লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২০]

তীর্থিয়াদি সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, তীর্থিক সম্প্রদায়ের এই তিনটি ভিত্তি জ্ঞানী ব্যক্তি কর্তৃক কঠোরভাবে প্রশ্ন, অনুসন্ধান এবং আলোচনা করা হইলে অক্রিয়া (অকার্য) বাদ (মতবাদ) প্রতিষ্ঠা করে। তিন কী কী?”

কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ আছেন যাঁহারা এইরূপ শিক্ষা দেন, এইরূপ দৃষ্টি পোষণ করেন : পুরুষ সুখ বা দুঃখ বা সুখও না দুঃখও না (সুখ-দুঃখ নিরপেক্ষতা) এইরূপ যাহা কিছু অনুভব করে সবকিছু পূর্বকর্মহেতু। ভিক্ষুগণ, অন্য কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এইরূপ বাদী, এইরূপ দৃষ্টি পোষণ করেন : পুরুষ পুদ্‌গল সুখ বা দুঃখ, বা অদুঃখ-অসুখ যাহা কিছু অনূভব করে সবকিছু ঈশ্বর নির্মাণের হেতু (ঈশ্বরই সবকিছু সৃষ্টির হেতু)। ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এইরূপ বাদী, এইরূপ দৃষ্টি পোষণ করেন : পুরুষ পুদ্‌গল সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ যাহা কিছু অনুভব করে সবকিছু হেতুবিহীন-প্রত্যয়বিহীন (কারণ-শর্তহীন)

হে ভিক্ষুগণ, যে সকল শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এইরূপ শিক্ষা দেন, এইরূপ দৃষ্টি পোষণ করেন : পুরুষ পুদ্‌গল সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ যাহা কিছু প্রত্যক্ষ করে সবকিছু পূর্বকর্ম হেতু, আমি তাঁহাদের নিকট উপস্থিত হইয়া এইরূপ বলি : “মহাশয়গণ, ইহা কি সত্য আপনারা যে বলিয়া থাকেন, এইরূপ দৃষ্টি পোষণ করেন, পুরুষ পুদ্‌গল সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ যাহা কিছু অনুভব করে সবকিছু পূর্বকর্ম হেতু?” আমা দ্বারা এইভাবে জিজ্ঞাসিত হইয়া তাঁহারা আমাকে উত্তর দেন : “হ্যাঁ, আমরা ইহা জানি।” তখন আমি তাঁহাদিগকে বলি : “তাহা হইলে পূর্বকর্ম হেতু মানুষ প্রাণিহত্যাকারী, চোর, ভ্রষ্ট, মিথ্যাবাদী, কর্কশ ভাষী, সম্প্রলাপী (বৃথা আলাপী), লোভী, ঈর্ষাপরায়ণ, মিথ্যাদৃষ্টিপরায়ণ হইবে। এইরূপে অত্যাবশ্যক কারণ হিসেবে যাহারা পূর্বকর্মের ওপর নির্ভর করে তাহাদের এই কর্ম করার বা কার্য হইতে বিরত হওয়ার কোনো ইচ্ছা, প্রচেষ্টা বা প্রয়োজনীয়তা কিছুই নাই। সুতরাং বাস্তবে কর্ম বা অকর্মের প্রয়োজনীয়তা, অবিদ্যমানতা হেতু আপনাদের ক্ষেত্রে “শ্রমণ” শব্দ যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রযোজ্য হইতে পারে না, যেহেতু আপনারা মনোবৃত্তি অচকিত বিহ্বলতায় বাস করেন।” হে ভিক্ষুগণ, যে সকল সহধর্মী শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এইরূপ বাদী, এইরূপ দৃষ্টি পোষণ করেন তাঁহাদের প্রতি আমার এই যুক্তিসঙ্গত দ্বিতীয় তিরস্কার।

পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, যে সকল শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এইরূপ বাদী, এইরূপ দৃষ্টি পোষণ করেন : পুরুষ পুদ্‌গল সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ বা অসুখ যাহা কিছু অনুভব করে সব কিছু ঈশ্বরের সৃষ্টি হেতু, আমি তাঁহাদের নিকট উপস্থিত হইয়া এইরূপ জিজ্ঞাসা করি, “মহাশয়গণ, ইহা কি সত্য যে, আপনারা এই মতবাদ শিক্ষা দেন, এই দৃষ্টি পোষণ করেন যে, পুরুষ পুদ্‌গল সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ যাহা কিছু অনুভব করে সবকিছু ঈশ্বরের সৃষ্টি হেতু? আমা দ্বারা এইরূপ জিজ্ঞাসিত হইয়া তাঁহারা উত্তর দেন : ‘হ্যাঁ, আমরা এইরূপ জানি।’”

