“ভিক্ষুগণ, আমি তোমাদিগকে অশ্বের মধ্যে তিন প্রকার সুমার্জিত অশ্ব এবং মানবের মধ্যে তিন প্রকার সুমার্জিত মানব সম্পর্কে দেশনা করিব। তোমরা শ্রবণ কর, মনোযোগ-সহকারে শ্রবণ কর, আমি দেশনা করিব।” ভিক্ষুগণ, “হ্যাঁ ভন্তে,” বলিয়া উত্তর দিলেন। ভগবান বলেন, “ভদ্র” অশ্ব কীরূপ? ভিক্ষুগণ, আমি তোমাদিগকে অশ্বের মধ্যে তিন প্রকার অশ্ব শাবক এবং মানবের মধ্যে তিন প্রকার মনুষ্য শাবকের বিষয় শিক্ষা দিব। তোমরা শ্রবণ কর, আগ্রহ-সহকারে মনঃসংযোগ কর, আমি ভাষণ করিব।” ভিক্ষুগণ “হ্যাঁ ভন্তে,” বলিয়া ভগবানকে উত্তর দেন। ভগবান বলেন, “ভিক্ষুগণ, অশ্বদের তিন শাবক কিরূপ? কোনো কোনো অশ্বশাবক গতিবান কিন্তু বর্ণ সম্পন্ন নহে, উত্তম সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে। কোনো কোনো অশ্বশাবক এই তিনটি গুণেই গুণান্বিত। ভিক্ষুগণ, এই তিন প্রকার অশ্বশাবক। ভিক্ষুগণ, মনুষ্যদের মধ্যে তিন প্রকার শাবক কিরূপ? ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো যুবক একইভাবে অনুরূপ গুণসম্পন্ন।
ভিক্ষুগণ, ত্রিবিধ সুমার্জিত মানব গতিসম্পন্ন কিন্তু বর্ণসম্পন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে। কেহ কেহ গতিসম্পন্ন, বর্ণসম্পন্ন কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে। পুনঃ ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো সুমার্জিত মানব তিনটি গুণেই গুণান্বিত।
ভিক্ষুগণ, কোন প্রকার সুমার্জিত মানব গতিসম্পন্ন কিন্তু বর্ণসম্পন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে? ভিক্ষুগণ, একজন ভিক্ষু পঞ্চ সংযোজন (বন্ধন) যেইগুলি নীচতর জগতে আবদ্ধ করিয়া রাখে। সেইগুলি ধ্বংস করিয়া আপনা আপনি জাত হয়, তথা হইতে পরিনির্বাণ লাভ করে। সে সেখান হইতে আর প্রত্যাবর্তন করে না। আমি ইহাকে তাহার “গতি” বলিয়া অভিহিত করি। যদি সে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হয়, অভিধর্ম এবং অভিবিনয় সম্পর্কে সে ইতস্তত করে। সমাধান করিতে পারে না। আমি ইহাকে তাহার “বর্ণহীনতা” বলিয়া অভিহিত করি। মনে কর যে সে চীবর-পিণ্ডপাত-শয্যাসন-ভৈষজ্য-পরিষ্কার লাভে ব্যর্থ, আমি ইহাকে তাহার “উত্তম সামঞ্জস্যহীনতা” বলিয়া অভিহিত করি। এইভাবে ভিক্ষুগণ, মানবের মধ্যে গতিসম্পন্ন শাবক ও বর্ণহীনতা, উত্তম সামঞ্জস্যহীনতা প্রত্যক্ষ করি।
ভিক্ষুগণ, কিভাবে সুমার্জিত মানব গতিসম্পন্ন ও বর্ণসম্পন্ন হয়, সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না? ভিক্ষুগণ, একজন ভিক্ষু পঞ্চ সংযোজন (বন্ধন) যেইগুলি নীচতর জগতে আবদ্ধ করিয়া রাখে, যেইগুলি ধ্বংস করিয়া আপনা আপনি জাত হয়, তথা হইতে পরিনির্বাণ লাভ করে। সে সেখান হইতে আর প্রত্যাবর্তন করে না। আমি ইহাকে তাহার “গতি” বলিয়া অভিহিত করি। যদি সে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হয়, অভিধর্ম এবং অভিবিনয় সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হয়, সে ইহা সমাধান করিতে পারে, ইতস্তত করে না। আমি ইহাকে তাহার “বর্ণ” বলিয়া অভিহিত করি। তবুও সে চীবর-পিণ্ডপাত-শয্যাসন-ভৈষজ্য-পরিষ্কার লাভ করে না। আমি ইহাকে তাহার “সামঞ্জস্যপূর্ণতা” বলিয়া অভিহিত করি। এইভাবে ভিক্ষুগণ, মানুষ গতিসম্পন্ন ও বর্ণসম্পন্ন হয় কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে।
ভিক্ষুগণ, কিভাবে মানুষ গতিসম্পন্ন, বর্ণসম্পন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়? ভিক্ষুগণ, একজন ভিক্ষু পঞ্চ সংযোজন (বন্ধন) সেইগুলি নীচতর জগতে আবদ্ধ করিয়া রাখে। সেইগুলি ধ্বংস করিয়া আপনা আপনি জাত হয়, তথা হইতে পরিনির্বাণ লাভ করে। সে সেখান হইতে আর প্রত্যাবর্তন করে না। আমি ইহাকে তাহার “গতি” বলিয়া অভিহিত করি। যদি সে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হয়, যদি সে অভিধর্ম এবং অভিবিনয় সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হয়, সে ইহা সমাধান করিতে পারে, ইতস্তত করে না। আমি ইহাকে তাহার “বর্ণ” বলিয়া অভিহিত করি। তবুও সে চীবর-পিণ্ডপাত-শয্যাসন-ভৈষজ্য-পরিষ্কার লাভ করে। আমি ইহাকে তাহার সামঞ্জস্যপূর্ণতা বলিয়া অভিহিত করি। এইভাবে ভিক্ষুগণ, সে তিনটি গুণসম্পন্ন হয়। ভিক্ষুগণ, এইরূপই তিন প্রকার সুমার্জিত মানব।”
ব্যাখ্যা [০]