লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

নিব্বুত সূত্র

“তৎপর জানুস্‌সোনি নামে জনৈক ব্রাহ্মণ ভগবানকে দর্শন করিতে আসেন। জানুস্সোনি নামে জনৈক ব্রাহ্মণ ভগবান যেখানে ছিলেন তথায় উপস্থিত হইয়া ভগবানকে অভিবাদন করিয়া একপ্রান্তে উপবেশন করেন। একপ্রান্তে উপবিষ্ট ব্রাহ্মণ ভগবানকে বলিলেন, “ভবৎ গৌতম, নির্বাণ স্বয়ং ইহজীবনেই দৃষ্ট হয় বলিয়া কথিত। ভবৎ গৌতম, নির্বাণ কিরূপে স্বয়ং ইহজীবনেই দৃষ্ট, কিভাবে? ইহা অকালিক (সময়ের ব্যাপার নহে), আস, দেখ বলিয়া আহ্বানের যোগ্য, সমৃদ্ধির পথে গমনকারী (বিকাশমুখী), যাহা বিজ্ঞ কর্তৃক উপলব্ধিযোগ্য।” “ব্রাহ্মণ, রাগাভিভূত (কামাভিভূত), অনুরক্ত, তদ্বারা মোহিত ব্যক্তি তাহার নিজের বিঘ্ন চিন্তা করে, নিজের ও অপরের বিঘ্ন চিন্তা করে এবং চৈতসিক দুঃখ-দৌর্মনস্য প্রত্যক্ষ করে, যদি রাগ (কামনা) পরিত্যক্ত হয় তাহা হইলে সে তদ্রুপ চিন্তা করে না এবং দুঃখ-দৌর্মনস্য ভোগ করে না। এইরূপেই ব্রাহ্মণ, নির্বাণ ইহজীবনেই দৃষ্ট। নির্বাণ অকালিক (সময়ের ব্যাপার নহে), আস, দেখ বলিয়া আহ্বানের যোগ্য, সমৃদ্ধির পথে গমনকারী (বিকাশমুখী), যাহা বিজ্ঞ কর্তৃক উপলব্ধিযোগ্য। ব্রাহ্মণ, যে ব্যক্তি দ্বেষে দুষ্ট দোষানুরক্ত ব্যক্তি তাহার নিজের বিঘ্ন চিন্তা করে, নিজের ও অপরের বিঘ্ন চিন্তা করে এবং চৈতসিক দুঃখ-দৌর্মনস্য প্রত্যক্ষ করে, যদি রাগ (কামনা) পরিত্যক্ত হয় তাহা হইলে সে তদ্রুপ চিন্তা করে না এবং দুঃখ দৌর্মনস্য ভোগ করে না। এই রূপেই ব্রাহ্মণ, নির্বাণ ইহজীবনেই দৃষ্ট, নির্বাণ অকালিক আস এবং দেখ বলিয়া আহ্বানের যোগ্য, উপনায়িক, বিজ্ঞ ব্যক্তির উপলব্ধিযোগ্য। ব্রাহ্মণ, মোহে মোহিত ব্যক্তি তাহার নিজের বিঘ্ন চিন্তা করে, নিজের ও অপরের বিঘ্ন চিন্তা করে এবং চৈতসিক দুঃখ-দৌর্মনস্য প্রত্যক্ষ করে, যদি রাগ (কামনা) পরিত্যক্ত হয় তাহা হইলে সে তদ্রুপ চিন্তা করে না এবং দুঃখ দৌর্মনস্য ভোগ করে না। এইরূপেই ব্রাহ্মণ, নির্বাণ স্বয়ং দৃষ্ট, সন্দৃষ্টিক পদ্ধতি, সময়ের ব্যাপার নহে, কিন্তু আসিয়া পরীক্ষা করার জন্য আহ্বান জানাইয়া, যাহা গন্তব্য স্থানে নিয়া যায়, যাহা প্রত্যক্ষ বিজ্ঞ ব্যক্তির অনুভবযোগ্য। যেহেতু ব্রাহ্মণ, যখন অনবশেষ এই রাগক্ষয়, দ্বেষক্ষয়, মোহক্ষয় প্রত্যক্ষকৃত হয় তাহাতেই ব্রাহ্মণ, নির্বাণ স্বয়ং দৃষ্ট, অকালিক, আস এবং দেখ বলিয়া আহ্বানের যোগ্য। “ভবৎ গৌতম, আশ্চর্য! অদ্ভুত! ভবৎ গৌতম, যেমন অধোমুখীকে ঊর্ধ্বমুখী, আবৃতকে অনাবৃত, পথভ্রান্তকে পথপ্রদর্শন বা অন্ধকারে তৈলপ্রদীপ ধারণ করিলে চক্ষুষ্মান রূপ দর্শন করে, তদ্রুপ ভবৎ গৌতম বিভিন্নভাবে ধর্ম পরিবেশন করেন। ভবৎ গৌতম, আমাকে আমরণ শরণাগত উপাসক হিসেবে গ্রহণ করুন।”

ব্যাখ্যা [০]