একসময় ভগবান শ্রাবস্তীতে অনাথপিণ্ডিক নির্মিত জেতবনারামে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক মধ্যাহ্ণকালীন সময়ে ভগবানকে দর্শনের জন্য শ্রাবস্তী হতে নিষ্ক্রান্ত হলেন। অতঃপর গৃহপতি অনাথপিণ্ডিকের এরূপ চিন্তার উদ্রেক হলো, ‘এখন ভগবানকে দর্শন করার যথার্থ সময় নয়। ভগবান এখন ধ্যানে নিবিষ্ট থাকবেন এবং ভাবিতমনা ভিক্ষুদের সাথে দর্শনেরও এখন যথার্থ সময় নয়। ভাবিতমনা ভন্তেগণও এখন ধ্যানে নিবিষ্ট থাকবেন। তাহলে আমি এখন যেখানে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের আরাম সেখানেই গমন করি।
অতঃপর গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক যেখানে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের আরাম তথায় উপনীত হলেন। সেই সময়ে অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকেরা একত্রে মিলিত হয়ে কোলাহল করে ও উচ্চশব্দে-মহাশব্দে বহুপ্রকার তিরচ্ছান কথা বা বৃথা কথায় রত হয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকেরা গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে আগমনকালে দূর স্থান হতে দেখলেন। এবং তাকে দেখে পরস্পর পরস্পরকে এরূপ বললেন, “ওহে বন্ধুগণ, অল্পশব্দে অবস্থান করুন, শব্দ করে বাক্যালাপে রত হবেন না। কেননা শ্রমণ গৌতমের শিষ্য (গৃহী) গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক আমাদের আরামের দিকেই আসছেন। শ্রমণ গৌতমের যে-সকল শ্বেতবস্ত্রধারী গৃহী শিষ্য শ্রাবস্তীতে অবস্থান করেন, তাদের মধ্যে এই গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক অন্যতম। সেই আয়ুষ্মানেরা অল্পশব্দকামী, অল্পশব্দে বিনীত এবং অল্পশব্দের প্রশংসাকারী। তা উত্তম হয়, যদি এই পরিষদকে অল্পশব্দসম্পন্ন জ্ঞাত হয়ে এখানে উপস্থিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন। অতঃপর সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকেরা তুষ্ণীভাব (নিরবতা) অবলম্বন করলেন। অনন্তর গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের নিকট উপস্থিত হয়ে তাদের সহিত সম্বোধন ও প্রীতিপূর্ণ আলাপ করলেন। সম্বোধন ও প্রীত্যালাপ করার পর একপাশে বসলেন। একপাশে উপবিষ্ট গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে সেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকেরা এরূপ বললেন :
ওহে গৃহপতি, বলুন তো শ্রমণ গৌতম কিরূপ দৃষ্টিসম্পন্ন (এখানে দৃষ্টি অর্থ মতবাদ বা ধারণা)?”
“ভদন্ত, আমি ভগবানের সর্ববিধ দৃষ্টি জ্ঞাত নই।”
“হে গৃহপতি, আমরা তাহাই মনে করছি যে, আপনি শ্রমণ গৌতমের সর্ববিধ দৃষ্টি জ্ঞাত নন। গৃহপতি, বলুন তো ভিক্ষুগণ (বুদ্ধের শ্রাবক শিষ্যেরা) কিরূপ দৃষ্টিসম্পন্ন?”
“ভদন্ত, আমি ভিক্ষুগণেরও দৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞাত নই।”
“গৃহপতি, আচ্ছা, আমরা তাই মনে করছি যে, আপনি শ্রমণ গৌতমের সর্ববিধ দৃষ্টি জ্ঞাত নন এবং ভিক্ষুগণেরও সর্ববিধ দৃষ্টি সম্পর্কে অবগত নন। গৃহপতি, বলুন তো আপনি কিরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করেন?”