তখন আমি তাঁহাদিগকে বলি : “তাঁহা হইলে ঈশ্বরের সৃষ্টিবশত মানুষ হত্যাকারী, চোর, ভ্রষ্ট, মিথ্যাবাদী, কর্কশ ভাষী, সম্প্রলাপী (বৃথা আলাপী), লোভী, ঈর্ষাপরায়ণ, মিথ্যাদৃষ্টিপরায়ণ হইবে। ভিক্ষুগণ, এইরূপে যাহারা সৃষ্টির মূল কারণ হিসেবে ঈশ্বরের উপর নির্ভর করে এই কার্য করার বা কার্য হইতে বিরত হওয়ার কোনো ইচ্ছা, প্রচেষ্টা বা প্রয়োজনীয়তা কিছুই নাই। সুতরাং বাস্তবে কর্ম বা অকর্মের অবিদ্যমানতা হেতু যুক্তিসঙ্গতভাবে ‘শ্রমণ’ শব্দটি আপনাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইতে পারে না। যেহেতু আপনারা মনোবৃত্তি অচকিত অবস্থায় বাস করেন।” ভিক্ষুগণ, সেইসব সহধর্মী শ্রমণ-ব্রাহ্মণ যাঁহারা এইরূপ বাদী, এইরূপ দৃষ্টি পোষণকারী তাহাদের প্রতি আমার এই যুক্তিসঙ্গত দ্বিতীয় তিরস্কার।

হে ভিক্ষুগণ, যে সকল শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এইরূপ বাদী, এইরূপ দৃষ্টি পোষণ করেন : পুরুষ পুদ্‌গল সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ যাহা কিছু অনুভব করে তাহা কারণহীন, শর্তহীন। আমি তাঁহাদের নিকট উপস্থিত হইয়া বলি : “মহাশয়গণ ইহা কি সত্য যে, আপনারা এই মতবাদী, এই দৃষ্টি পোষণ করেন যে পুরুষ পুদ্‌গল সুখ বা দুঃখ বা অদুঃখ-অসুখ তাহা কারণহীন, শর্তহীন?” আমা দ্বারা এইরূপ জিজ্ঞাসিত হইয়া তাঁহারা উত্তর দেন, “হ্যাঁ, আমরা এইরূপ জানি।”

তখন আমি তাঁহাদিগকে বলি : “তাহা হইলে মহাশয়গণ, আদৌ কারণহীন, শর্তহীনবশত মানুষ হত্যাকারী, চোর, ভ্রষ্ট, মিথ্যাবাদী, কর্কশ ভাষী, সম্প্রলাপী (বৃথা আলাপী), লোভী, ঈর্ষাপরায়ণ, মিথ্যাদৃষ্টিপরায়ণ হইবে। এইরূপে মূল কারণ হিসেবে যাঁহারা কারণবিহীন, শর্তহীনতায় নির্ভর করে তাঁহাদের এই কার্য করার বা কার্য হইতে বিরত হওয়ার কোনো ইচ্ছা, প্রচেষ্টা বা প্রয়োজনীয়তা কিছুই নাই। সুতরাং বাস্তবিক পক্ষে কর্ম বা অকর্মের প্রয়োজনীয়তা অবিদ্যমানতা হেতু আপনাদের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গতভাবে ‘শ্রমণ’ শব্দটি প্রযোজ্য হইতে পারে না। যেহেতু আপনারা মনোবৃত্তি অচকিত বিহ্বলতায় বাস করেন।” হে ভিক্ষুগণ, সেইসব সহধর্মী শ্রমণ-ব্রাহ্মণ যাঁহারা এইরূপ বাদী এইরূপ দৃষ্টি পোষণ করেন তাঁহাদের প্রতি আমার এই তৃতীয় যুক্তিসঙ্গত তিরস্কার। হে ভিক্ষুগণ, তীর্থিক সম্প্রদায়ের এই তিনটি বিষয় জ্ঞানী ব্যক্তি কর্তৃক প্রশ্ন, অনুসন্ধান ও আলোচনা করা হইলে অক্রিয়াবাদই প্রতিষ্ঠা করে।

