“হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান কিন্তু শীলবান নয়; সুতরাং সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ নয়। তাই তার সেই অঙ্গ অবশ্যই পরিপূর্ণ করতে হবে। যখন ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান ও শীলবান হয় তখন সে সেক্ষেত্রে পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান কিন্তু বহুশ্রুত নয়; সুতরাং সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ নয়। তাই তার সেই অঙ্গ অবশ্যই পরিপূর্ণ করতে হবে। তাকে ভাবতে হবে ‘কিরূপে আমি শ্রদ্ধাবান, শীলবান ও বহুশ্রুত হবো?’ ভিক্ষুগণ, যখন ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান ও বহুশ্রুত হয় তখন সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত কিন্তু ধর্মকথিক নয়; সুতরাং সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ নয়। তাই তার সেই অঙ্গ অবশ্যই পরিপূর্ণ করতে হবে। তাকে ভাবতে হবে : ‘কিরূপে আমি শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত এবং ধর্মকথিক হবো?’ ভিক্ষুগণ, যখন ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত এবং ধর্মকথিক হয় তখন সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, কোনো ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক কিন্তু পরিষদে গমনকারী নয়; সুতরাং সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ নয়। তাই তার সেই অঙ্গ অবশ্যই পরিপূর্ণ করতে হবে। তাকে ভাবতে হবে : ‘কিরূপে আমি শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক এবং পরিষদে গমনকারী হবো?’ ভিক্ষুগণ, যখন ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক এবং পরিষদে গমনকারী হয় তখন সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী কিন্তু পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ নয়; সুতরাং সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ নয়। তাই তার সেই অঙ্গ অবশ্যই পরিপূর্ণ করতে হবে। তাকে ভাবতে হবে : ‘কিরূপে আমি শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী এবং পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ হবো?’ ভিক্ষুগণ, যখন ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী এবং পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ হয় তখন সে সেক্ষেত্রে পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ কিন্তু বিনয়ধর নহে; সুতরাং সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ নয়। তাই তার সেই অঙ্গ অবশ্যই পরিপূর্ণ করতে হবে। তাকে ভাবতে হবে : ‘কিরূপে আমি শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ এবং বিনয়ধর হবো?’ ভিক্ষুগণ, যখন ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ এবং বিনয়ধর হয় তখন সে সেক্ষেত্রে পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ, বিনয়ধর কিন্তু আরণ্যিক তথা নির্জন শয্যাসনে অনুরক্ত নহে; সুতরাং সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ নয়। তাই তার সেই অঙ্গ অবশ্যই পরিপূর্ণ করতে হবে। তাকে ভাবতে হবে : ‘কিরূপে আমি শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ, বিনয়ধর এবং আরণ্যিক তথা নির্জন শয্যাসনে অনুরক্ত হবো?’ ভিক্ষুগণ, যখন ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ, বিনয়ধর এবং আরণ্যিক তথা নির্জন স্থানে অনুরক্ত হয় তখন সে সেক্ষেত্রে পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ, বিনয়ধর, আরণ্যিক তথা নির্জন শয্যাসনে অনুরক্ত কিন্তু রূপ অতিক্রমপূর্বক যেই শান্ত বিমোক্ষ অরূপ্য অবস্থা আছে, সেই অবস্থা সে কায় দ্বারা উপলব্ধি করে অবস্থান করে না; সুতরাং সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ নয়। তাই তার সেই অঙ্গ অবশ্যই পরিপূর্ণ করতে হবে। তাকে ভাবতে হবে : ‘কিরূপে আমি শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ, বিনয়ধর, আরণ্যিক তথা নির্জন শয্যাসনে অনুরক্ত এবং রূপ-আরূপ্য অতিক্রমে কায়িক শান্তি অর্জন করে অবস্থান করব?’ ভিক্ষুগণ, যখন ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ, বিনয়ধর এবং আরণ্যিক তথা নির্জন স্থানে অনুরক্ত এবং রূপ-অরূপ্য অতিক্রমে কায়িক শান্তি অর্জন করে অবস্থান করে তখন সে সেক্ষেত্রে পরিপূর্ণ হয়।
ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ, বিনয়ধর, আরণ্যিক তথা নির্জন শয্যাসনে অনুরক্ত এবং রূপ-আরূপ্য অতিক্রমে কায়িক শান্তি অর্জন করে অবস্থান করে কিন্তু ইহজীবনে আসবক্ষয়ে অনাসব এবং স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি প্রত্যক্ষ করে ও লাভ করে অবস্থান করে না; সুতরাং সেক্ষেত্রে সে পরিপূর্ণ নয়। তাই তার সেই অঙ্গ অবশ্যই পরিপূর্ণ করতে হবে। তাকে ভাবতে হবে : ‘কিরূপে আমি শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ, বিনয়ধর, আরণ্যিক তথা নির্জন শয্যাসনে অনুরক্ত হবো এবং রূপ-আরূপ্য অতিক্রমে কায়িক শান্তি অর্জন করে অবস্থান করব এবং আসবক্ষয়ে অনাসব ও ইহজীবনে স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি প্রত্যক্ষ করে লাভ করে অবস্থান করব?’ ভিক্ষুগণ, যখন ভিক্ষু শ্রদ্ধাবান, শীলবান, বহুশ্রুত, ধর্মকথিক, পরিষদে গমনকারী, পরিষদের মধ্যে ধর্ম প্রকাশে অভিজ্ঞ, বিনয়ধর, আরণ্যিক তথা নির্জন শয্যাসনে অনুরক্ত, রূপ-আরূপ্য অতিক্রমে কায়িক শান্তি অর্জন করে অবস্থান করে এবং ইহজীবনে আসবক্ষয়ে অনাসব এবং স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা চিত্তবিমুক্তি ও প্রজ্ঞাবিমুক্তি প্রত্যক্ষ করে ও লাভ করে অবস্থান করে তখন সে সেক্ষেত্রে পরিপূর্ণ হয়। ভিক্ষুগণ, এই দশটি গুণধর্ম সমৃদ্ধ ভিক্ষু সকল অঙ্গসমন্বিত হয় এবং সকলের নিকট প্রসাদনীয় হয়।” নবম সূত্র।
ব্যাখ্যা [০]