“ভদন্ত, আমরা যেই দৃষ্টিসম্পন্ন তা ব্যাখ্যা করা আমাদের দ্বারা দুষ্কর নয়। দেখুন, যদি আয়ুষ্মানেরা নিজ নিজ দৃষ্টি প্রথমে ব্যাখ্যা করেন তবে পরে আমরা যেই দৃষ্টিসম্পন্ন তা ব্যাখ্যা করা আমাদের দ্বারা আরও সহজ হবে।”
‘গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক কর্তৃক এরূপ উক্ত হলে জনৈক পরিব্রাজক গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে বললেন :
“জগৎ শাশ্বত (নিত্য)’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।”
অতঃপর অন্য এক পরিব্রাজক গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে এরূপ বললেন :
“জগৎ অশাশ্বত (অনিত্য)’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।”
অতঃপর অপর এক পরিব্রাজক গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে এরূপ বললেন :
“জগৎ অনন্ত’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।”
অতঃপর অন্য এক পরিব্রাজক গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে এরূপ বললেন :
“জগৎ অনন্ত নয়’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি পোষণ করি।”
অতঃপর আরেক পরিব্রাজক গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে এরূপ বললেন :
“যেই জীব (আত্ম) সেই শরীর’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি পোষণ করি।”
অতঃপর অন্য এক পরিব্রাজক গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে এরূপ বললেন :
“যেই জীব সেই শরীর নয়’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।”
অতঃপর অন্য এক পরিব্রাজক গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে এরূপ বললেন :
“মৃত্যুর পর তথাগত (সত্ত্ব বা জীব) থাকে’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি পোষণ করি।”
অতঃপর অন্য এক পরিব্রাজক গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে এরূপ বললেন :
“মৃত্যুর পর থাকে না’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।”
অতঃপর অন্য এক পরিব্রাজক গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে এরূপ বললেন :
“মৃত্যুর পর তথাগত থাকে না আবার থাকে’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।”
অতঃপর অন্য এক পরিব্রাজক গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে এরূপ বললেন :
“মৃত্যুর পর তথাগত থাকেনও না আবার না থাকেন তা-ও না’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।”
অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ কর্তৃক এরূপ উক্ত হলে গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক সেই পরিব্রাজকদের এরূপ বললেন, “ভদন্ত, যে আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘জগৎ শাশ্বত (নিত্য)’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু (অযোনিশ মনসিকারহেতু) উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
পুনশ্চ, ভদন্ত, যে-সকল আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘জগৎ অশাশ্বত’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত, সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
পুনশ্চ, ভদন্ত, যে-সকল আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘জগৎ অনন্ত’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত, সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
পুনশ্চ, ভদন্ত, যে-সকল আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘জগৎ অনন্ত নয়’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত, সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
পুনশ্চ, ভদন্ত, যে-সকল আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘যেই জীব (আত্ম) সেই শরীর’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত, সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
পুনশ্চ, ভদন্ত, যে-সকল আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘যেই জীব সেই শরীর নয়’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত, সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
পুনশ্চ, ভদন্ত, যে-সকল আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘মৃত্যুর পর তথাগত (সত্ত্ব বা জীব) থাকে’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত, সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
পুনশ্চ, ভদন্ত, যে-সকল আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘মৃত্যুর পর তথাগত (সত্ত্ব বা জীব) থাকে’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত, সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
পুনশ্চ, ভদন্ত, যে-সকল আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘মৃত্যুর পর থাকে না’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত, সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
পুনশ্চ, ভদন্ত, যে-সকল আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘মৃত্যুর পর তথাগত থাকে না আবার থাকে’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত, সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
পুনশ্চ, ভদন্ত, যে-সকল আয়ুষ্মান এরূপ বলেন যে ‘মৃত্যুর পর তথাগত থাকেনও না আবার না থাকেন তা-ও না’ এ বিষয় সত্য অন্য সব মিথ্যা। গৃহপতি, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।’ এই দৃষ্টি বা ধারণা আয়ুষ্মানের নিজের অযথার্থ বিবেচনাহেতু উৎপন্ন অথবা অপরের উক্তি অবলম্বনে উৎপন্ন। প্রকৃতপক্ষে সেরূপ দৃষ্টিভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত। যা কিছু ভূত, সংস্কারজাত, চিন্তিত ও কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য। যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ। যা দুঃখ তাতে সেই আয়ুষ্মান অনুরক্ত হন এবং তাতে সেই আয়ুষ্মান উপনীত (আগত) হন।
গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক কর্তৃক এরূপ উক্ত হলে সেই পরিব্রাজকেরা গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে এরূপ বললেন :
“গৃহপতি, আমরা যেই দৃষ্টি পোষণ করি তা আমাদের দ্বারা ব্যাখ্যাত হয়েছে। এখন গৃহপতি, বলুন আপনি কী দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করেন?”
