“আমি এইরূপ শুনিয়াছি। এক সময় ভগবান শ্রাবস্তীর পূর্বারামে মিগারমাতার প্রাসাদে অবস্থান করিতেছিলেন। সেই সময় বিশাখা মিগারমাতা উপোসথ দিবসে ভগবান যেখানে ছিলেন তথায় উপস্থিত হন, উপস্থিত হইয়া ভগবানকে অভিবাদন করিয়া একপ্রান্তে উপবেশন করেন। একপ্রান্তে উপবিষ্ট মিগারমাতা বিশাখাকে ভগবান এইরূপ বলেন, “বিশাখে, আপনি অপরাহ্নে আসিলেন যে?” “ভদন্ত, আমি আজ উপোসথ পালন করিতেছি।” “বিশাখে, উপোসথ তিন প্রকার। কী কী? গোপালক উপোসথ, নির্গ্রন্থ উপোসথ, আর্য উপোসথ।”
হে বিশাখে, গোপালক উপোসথ কিরূপ? বিশাখে, সায়াহ্ন সময়ে যেমন গোপালক গরুর মালিককে গরুগুলি ফেরৎ দিয়া এইরূপ চিন্তা করে : অদ্য গোসমূহ অমুক অমুক স্থানে চড়িয়াছে এবং অমুক অমুক স্থানে জল পান করিয়াছে। আগামীকল্য অমুক অমুক স্থানে গরুগুলি চড়িবে এবং অমুক অমুক স্থানে জল পান করিবে। তদ্রূপ হে বিশাখে, কোনো কোনো উপোসথিকও এইরূপ চিন্তা করে : আমি আজ এই এই খাদ্য ভোজন করিয়াছি। আগামীকল্য আমি এইরূপ এইরূপ খাদ্য খাইব, এইরূপ এইরূপ ভোজ্য ভোজন করিব। সে এইরূপ লোভসহগত চিত্তে বাস করে। হে বিশাখে, গোপালক উপোসথ এইরূপ। এইরূপ উপোসথ মহা ফলদায়ক হয় না, মহা আনিশংস প্রদায়ী হয় না, ইহা উজ্জ্বল ফলসম্পন্ন হয় না, মহা দীপ্তিমান হয় না।
হে বিশাখে, নির্গ্রন্থ উপোসথ কিরূপ? বিশাখে, নির্গ্রন্থ নামে এক শ্রমণ সম্প্রদায় আছেন যাঁহারা তাঁহাদের শ্রাবকদিগকে এইরূপ উপদেশ দেন, “ওহে শ্রাবক, পূর্বদিকে শত যোজনের মধ্যে যেইসব প্রাণী আছে তাহাদের প্রতি লোষ্ট্র নিক্ষেপ করিবে না, পশ্চিমদিকে শত যোজনের মধ্যে যেইসব প্রাণী আছে তাহাদের প্রতি লোষ্ট্র নিক্ষেপ করিবে না। উত্তরদিকে শত যোজনের মধ্যে যেইসব প্রাণী আছে তাহাদের প্রতি লোষ্ট্র নিক্ষেপ করিবে না, দক্ষিণ দিকে শত যোজনের মধ্যে যেইসব প্রাণী আছে তাহাদের প্রতি লোষ্ট্র নিক্ষেপ করিবে না।” এইভাবে তাঁহারা শ্রাবকগণকে কিছু কিছু প্রাণীর প্রতি দয়া, অনুকম্পা প্রদর্শন করিতে শিক্ষা দেন, কোনো কোনো প্রাণীর প্রতি নির্দয়া অননুকম্পা শিক্ষা দেন। তাঁহারা উপোসথ দিবসে শ্রাবককে এইরূপ শিক্ষা দেন, “ওহে, তুমি তোমার সব বস্ত্র পরিহার কর এবং বল, আমার কোথাও কিছু নাই এবং কোনো বস্তুর প্রতি আমার কোনো আসক্তি নাই।” তৎসত্ত্বেও তাহার মাতাপিতা তাহাকে তাহাদের পুত্ররূপে জানে এবং তাহাদিগকে মাতাপিতারূপে জানে। তাহার ছেলেমেয়ে এবং স্ত্রী তাহাকে পিতা এবং স্বামী হিসেবে জানে এবং সেও তাহাদিগকে ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীরূপে জানে। তাহার দাস এবং কর্মচারী তাহাকে তাহাদের প্রভু হিসেবে জানে এবং সেও