“হে ভিক্ষুগণ, কথাবস্তু (আলোচ্য বিষয়) এই ত্রিবিধ। ত্রিবিধ কী কী? “হে ভিক্ষুগণ, কেহ অতীত সম্পর্কে বলিতে পারে, এইরূপ অতীতে ছিল” অথবা যে-কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলিতে পারে, “এইরূপ ভবিষ্যতে হইতে পারে।” অথবা যে-কোনো লোক বর্তমান সম্পর্কে বলিতে পারে, “এইরূপ এখন বর্তমান আছে।”
“হে ভিক্ষুগণ, কোনো ব্যক্তি আলাপে দক্ষ বা অদক্ষ তাহা অপ্রকাশিত থাকিতে পারে। হে ভিক্ষুগণ, এই ব্যক্তিকে যদি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয় তাহা সে প্রশ্নের প্রয়োজনীয় নিরপেক্ষ উত্তর প্রদান করে না, প্রশ্নের উপযোগী বিবেচনাপ্রসূত উত্তর প্রদান করে না, প্রশ্নের উপযোগী প্রতি প্রশ্ন দ্বারা উত্তর প্রদান করে না এবং পরিত্যাজ্য প্রশ্ন পরিত্যাগ করে না-ভিক্ষুগণ, এইরূপ ব্যক্তি কথোপকথনে অদক্ষ।
হে ভিক্ষুগণ, যদি কোনো ব্যক্তিকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়, সে যদি ব্যাখ্যার যোগ্য প্রশ্ন যথাযথ ব্যাখ্যা করে, যথাযথ বিশ্লেষণপূর্বক ব্যাখ্যা করে, প্রতি প্রশ্নযোগ্য প্রশ্ন প্রতি প্রশ্ন দ্বারা যথাযথ ব্যাখ্যা করে, পরিত্যাজ্য প্রশ্ন পরিত্যাগ করে তাহা হইলে হে ভিক্ষুগণ, সে কথোপকথনে দক্ষ ব্যক্তি।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, কোনো ব্যক্তি আলাপনে দক্ষ বা অদক্ষ তাহা অপ্রকাশিত থাকিতে পারে। যদি এই ব্যক্তি প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হইয়া সঠিক বা ভুল কোনো প্রকার উপসংহার প্রদান না করে, অনুমান অনুসরণ না করে, স্বীকৃত যুক্তি অনুসরণ না করে, স্বাভাবিক পদ্ধতি মানিয়া না চলে এইরূপ ক্ষেত্রে হে ভিক্ষুগণ, এই ব্যক্তি আলাপে অদক্ষ। কিন্তু সে যদি যথাযথ এইসব করে সে আলাপে দক্ষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, কোন ব্যক্তি আলাপে দক্ষ বা অদক্ষ তাহা অপ্রকাশিত থাকিতে পারে। যে ব্যক্তি কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হইয়া অন্য একটি প্রশ্ন দ্বারা মূল প্রশ্নটি এড়াইয়া যায়, অথবা বিষয় হইতে বাদ দেয় অথবা বিরক্তি, বিদ্বেষ এবং মুখভারিতা প্রকাশ করে এই ক্ষেত্রে হে ভিক্ষুগণ, সে আলাপে অদক্ষ। কিন্তু সে যদি এইগুলি না করে তাহা হইলে সেই আলাপে দক্ষ।
পুনঃ হে ভিক্ষুগণ, কোন ব্যক্তি আলাপে দক্ষ বা অদক্ষ তাহা অপ্রকাশিত থাকিতে পারে। যে ব্যক্তি প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হইয়া তিরস্কার করে এবং প্রশ্নকারীকে দমন করে, বিদ্রূপ করে, আধ আধ কথা বলাতে দোষ দর্শন করে, সে আলাপে অদক্ষ। যদি প্রশ্ন জিজ্ঞাসিত হইয়া প্রশ্নকারীকে তিরস্কার না করে, দমন না করে, আধ আধ কথা বলাতে দোষ দর্শন না করে তাহা হইলে সে আলাপে দক্ষ।
