরত জনের এরূপেই তেমন ভয়-ভৈরব উপশান্ত হয়।

পুনশ্চ, গৃহপতি, ব্যাভিচারী তার ব্যাভিচারের দরুন ইহলোক ও পরলোকে ভয়-ভৈরব প্রসব করে এবং মানসিক দুঃখ, দৌর্মনস্য (বিষাদ) ভোগ করে। ব্যাভিচার হতে বিরত জনের ইহলোকে ও পরলোকেও ভয়-ভৈরব উৎপন্ন হয় না এবং মানসিক দুঃখ-দৌর্মনস্য ভোগ করতে হয় না। ব্যাভিচার করা হতে বিরত জনের এরূপেই তেমন ভয়-ভৈরব উপশান্ত হয়।

পুনশ্চ, গৃহপতি, মিথ্যাবাদী তার মিথ্যাকথনের দরুন ইহলোক ও পরলোকে ভয়-ভৈরব প্রসব করে এবং মানসিক দুঃখ, দৌর্মনস্য (বিষাদ) ভোগ করে। মিথ্যা ভাষণ হতে বিরত জনের ইহলোকে ও পরলোকেও ভয়-ভৈরব উৎপন্ন হয় না এবং মানসিক দুঃখ-দৌর্মনস্য ভোগ করতে হয় না। মিথ্যা ভাষণ হতে বিরত জনের এরূপেই তেমন ভয়-ভৈরব উপশান্ত হয়।

পুনশ্চ, গৃহপতি, সুরা, মদ, গাঁজা সেবনকারী তার নেশা সেবনের দরুন ইহলোক ও পরলোকে ভয়-ভৈরব প্রসব করে এবং মানসিক দুঃখ, দৌর্মনস্য (বিষাদ) ভোগ করে। নেশা সেবন হতে বিরত জনের ইহলোকে ও পরলোকেও ভয়-ভৈরব উৎপন্ন হয় না এবং মানসিক দুঃখ-দৌর্মনস্য ভোগ করতে হয় না। নেশা সেবন হতে বিরত জনের এরূপেই তেমন ভয়-ভৈরব উপশান্ত হয়।

কোন চারটি স্রোতাপত্তি অঙ্গেতে সে সমন্নাগত হয়?

গৃহপতি, এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক বুদ্ধে পূর্ণবিশ্বাসসম্পন্ন হয়। যেমন, ‘ইনি সেই ভগবান, অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকজ্ঞ, অনুত্তর পুরুষদমনকারী সারথী, দেবমানবের শাস্তা, বুদ্ধ ভগবান।’ এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক ধর্মে পূর্ণবিশ্বাসসম্পন্ন হয়, যেমন, ‘ভগবানের ধর্ম সুব্যাখ্যাত, সন্দৃষ্টিক, কালাকাল বিরহিত, এসে দেখার যোগ্য, নির্বাণে উপনীতকারী, বিজ্ঞজন কর্তৃক প্রাপ্তব্য।’ এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক সংঘে পূর্ণবিশ্বাসসম্পন্ন হয়, যেমন, ‘ভগবানের শিষ্যমণ্ডলী সুপথে প্রতিপন্ন, ঋজুপথে প্রতিপন্ন, ন্যায়পথে প্রতিপন্ন, সমিচীন পথে প্রতিপন্ন, ভগবানের শিষ্যমণ্ডলী চারি যুগ্ম হিসেবে আট প্রকার পুরুষই আহ্বানযোগ্য, পূজার যোগ্য, দক্ষিণার যোগ্য, অঞ্জলি করণীয় এবং জগতে অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র।’ আর্যশ্রাবক আর্যসম্মত অখণ্ড, নিশ্চিদ্র, বিশুদ্ধ, নিষ্কলুষ, বিমুক্ত, বিজ্ঞকর্তৃক প্রশংসিত, অদূষিত ও সমাধি লাভের সহায়ক শীলসমূহে বিভূষিত হয়। এই চতুর্বিধ স্রোতাপত্তি অঙ্গের মাধ্যমে সুসমৃদ্ধ হয়।

কিরূপে আর্যজ্ঞান তার প্রজ্ঞা দ্বারা সুদৃষ্ট ও সুপ্রতিবিদ্ধ হয়?

গৃহপতি, এক্ষেত্রে আর্যশ্রাবক এরূপে বিচার করে যে উহার কারণে ইহা হয়, ইহার উৎপত্তিতে উহার উৎপত্তি হয়, ইহার অনুপস্থিতিতে ইহা হয় না, ইহার নিরোধে উহাও নিরুদ্ধ হয়। যেমন, অবিদ্যার কারণে সংস্কার উৎপন্ন হয়, সংস্কারের কারণে বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের কারণে নামরূপ, নামরূপের কারণে ষড়ায়তন, ষড়ায়তনের কারণে স্পর্শ, স্পর্শের কারণে বেদনা, বেদনার কারণে তৃষ্ণা, তৃষ্ণার কারণে উপাদান, উপাদানের কারণ ভব, ভবের কারণে জাতি (জন্ম), জাতির কারণে জরা, মরণ, শোক, পরিদেবন (বিলাপ), দুঃখ, দৌর্মনস্য, উপায়াস (মানসিক যন্ত্রণা) উৎপন্ন হয়। ইহাই সম্পূর্ণরূপে দুঃখস্কন্ধের কারণ। অবিদ্যার প্রতি অশেষ বিরাগ ও অবিদ্যার নিরোধের কারণে সংস্কার নিরোধ হয়; সংস্কার নিরোধের কারণে বিজ্ঞান নিরুদ্ধ হয়, বিজ্ঞানের কারণে নামরূপ, নামরূপের কারণে ষড়ায়তন, ষড়ায়তনের কারণে স্পর্শ, স্পর্শের কারণে বেদনা, বেদনার কারণে তৃষ্ণা, তৃষ্ণার কারণে উপাদান, উপাদানের কারণ ভব, ভবের কারণে জাতি (জন্ম), জাতির কারণে জরা, মরণ, শোক, পরিদেবন (বিলাপ), দুঃখ, দৌর্মনস্য, উপায়াস (মানসিক যন্ত্রণা) উপায়াস নিরুদ্ধ হয়। এরূপেই সম্পূর্ণরূপে দুঃখস্কন্ধের নিরোধ হয়। ইহাও আর্যজ্ঞান যা তার প্রজ্ঞা দ্বারা সুদৃষ্ট ও সুপ্রতিবিদ্ধ হয়।

গৃহপতি, যেহেতু একজন আর্যশ্রাবকের এই পাঁচ প্রকার ভয়-ভৈবর উপশান্ত হয়, চার প্রকার স্রোতাপত্তি অঙ্গে সে সমন্নাগত হলে এবং আর্যজ্ঞান তার নিকট সম্যক প্রজ্ঞায় উত্তমরূপে উপলব্ধ হলে যদি সে ইচ্ছা করে তবে নিজেই নিজেকে এরূপে প্রকাশ করতে পারে যে ‘আমার নিরয় গমন ক্ষীণ হয়েছে, তীর্যক গমন ক্ষীণ হয়েছে, প্রেতলোকেও প্রতিসন্ধির হেতু ক্ষীণ হয়েছে এবং আমি স্রোতাপন্ন, অবিনিপাতধর্মী ও নিয়ত সম্বোধিপরায়ণ।” দ্বিতীয় সূত্র।

ব্যাখ্যা [০]