তাহাদিগকে তাহার দাস এবং কর্মচারীরূপে জানে। এইরূপে সকলে যখন উপোসথ পালন করার জন্য উপদিষ্ট হইবে ইহা মিথ্যা প্রতিপন্ন হইবে যে তাঁহারা তাহাদিগকে উপদেশ দেন। আমি ঘোষণা করিতেছি যে, ইহা মিথ্যা ভাষণের সমতুল্য। সেই রাত অতিক্রান্ত হওয়া মাত্রই সে সেইসব দ্রব্য ভোগ করিতে শুরু করে যেইগুলি প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হয় নাই। আমি ইহাকে চুরি বলিয়া ঘোষণা করিতেছি। হে বিশাখে, নির্গ্রন্থ উপোসথ এইরূপ। এইভাবে নির্গ্রন্থ উপোসথের দ্বারা মহা ফল মহা আনিশংস লাভ হয় না, ইহা অত্যুজ্জ্বল মহা দীপ্তিমান হয় না।
হে বিশাখে, আর্য উপোসথ কিরূপ? বিশাখে, যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা ক্লেশযুক্ত চিত্তের পরিশোধনই আর্য উপোসথ। হে বিশাখে, কিভাবে উপক্লিষ্ট (দূষিত) চিত্তের পরিশোধন সম্ভব?”
হে বিশাখে, আর্যশ্রাবক এইভাবে তথাগতকে স্মরণ করেন-সেই ভগবান অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকবিদ, অনুত্তর, পুরুষদম্য সারথি, দেবমনুষ্যদের শাস্তা (শিক্ষক), বুদ্ধ ভগবান। তথাগতকে এইভাবে যখন স্মরণ করেন তাঁহার চিত্ত শান্ত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তের ক্লেশ পরিত্যক্ত হয়। বিশাখে, ইহা দূষিত মস্তককে পরিষ্কৃতকরণ সদৃশ। বিশাখে, কিভাবে অপরিষ্কৃত মস্তক পরিষ্কার করা হয়? সুগন্ধি দ্রব্য, মাটি, জল এবং ব্যক্তির যথাযথ প্রচেষ্টা দ্বারা অপরিষ্কৃত মস্তক পরিষ্কার করা হয়।
হে বিশাখে, কিভাবে যথাযথ পদ্ধতিতে দূষিত চিত্ত পরিষ্কৃত হয়? হে বিশাখে, আর্যশ্রাবক তথাগতকে এইভাবে স্মরণ (চিন্তা) করেন-সেই ভগবান অর্হৎ, সম্যকসম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণসম্পন্ন, সুগত, লোকবিদ, অনুত্তর, পুরুষদম্য সারথি, দেবমনুষ্যদের শাস্তা (শিক্ষক), বুদ্ধ ভগবান। তথাগতকে স্মরণ করিতে করিতে তাঁহার চিত্ত শান্ত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তের ক্লেশ পরিত্যক্ত হয়। হে বিশাখে, এই আর্যশ্রাবক ব্রহ্ম উপোসথ পালন করেন বলিয়া কথিত হয়। তিনি ব্রহ্মার সাথে বাস করেন। ব্রহ্মাবশত তাঁহার চিত্ত শান্ত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্ত ক্লেশমুক্ত হয়। হে বিশাখে, এইরূপেই যথাযথ পদ্ধতিতে চিত্তের ক্লেশ ধ্বংস হয়।
হে বিশাখে, যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা উপক্লিষ্ট চিত্ত বিশুদ্ধ হয়। কিভাবে? হে বিশাখে, আর্যশ্রাবক এইভাবে ধর্মকে স্মরণ করেন-ভগবান কর্তৃক ধর্ম সুন্দরভাবে ব্যাখ্যাত, স্বয়ংদৃষ্ট, অকালিক (যে-কোনো সময় পালনযোগ্য), “আস এবং দেখ” বলিয়া আহ্বান করার যোগ্য। ইহা শ্রীবৃদ্ধির পথে পরিচালিত করে, বিজ্ঞ ব্যক্তির উপলব্ধির বিষয়। এইভাবেই ধর্মের অনুস্মরণ করিতে করিতে তাঁহার চিত্ত সংযম হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তের ক্লেশ ক্ষয় হয়, যেমন, ময়লাযুক্ত দেহ পরিষ্কৃত হয়।