হে ভিক্ষুগণ, আমি যে ধর্ম প্রচার করি তাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত। ভিক্ষুগণ, আমাকর্তৃক দেশিত বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত ধর্ম কিরূপ? ভিক্ষুগণ, আমাকর্তৃক দেশিত ধর্ম এই ষড়ধাতু যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত। ভিক্ষুগণ, আমাকর্তৃক দেশিত ধর্ম এই ষড় স্পর্শায়তন যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত। ভিক্ষুগণ, আমাকর্তৃক দেশিত এই অষ্টাদশ মনোপবিচার ধর্ম যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত। ভিক্ষুগণ, আমাকর্তৃক দেশিত ধর্ম এই চারি আর্য সত্য যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত।

হে ভিক্ষুগণ, আমাকর্তৃক দেশিত ষড় ধাতু যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত, কোন সম্পর্কে ষড় ধাতুর কথা বলিয়াছি? ষড় ধাতু হইল-পৃথিবীধাতু, জলধাতু, তাপধাতু, বায়ুধাতু, আকাশধাতু, বিজ্ঞানধাতু। ভিক্ষুগণ, এই ষড় ধাতু কর্তৃক দেশিত যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত যাহা আমি এই উদ্দেশ্যে বলিয়াছি।

ভিক্ষুগণ, আমাকর্তৃক ষড় স্পর্শায়তন দেশিত হইয়াছে যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত। কোন ব্যাপারে ইহা বলা হইয়াছে? ছয় স্পর্শায়তন হইল-চক্ষু স্পর্শায়তন, শ্রোত্র স্পর্শায়তন, ঘ্রাণ স্পর্শায়তন, জিহ্বা স্পর্শায়তন, কায় স্পর্শায়তন, মন স্পর্শায়তন। ভিক্ষুগণ, এই ষড় স্পর্শায়তন ধর্ম আমাকর্তৃক দেশিত যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত যাহা আমি এই উদ্দেশে বলিয়াছি।

হে ভিক্ষুগণ, আমাকর্তৃক এই অষ্টাদশ মনোপবিচার ধর্ম দেশিত হইয়াছে যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত। ইহা কোন কারণে বলা হইয়াছে? চক্ষু দ্বারা রূপ দর্শন করিয়া দর্শনকারীর বিবেচনার বিষয় হইল রূপ, তাহা আনন্দজনক, দুঃখজনক বা উপেক্ষনীয় যাহাই হউক না কেন। শ্রোত্র দ্বারা শব্দ শ্রবণ করিয়া শ্রবণকারীর বিবেচনার বিষয় হইল শব্দ, তাহা আনন্দজনক, দুঃখজনক বা উপেক্ষনীয় যাহাই হউক না কেন। ঘ্রাণের দ্বারা গন্ধ আঘ্রাণ করিয়া আঘ্রাণকারীর বিবেচনার বিষয় হইল গন্ধ, তাহা আনন্দজনক, দুঃখজনক বা উপেক্ষনীয় যাহাই হউক না কেন। জিহ্বা দ্বারা রস আস্বাদন করিয়া আস্বাদনকারীর বিবেচনার বিষয় হইল রস, তাহা আনন্দজনক, দুঃখজনক বা উপেক্ষনীয় যাহাই হউক না কেন। কায়ের দ্বারা স্পৃষ্ট হইয়া স্পর্শকারীর বিবেচনার বিষয় হইল স্পর্শ, তাহা আনন্দজনক, দুঃখজনক বা উপেক্ষনীয় যাহাই হউক না কেন। মনের দ্বারা ধর্ম জ্ঞাত হইয়া জ্ঞাতার বিবেচনার বিষয় হইল ধর্ম-দর্শন, তাহা আনন্দজনক, দুঃখজনক, উপেক্ষামূলক যাহাই হউক না কেন। ভিক্ষুগণ, অষ্টাদশ মনোপবিচার ধর্ম বলিতে আমি ইহাই বুঝিয়া থাকি যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত।

