লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

পরিব্রাজক সূত্র

“অতঃপর জনৈক ব্রাহ্মণ পরিব্রাজক ভগবানকে দর্শন করিতে আসেন। জনৈক ব্রাহ্মণ পরিব্রাজক ভগবান যেখানে ছিলেন তথায় উপস্থিত হইয়া ভগবানকে অভিবাদন করিয়া একপ্রান্তে উপবেশন করেন। একপ্রান্তে উপবিষ্ট ব্রাহ্মণ ভগবানকে বলেন, “ভবৎ গৌতম, ধর্ম স্বয়ং দৃষ্ট।” হে ব্রাহ্মণ, যে ব্যক্তি দোষে (দ্বেষে) দুষ্ট, দোষানুরক্ত ব্যক্তি তাহার নিজের বিঘ্ন চিন্তা করে, নিজের ও অপরের বিঘ্ন চিন্তা করে এবং চৈতসিক দুঃখ দৌর্মনস্য প্রত্যক্ষ করে। যদি দ্বেষ পরিত্যক্ত হয় তাহা হইলে সে তদ্রুপ চিন্তা করে না এবং দুঃখ-দৌর্মনস্য ভোগ করে না।” “ব্রাহ্মণ, রাগানুরক্ত, রাগাভিভূত, রাগের দ্বারা মোহিত ব্যক্তি কায়িক, বাচনিক, মানসিক দুষ্কর্ম আচরণ করে। রাগ (কামনা) পরিত্যক্ত হইলে কায়িক, বাচনিক, মানসিক কোনোভাবেই দুষ্কর্ম আচরণ করে না। হে ব্রাহ্মণ, রাগানুরক্ত, রাগাভিভূত ব্যক্তি নিজের মঙ্গল জানে না, পরেরও মঙ্গল জানে না, নিজের ও পরের উভয়ের মঙ্গল জানে না। রাগ পরিত্যক্ত হইলে নিজের মঙ্গল জানে, পরের মঙ্গলও জানে, নিজের ও পরের উভয়ের মঙ্গল জানে। এইরূপেই হে ব্রাহ্মণ, ধর্ম স্বয়ং দৃষ্ট। যে ব্যক্তি দ্বেষে দুষ্ট দ্বেষানুরক্ত ব্যক্তি তাহার নিজের বিঘ্ন চিন্তা করে, নিজের ও অপরের বিঘ্ন চিন্তা করে এবং চৈতসিক দুঃখ-দৌর্মনস্য প্রত্যক্ষ করে। যদি দ্বেষ পরিত্যক্ত হয় তাহা হইলে সে তদ্রূপ চিন্তা করে না এবং দুঃখ-দৌর্মনস্য ভোগ করে না। এইরূপেই ব্রাহ্মণ, ধর্ম স্বয়ং দৃষ্ট।” “ব্রাহ্মণ, দ্বেষে দুষ্ট, দ্বেষানুরক্ত ব্যক্তি নিজের মঙ্গল জানে না, পরেরও মঙ্গল জানে না, নিজের ও পরের উভয়ের মঙ্গল জানে না। দ্বেষ পরিত্যক্ত হইলে নিজের মঙ্গল জানে, পরের মঙ্গলও জানে, নিজের ও পরের উভয়ের মঙ্গল জানে।” “ব্রাহ্মণ, মোহিত, মোহাভিভূত, মোহানুরক্ত ব্যক্তি দ্বেষানুরক্ত ব্যক্তি তাহার নিজের বিঘ্ন চিন্তা করে, নিজের ও অপরের বিঘ্ন চিন্তা করে এবং চৈতসিক দুঃখ দৌর্মনস্য প্রত্যক্ষ করে। যদি দ্বেষ পরিত্যক্ত হয় তাহা হইলে সে তদ্রূপ চিন্তা করে না এবং দুঃখ-দৌর্মনস্য ভোগ করে না। হে ব্রাহ্মণ, মোহাভিভূত, মোহানুরক্ত ব্যক্তি কায়িক, বাচনিক, মানসিক দুষ্কর্ম আচরণ করে। মোহ পরিত্যক্ত হইলে কায়িক, বাচনিক, মানসিক কোনোভাবেই দুষ্কর্ম আচরণ করে না। হে ব্রাহ্মণ, মোহিত, মোহানুরক্ত, মোহাভিভূত ব্যক্তি নিজের মঙ্গল জানে না, পরেরও মঙ্গল জানে না, নিজের ও পরের উভয়ের মঙ্গল জানে না। মোহ পরিত্যক্ত হইলে নিজের মঙ্গল জানে, পরের মঙ্গলও জানে, নিজের ও পরের উভয়ের মঙ্গল জানে। এইরূপই হে ব্রাহ্মণ, ধর্ম স্বয়ং দৃষ্ট, ধর্ম অকালিক, আস এবং দেখ বলিয়া আহ্বানের যোগ্য, উপনায়িক, বিজ্ঞ ব্যক্তির উপলব্ধিযোগ্য।” “ভবৎ গৌতম, আশ্চর্য, অদ্ভুত! ভবৎ গৌতম, যেমন অধোমুখীকে ঊর্ধ্বমুখী, আবৃতকে অনাবৃত, পথভ্রান্তকে পথপ্রদর্শন বা অন্ধকারে তৈলপ্রদীপ ধারণ করিলে চক্ষুষ্মান রূপ দর্শন করে, তদ্রুপ ভবৎ গৌতম বিভিন্নভাবে ধর্ম পরিবেশন করেন। ভবৎ গৌতম, আমাকে আজীবন শরণাগত উপাসক হিসেবে গ্রহণ করুন।”

ব্যাখ্যা [০]