হে বিশাখে, ক্লেশযুক্ত দেহ কিভাবে যথাযথ পদ্ধতিতে পরিষ্কৃত হয়? শামুকের খোলশ, পাউডার, জল এবং ব্যক্তির যথাযথ প্রচেষ্টা দ্বারা ময়লাযুক্ত দেহ পরিষ্কৃত হয়। তদ্রূপ বিশাখে, ক্লেশযুক্ত চিত্তের মালিন্য যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা পরিষ্কৃত হয়। বিশাখে, ক্লেশযুক্ত চিত্তের মালিন্য কিভাবে যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা পরিষ্কৃত হয়? হে বিশাখে, আর্যশ্রাবক এইভাবে ধর্ম অনুস্মরণ করেন-ভগবানের ধর্ম সুন্দরভাবে ব্যাখ্যাত, স্বয়ংদৃষ্ট, অকালিক (যে-কোনো সময় পালনযোগ্য), “আস এবং দেখ” বলিয়া আহ্বান করার যোগ্য। ইহা শ্রীবৃদ্ধির পথে পরিচালিত করে, বিজ্ঞ ব্যক্তির উপলব্ধির বিষয়। এইভাবে ধর্মানুস্মৃতি ভাবনা করিলে তাঁহার চিত্ত সংযত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয় চিত্তের ক্লেশ ক্ষয় হয়। হে বিশাখে, আর্যশ্রাবক এইভাবে ধর্মোপোসথ পালন করেন বলিয়া কথিত হয়। তিনি ধর্মের সাথে বাস করেন। ধর্ম দ্বারা তাঁহার চিত্ত সংযত হয়, প্রসন্ন হয়, চিত্তের ক্লেশ পরিত্যক্ত হয়। হে বিশাখে, এইভাবে চিত্ত ক্লেশমুক্ত হয়।
হে বিশাখে, যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা চিত্তের ক্লেশ মুক্ত হয়। কিভাবে যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা চিত্ত ক্লেশ মুক্ত হয়?
হে বিশাখে, আর্যশ্রাবক এইভাবে সংঘানুস্মৃতি চিন্তা করেন : ভগবানের শ্রাবক সংঘ সুপথে প্রতিপন্ন, ঋজু পথে প্রতিপন্ন, ন্যায়পথে প্রতিপন্ন, সমীচীন পথে প্রতিপন্ন, যে সংঘ যুগল ভেদে চারি যুগল, পুদ্গল ভেদে অষ্টপুদ্গল, আহ্বানের যোগ্য, প্রহ্বানের যোগ্য, দান গ্রহণের যোগ্য, অঞ্জলিযোগ্য, জগতের অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র। সংঘকে স্মরণ করিলে তাঁহার চিত্ত সংযত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তের ক্লেশ পরিত্যক্ত হয় যেমন বিশাখে, মলিন বস্ত্র যথাযথ পদ্ধতিতে পরিষ্কৃত হয়। বিশাখে, মলিন বস্ত্র কিভাবে পরিষ্কৃত হয়? লবণযুক্ত মাটি, ক্ষারযুক্ত জল, গোবর, জল এবং ব্যক্তির যথাযথ প্রচেষ্টা দ্বারা বস্ত্র পরিষ্কৃত হয়। হে বিশাখে, এইভাবেই ক্লেশযুক্ত চিত্তও যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা পরিষ্কৃত হয়। কিভাবে?