হে ভিক্ষুগণ, এই চারি আর্যসত্য আমাকর্তৃক দেশিত ধর্ম যাহা বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দনীয়, অতিরস্কৃত। কোন উপলক্ষে আমি ইহা উল্লেখ করিয়াছি। ভিক্ষুগণ, ষড় ধাতুর উপর করিয়া গর্ভে প্রতিসন্ধি হয়। প্রতিসন্ধি ঘটিলেই নাম এবং রূপ (সাকার) এর আবির্ভাব হয়। নামরূপের প্রত্যয়ে (কারণে) ষড় আয়তন (বিস্তার), ষড় আয়তনের কারণে স্পর্শ, স্পর্শের কারণে বেদনা (অনুভূতি), বেদনার কারণে তৃষ্ণা, তৃষ্ণার কারণে উপাদান, উপাদানের কারণে ভব, ভবের কারণে জন্ম, জন্মের কারণে জরা, ব্যাধি, মৃত্যু, শোক, পরিদেবন, দুঃখ, দুর্মনতা। ইহাই সমগ্র দুঃখের কারণ। ইহা দুঃখের নিরোধ, ইহা দুঃখ-নিরোধের উপায় বলিয়া জানাইতেছি।

হে ভিক্ষুগণ, দুঃখ আর্যসত্য কিরূপ?

জন্ম দুঃখ, জরা দুঃখ, ব্যাধি দুঃখ, মরণ দুঃখ, শোক পরিদেবন দুঃখ, দৌর্মনস্য-উপায়াস দুঃখ, ঈস্পিত বস্তু অলাভজনিত দুঃখ, সংক্ষেপে পঞ্চস্কন্ধ দুঃখ। ভিক্ষুগণ, ইহা দুঃখ আর্যসত্য।

হে ভিক্ষুগণ, দুঃখ সমুদয় (দুঃখের কারণ) আর্যসত্য কিরূপ?

অবিদ্যার প্রত্যয়ে সংস্কার, সংস্কারের হেতুতে নামরূপ, নামরূপের হেতুতে ষড় আয়তন, ষড় আয়তনের হেতুতে স্পর্শ, স্পর্শের কারণে বেদনা (অনুভূতি), বেদনার কারণে তৃষ্ণা (আকাঙ্ক্ষা), তৃষ্ণার হেতুতে উপাদান, উপাদানের কারণে ভব (হওয়া), ভবের কারণে জন্ম, জন্মের কারণে জরা মরণ শোক পরিদেবন দুঃখ দুর্মনতা নৈরাশ্য। ইহাই দুঃখ উৎপত্তির হেতু। ভিক্ষুগণ, ইহাকে দুঃখ সমুদয় (দুঃখের কারণ) আর্যসত্য বলা হয়।

ভিক্ষুগণ, দুঃখ নিরোধ আর্যসত্য কিরূপ?

অবিদ্যার অশেষ নিরোধে সংস্কার নিরোধ, সংস্কারের নিরোধে বিজ্ঞান নিরোধ, বিজ্ঞানের নিরোধে নামরূপ নিরোধ, নামরূপের নিরোধে ষড় আয়তন নিরোধ, ষড় আয়তনের নিরোধে স্পর্শ নিরোধ, স্পর্শের নিরোধে বেদনা নিরোধ, বেদনা নিরোধে তৃষ্ণা নিরোধ, তৃষ্ণা নিরোধে উপাদান নিরোধ, উপাদান নিরোধে ভব নিরোধ, ভব নিরোধে জন্ম নিরোধ, জন্ম নিরোধে জরামরণ, শোক, পরিদেবন, দুঃখ-দৌর্মনস্য, উপায়াস নিরুদ্ধ হয়। এইভাবেই দুঃখস্কন্ধের নিরোধ হয়। ভিক্ষুগণ, ইহাই দুঃখ নিরোধ আর্যসত্য।

হে ভিক্ষুগণ, দুঃখ নিরোধগামিনী প্রতিপদা (দুঃখ নিরোধের উপায়) আর্যসত্য কিরূপ?

ভিক্ষুগণ, আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই দুঃখ নিরোধের উপায়, যেমন : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি। ভিক্ষুগণ, ইহাই দুঃখ নিরোধের উপায় আর্যসত্য।

হে ভিক্ষুগণ, আমাকর্তৃক দেশিত এই চারি আর্যসত্য বিজ্ঞ শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, কর্তৃক অখণ্ডনীয়, অকলঙ্কিত, অনিন্দিত, অতিরস্কৃত বলিয়া উক্ত হইয়াছে তাহা এই কারণে বলা হইয়াছে।

ব্যাখ্যা [০]