লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

ভয় সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, পৃথগ্‌জন (সাধারণ লোক) এই তিন প্রকার ভয়ের কথা বর্ণনা করে যাহা মাতা পুত্রকে বিচ্ছিন্ন করে। তিন প্রকার কী কী?”

কোনো এক সময়ে মহা অগ্নি উৎপন্ন হয়। আগুন লাগিলে গ্রাম, নিগম, নগর জ্বলিয়া যায়। আগুন জ্বলিতে থাকিলে মাতা তাহার পুত্রের নিকট পৌঁছিতে পারে না, পুত্রও মাতার নিকট পৌঁছিতে পারে না। ভিক্ষুগণ, ইহা প্রথম ভয় যাহা মাতা পুত্রকে বিচ্ছিন্ন করে।

পুনঃ ভিক্ষুগণ, কোনো এক সময় মহামেঘ বর্ষিত হয়। ইহার ফলে মহাপ্লাবন দেখা যায়। প্লাবন সংঘটিত হইলে গ্রাম, নিগম, নগর ভাসিয়া যায়। এমতাবস্থায় মাতা তাহার পুত্রের নিকট পুত্রও মাতার নিকট পৌঁছিতে পারে না। ভিক্ষুগণ, মাতাপুত্র যে বিচ্ছিন্ন হয় ইহা দ্বিতীয় ভয় যাহা সাধারণ পৃথগ্‌জন বর্ণনা করিয়া থাকে।

ভিক্ষুগণ, কোনো এক সময় আসে যখন বনদস্যু ডাকাতদের দ্বারা আক্রান্ত হইলে দেশের জনতা শকটে চড়িয়া পলাইয়া যায়। যখন এইরূপ হয় তখন ইতস্তত বিক্ষিপ্ত শকটে মাতা পুত্রের নিকট পুত্র মাতার নিকট পৌঁছিতে পারে না। ভিক্ষুগণ, মাতা পুত্র যে বিচ্ছিন্ন হয় ইহা তৃতীয় ভয় যাহা সাধারণ লোক বর্ণনা করিয়া থাকে।

হে ভিক্ষুগণ, সাধারণ লোক তিন প্রকার ভয় বর্ণনা করে যখন মাতা পুত্র কখনো মিলিত হয় বা কখনো বিচ্ছিন্ন হয়। তিন প্রকার কী কী?

ভিক্ষুগণ, এক সময় মহা অগ্নি উৎপন্ন হয়। আগুন লাগিলে গ্রাম, নিগম, নগর জ্বলিতে থাকে। সেই সময়ে কখনও কখনও ইহা সম্ভব মাতা পুত্রের ও পুত্র মাতার নিকট পৌঁছায়। ভিক্ষুগণ, মাতা পুত্র যে কখনো কখনো মিলিত হয় বা বিচ্ছিন্ন হয় ইহা প্রথম বিপদ যাহা পৃথগ্‌জন বর্ণনা করিয়া থাকে। পুনঃ ভিক্ষুগণ, কোনো এক সময় মহামেঘ বর্ষিত হয়। ইহার ফলে প্লাবন দেখা দেয়। প্লাবন সংঘটিত হইলে গ্রাম, নিগম, নগর ভাসিয়া যায়। এমতাবস্থায় কখনো কখনো মাতা পুত্র পরস্পরের নিকট মিলিত হয় কখনো কখনো বিচ্ছিন্ন হয়। ভিক্ষুগণ, মাতা পুত্র যে কখনো কখনো মিলিত হয় কখনো কখনো বিচ্ছিন্ন হয় ইহা দ্বিতীয় ভয় যাহা পৃথগ্‌জন বর্ণনা করিয়া থাকে। পুনঃ ভিক্ষুগণ, কোনো এক সময় বনদস্যু ডাকাতদের দ্বারা আক্রান্ত হইলে দেশের জনতা শকটে চড়িয়া পলাইয়া যায়। যখন এইরূপ হয় তখন ইতস্তত বিক্ষিপ্ত শকটে কখনো কখনো মাতা পুত্র পরস্পরের নিকট মিলিত হয় কখনো কখনো মাতাপুত্র বিচ্ছিন্ন হয়। ভিক্ষুগণ, মাতাপুত্র যে কখনো কখনো মিলিত হয়, কখনো কখনো বিচ্ছিন্ন হয় ইহা তৃতীয় ভয় যাহা সাধারণ লোক বর্ণনা করিয়া থাকে।

ভিক্ষুগণ, এই ত্রিভয় মাতা-পুত্রকে বিচ্ছিন্ন করে। তিন কী কী? জরা ভয়, ব্যাধি ভয়, মৃত্যু ভয়। মাতা তাহার পুত্র বৃদ্ধ হউক তাহা চায় না। সে বলে, “আমি বৃদ্ধ হইতেছি, আমার পুত্র বৃদ্ধ না হউক।” পুত্রও অনুরূপভাবে চায় না তাহার মাতা বৃদ্ধ হউক। সে বলে, “আমি বৃদ্ধ হইতেছি। আমার মাতা বৃদ্ধ না হউক।”

হে ভিক্ষুগণ, মাতা চায় না যে তাহার পুত্র ব্যাধিগ্রস্ত হউক। সে বলে, “আমি ব্যাধিগ্রস্ত হইতেছি কিন্তু আমার পুত্র ব্যাধিগ্রস্ত না হউক।” পুত্রও অনুরূপভাবে চায় না যে তাহার মাতা ব্যাধিগ্রস্ত হউক। সে বলে, “আমি ব্যাধিগ্রস্ত হইতেছি কিন্তু আমার মাতা ব্যাধিগ্রস্ত না হইক।”

হে ভিক্ষুগণ, মাতা চায় না যে তাহার পুত্র মৃত্যুমুখে পতিত হউক। সে বলে, “আমি মৃত্যু বরণ করিতেছি কিন্তু আমার পুত্র মৃত্যু বরণ না করুক।” তদ্রূপ পুত্রও বলে, “আমি মৃত্যুবরণ করিতেছি কিন্তু আমার মাতা মৃত্যু বরণ না করুক।” ভিক্ষুগণ, এই ত্রিভয় মাতা পুত্রকে বিচ্ছিন্ন করে।

হে ভিক্ষুগণ, মাতা-পুত্রের মিলিত হওয়ার এই ত্রিভয়, মাতা-পুত্রের বিচ্ছিন্ন হওয়ার এই ত্রিভয় দূর করার উপায় আছে। ভিক্ষুগণ, মাতাপুত্রকে বিচ্ছিন্নকারী ত্রিভয় ও মাতাপুত্রকে সংযোগ করার এই ত্রিভয় দূর করার উপায় কী?

সেই উপায় হইল আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ যেমন : সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি। ভিক্ষুগণ, এই মার্গই মাতা পুত্রের বিচ্ছিন্নকারী ত্রিভয়, মাতাপুত্রকে সংযোগকারী ত্রিভয় পরিত্যাগ, অতিক্রম করিতে সাহায্য করে।”

ব্যাখ্যা [০]