হে ভিক্ষুগণ, কোনো ব্যক্তি আলাপের দ্বারা আশ্বস্ত কি অনাশ্বস্ত তাহা অপ্রকাশিত থাকিতে পারে। যে শ্রবণ করে না সে অনাশ্বস্ত। যে শ্রবণ করে সে আশ্বস্ত। সে আশ্বস্ত হইয়া একটি বিষয় উপলব্ধি করে, ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করে, কোনো বিষয় পরিত্যাগ করে, কোনো বিষয় প্রত্যক্ষ করে। সে এইভাবে কোনো বিষয় উপলব্ধি করিয়া, কোনো বিষয় হৃদয়ঙ্গম করিয়া, কোনো বিষয় পরিত্যাগ করিয়া, কোনো বিষয় প্রত্যক্ষ করিয়া সম্যক বিমুক্তি লাভ করে। হে ভিক্ষুগণ, তাহাতেই আলাপের লাভ, চিন্তার লাভ, আশ্বস্ততার লাভ, উপদেশ শ্রবণের লাভ যেমন-লোভ ব্যতীত চিত্তের বিমুক্তি।”
“যাহারা কোপজনিত বিরুদ্ধ বাক্য দ্বারা অভিনিবিষ্ট হইয়া উদ্ধত, গর্বিতভাবে পরস্পরের ছিদ্রান্বেষণকারী তাহারাই অনার্যগুণ লিপ্ত হইয়া আলাপ সালাপ করিয়া থাকে।
কোনো কোনো ব্যক্তি পরস্পর আলাপ সময়ে দুর্ভাষিত, বিস্খলিত বা অল্পমাত্র মুখ নিঃসৃত, অল্পমাত্র প্রমাদকর ও পরাজয়জনিত বাক্যে সন্তোষ লাভ করিয়া থাকে, কিন্তু আর্য সজ্জনগণ, সেইরূপ বাক্য ব্যবহার করেন না এবং বাক্যজনিত সামান্য দোষকে ন্যস্ত করিয়া সন্তোষ লাভ করিতেও চাহেন না।
যদি পণ্ডিত ব্যক্তি সময় বুঝিয়া কথা বলিতে ইচ্ছা করেন তিনি যাহা ধর্ম প্রতিসংযুক্ত আর্য চরিত কথা তাহাই বলিয়া থাকেন অবিরুদ্ধবাদী বা অক্রোধ, অনভিমানী পণ্ডিত ব্যক্তি উপাদান বিরহিত অনুদ্ধত চিত্ত দ্বারা অবৈরতাজনক ও রাগ-দ্বেষ-মোহ সাহস বশে সাহস না করিয়া অসাহসকর বা পাপক্রোধ বিহীন যেই বাক্য সেই বাক্যেই বলেন। পণ্ডিত সুজন ঈর্ষাপরবশ না হইয়া ভালমন্দ জ্ঞাত হওত কোনো কোনো বাক্য বলিয়া থাকেন এবং সুভাষিত বাক্য অনুমোদন করেন, কদাচ দুর্ভাষিত বাক্যে সম্মতি জ্ঞাপন বা অবসাদন করেন না।
কদাচ উপারম্ভ বা সরোষপূর্ণ বাক্য শিখিবে না, সামান্য মুখস্খলিত বাক্য গ্রহণ করিবে না, বাক্যের উপর বাক্য চাপিয়া দিবে না। এক কথাতে অন্য কথা দ্বারা মর্দন বা কাটাকাটি করিবে না এবং সত্য মিথ্যা সংযুক্ত বাক্য বলিবে না।
সাধু পুরুষগণ, মন্ত্রণা জ্ঞাতার্থ ও আনন্দার্থ হইয়া থাকে, আর্যগণ, এইরূপ মন্ত্রণাই করিয়া থাকেন, জ্ঞানদায়ক ও আনন্দদায়ক বিষয়ই আর্যদিগের মন্ত্রণা; মেধাবী ব্যক্তি ইহা জানিয়া মানগর্বিতভাবে মন্ত্রণা বা বাক্যালাপ করেন না।”
ব্যাখ্যা [০]