“ভদন্ত, যা কিছু ভূত, (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত) সংস্কারজাত, চিন্তিত, কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য, যা অনিত্য দুঃখ পূর্ণ, যা দুঃখ তা আমার নয়, তাতে আমি নই ও তা আমার আত্মা নহে। ভদন্ত, আমি এরূপ দৃষ্টি বা মতবাদ পোষণ করি।”
“গৃহপতি, যা কিছু ভূত (পরিণতিস্বরূপ ঘটিত), সংস্কারজাত, চিন্তিত কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলস্বরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য, যা অনিত্য তা দুঃখপূর্ণ তাতে গৃহপতি, আপনি অনুরক্ত এবং তাতে গৃহপতি, আপনি উপনীত (আগত)”।
ভদন্ত, যা কিছু ভূত সংস্কারজাত, চিন্তিত, কোনো না কোনো হেতু প্রত্যয়ের ফলসরূপ উদ্ভূত তা অনিত্য, যা অনিত্য দুঃখ পূর্ণ, যা দুঃখ তা আমার নয়, তাতে আমি নই ও তা আমার আত্মা নয়। আমি ইহা এরূপে যথাযথভাবে সম্যক প্রজ্ঞা দ্বারা জ্ঞাত আছি। তার চেয়েও অতিরিক্ত নিঃসরণ যথাভূতভাবে ও প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত আছি।”
গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক কর্তৃক এরূপ উক্ত হলে সেই পরিব্রাজকেরা মৌনাবলম্বন করলেন, হতোদ্যম হলেন, অধোশির, অধোবদন, অনুতপ্ত ও হতবুদ্ধি হয়ে বসে থাকলেন। অতঃপর গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক সেই পরিব্রাজকদের মৌন, হতোদ্যম, অধোশির, অধোবদন, অনুতপ্ত ও তাদের হতবুদ্ধি হয়ে থাকতে দেখে আসন হতে উঠে যেখানে ভগবান অবস্থান করছিলেন সেখানে উপস্থিত হলেন। ভগবান সকাশে উপনীত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একপাশে বসলেন। একান্তে উপবিষ্ট গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের সাথে যা কিছু আলাপ আলোচনা হয়েছে, সে-সমস্ত ভগবানকে জ্ঞাপন করলেন।
ভগবান বললেন, “সাধু, সাধু, গৃহপতি, এরূপই গৃহপতি মূর্খ পুরুষদের যথাসময়ে প্রমাণিত তথ্য দ্বারা উত্তমরূপে নিগৃহিত করা উচিত।”
অতঃপর ভগবান গৃহপতি অনাথপিণ্ডিককে ধর্ম কথায় বললেন, ধর্মকথা গ্রহণ করালেন, ধর্মকথায় উৎসাহিত ও পুলকিত করলেন। অতঃপর গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক ভগবানের নিকট ধর্মকথা শুনে, তা গ্রহণ করে এবং ধর্মকথায় উৎসাহিত ও পুলকিত হয়ে আসন হতে উঠে ভগবানকে অভিবাদন ও প্রদক্ষিণপূর্বক প্রস্থান করলেন। ভগবান গৃহপতি অনাথপিণ্ডিকের গমনের কিয়ৎকাল পরে ভিক্ষুসংঘকে আহ্বান করে বললেন, “হে ভিক্ষুগণ, এই ধর্মবিনয়ে যে ভিক্ষুর উপম্পন্নতা শত বর্ষ, সে এরূপেই অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকদের প্রমাণিত তথ্য দ্বারা উত্তমরূপে নিগৃহিত করতে পারে, যেমনটি গৃহপতি অনাথপিণ্ডিক কর্তৃক করা হয়েছে।” তৃতীয় সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]