অতঃপর আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে বসলেন। একপাশে বসার পর আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানকে এরূপ বললেন :
“সত্যিই কি ভন্তে, ভিক্ষুর এরূপ সমাধি অর্জন হয়ে থাকে, যার দরুন তিনি উপলব্ধিক্ষম হয়েও চক্ষুতে মনোযোগ দেন না, রূপ, কর্ণ, শব্দ, ঘ্রাণ, গন্ধ, জিহ্বা, রস, কায় ও স্পষ্টব্য বিষয়েও মনোযোগ দেন না, আপ বা জলের প্রতি মনোযোগ দেন না, তেজ বা অগ্নি, বাতাসের প্রতিও মনোযোগ দেন না; আকাশ-অনন্তায়তনে মনোযোগ দেন না, বিজ্ঞান-অনন্ত আয়তনে, আকিঞ্চনায়তনে, নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তনেও মনোযোগ দেন না; ইহলোকের প্রতি মনোযোগ দেন না, পরলোকের প্রতিও মনোযোগ দেন না এবং যা কিছু দৃষ্ট, শ্রুত, অনুমিত, বিজ্ঞাত, অধিগত, পর্যেষিত এবং মনের দ্বারা বিচিন্তিত বিষয়েও সে মনোযোগ না দিয়ে শুধুই মনোযোগসম্পন্ন হন?”
“হে আনন্দ, তা যথার্থই যে ভিক্ষুর এরূপ সমাধি অর্জন হয়ে থাকে, যার দরুন সে উপলব্ধিক্ষম হয়েও চক্ষুতে মনোযোগ দেয় না, রূপ, কর্ণ, শব্দ, ঘ্রাণ, গন্ধ, জিহ্বা, রস, কায় ও স্পষ্টব্য বিষয়েও মনোযোগ দেয় না; আপ বা জলের প্রতি মনোযোগ দেয় না, তেজ বা অগ্নি, বাতাসের প্রতিও মনোযোগ দেয় না; আকাশ-অনন্তায়তনে মনোযোগ দেয় না, বিজ্ঞান-অনন্ত আয়তনে, আকিঞ্চনায়তনে, নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তনেও মনোযোগ দেয় না; ইহলোকের প্রতি মনোযোগ দেয় না, পরলোকের প্রতিও মনোযোগ দেয় না এবং যা কিছু দৃষ্ট, শ্রুত, অনুমিত, বিজ্ঞাত, অধিগত, পর্যেষিত এবং মনের দ্বারা বিচিন্তিত বিষয়েও সে মনোযোগ না দিয়ে শুধুই মনোযোগসম্পন্ন হয়।”
“ভন্তে, কিরূপে ভিক্ষুর এবম্বিধ সমাধি অর্জন হয়ে থাকে, যার দরুন তিনি উপলব্ধিক্ষম হয়েও চক্ষুতে মনোযোগ দেন না, রূপ, কর্ণ, শব্দ, ঘ্রাণ, গন্ধ, জিহ্বা, রস, কায় ও স্পষ্টব্য বিষয়েও মনোযোগ দেন না; আপ বা জলের প্রতি মনোযোগ দেন না, তেজ বা অগ্নি, বাতাসের প্রতিও মনোযোগ দেন না; আকাশ-অনন্তায়তনে মনোযোগ দেন না, বিজ্ঞান-অনন্ত আয়তনে, আকিঞ্চনায়তনে, নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তনেও মনোযোগ দেন না; ইহলোকের প্রতি মনোযোগ দেন না, পরলোকের প্রতিও মনোযোগ দেন না এবং যা কিছু দৃষ্ট, শ্রুত, অনুমিত, বিজ্ঞাত, অধিগত, পর্যেষিত এবং মনের দ্বারা বিচিন্তিত বিষয়েও সে মনোযোগ না দিয়ে শুধুই মনোযোগসম্পন্ন হন?”
“আনন্দ, এক্ষেত্রে ভিক্ষু এরূপ সংজ্ঞাসম্পন্ন হয়; যথা : ‘সর্ববিধ সংস্কারের নিবৃতি, সর্ববিধ উপধির (পুনর্জন্মের বা আসক্তি) পরিত্যাগ, তৃষ্ণার ক্ষয়, বিরাগ, নিরোধ ও নির্বাণ হচ্ছে শান্ত, প্রণীত।” এরূপেই আনন্দ, ভিক্ষুর সেরূপ সমাধি অর্জন হয়ে থাকে, যার দরুন সে উপলব্ধিক্ষম হয়েও চক্ষুতে মনোযোগ দেন না, রূপ, কর্ণ, শব্দ, ঘ্রাণ, গন্ধ, জিহ্বা, রস, কায় ও স্পষ্টব্য বিষয়েও মনোযোগ দেন না; আপ বা জলের প্রতি মনোযোগ দেন না, তেজ বা অগ্নি, বাতাসের প্রতিও মনোযোগ দেন না; আকাশ-অনন্তায়তনে মনোযোগ দেন না, বিজ্ঞান-অনন্ত আয়তনে, আকিঞ্চনায়তনে, নৈবসংজ্ঞা-না-অসংজ্ঞায়তনেও মনোযোগ দেন না; ইহলোকের প্রতি মনোযোগ দেন না, পরলোকের প্রতিও মনোযোগ দেন না এবং যা কিছু দৃষ্ট, শ্রুত, অনুমিত, বিজ্ঞাত, অধিগত, পর্যেষিত এবং মনের দ্বারা বিচিন্তিত বিষয়েও সে মনোযোগ না দিয়ে শুধুই মনোযোগসম্পন্ন হয়।”
ব্যাখ্যা [০]