হে বিশাখে, আর্যশ্রাবক এইভাবে সংঘানুস্মৃতি ভাবেন-ভগবানের শ্রাবক সংঘ সুপথে প্রতিপন্ন, ঋজু পথে প্রতিপন্ন, ন্যায়পথে প্রতিপন্ন, সমীচীন পথে প্রতিপন্ন, যে সংঘ যুগল ভেদে চারি যুগল, পুদ্গল ভেদে অষ্টপুদ্গল, আহ্বানের যোগ্য, প্রহ্বানের যোগ্য, দান গ্রহণের যোগ্য, অঞ্জলিযোগ্য, জগতের অনুত্তর পুণ্যক্ষেত্র। এইভাবে সংঘকে অনুস্মরণ করিলে চিত্ত সংযত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তের ক্লেশ দূরীভূত হয়। বিশাখে, এই আর্যশ্রাবক সংঘোপোসথ পালন করেন বলিয়া অভিহিত। সংঘের সাথে বাস করেন। তাঁহার চিত্ত সংযত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তক্লেশ ক্ষয় হয়। বিশাখে, এই উপায়ে চিত্ত যথাযথ ক্লেশমুক্ত হয়।
হে বিশাখে, উপক্লিষ্ট চিত্ত যথাযথ পদ্ধতিতে ক্লেশমুক্ত হয়। বিশাখে, কিভাবে ক্লেশযুক্ত চিত্ত যথাযথ পরিমুক্ত হয়?
হে বিশাখে, আর্যশ্রাবক অখণ্ডভাবে, নিচ্ছিদ্রভাবে, অকলঙ্কিতভাবে, স্বাধীনভাবে বিজ্ঞ ব্যক্তি প্রশংসিত, কামনা বাসনা দ্বারা অমলিন শীলানুস্মৃতি ভাবেন যাহা চিত্তকে সমাধির পথে পরিচালিত করে। তিনি নিজের শীল অনুস্মরণ করিলে চিত্ত সংযত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তের ক্লেশ পরিত্যক্ত হয় যেমন বিশাখে, যথাযথ উপায়ে আয়নার ময়লা দূরীভূত হয়। বিশাখে, কোন পদ্ধতিতে ময়লাযুক্ত আয়না পরিষ্কৃত হয়?
তৈল, ছাই, চিরুনী এবং ব্যক্তির সঠিক প্রচেষ্টা দ্বারা তাহা পরিষ্কৃত হয়। তদ্রূপ বিশাখে, উপক্লিষ্ট চিত্ত যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা পরিষ্কৃত হয়।
বিশাখে, কিভাবে ক্লিষ্ট চিত্ত যথাযথভাবে পরিষ্কৃত হয়? বিশাখে, আর্যশ্রাবক নিজে অখণ্ডভাবে, নিচ্ছিদ্রভাবে, অকলঙ্কিতভাবে, স্বাধীনভাবে বিজ্ঞ ব্যক্তি প্রশংসিত, কামনা বাসনা দ্বারা অমলিন শীলানুস্মৃতি ভাবেন যাহা চিত্তকে সমাধির পথে পরিচালিত করে। তিনি নিজের শীল অনুস্মরণ করিলে চিত্ত সংযত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তের ক্লেশ প্রহীন হয়।
হে বিশাখে, এইভাবে আর্যশ্রাবক শীলোপোসথ পালন করেন বলিয়া কথিত হয়। তিনি শীলের সাথে বাস করেন, শীলের দ্বারা তাঁহার চিত্ত সংযত হয়, চিত্তের উপক্লেশ (মালিন্য) ধ্বংস হয়। এইভাবে বিশাখে, যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা উপক্লিষ্ট চিত্ত বিশুদ্ধ হয়।
হে বিশাখে, সঠিক পদ্ধতি দ্বারা দূষিত চিত্ত বিশুদ্ধ হয়। বিশাখে, কিভাবে সঠিক পদ্ধতি দ্বারা দূষিত চিত্ত বিশুদ্ধ হয়?
হে বিশাখে, আর্যশ্রাবক এইভাবে দেবতানুস্মৃতি ভাবেন-দেবতাদের মধ্যে চতুর্মহারাজিক দেবতা, ত্রয়ত্রিংশ দেবতা, যাম দেবতা, তুষিত দেবতা, নির্মাণরতি দেবতা, পরনির্মিত বশবর্তী দেবতা, ব্রহ্মকায়িক দেবতা, তাহার অধিক দেবতা আছেন। সেই দেবতাগণ যেইরূপ শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া এখান (এই জগৎ) হইতে চ্যুত হইয়া তথায় উৎপন্ন হইয়াছেন আমিও তদ্রূপ শ্রদ্ধাসম্পন্ন। আমিও তদ্রূপ শীলসম্পন্ন যেইরূপ শীলসম্পন্ন হইয়া সেই দেবতাগণ এখান হইতে চ্যুত হইয়া তথায় উৎপন্ন হইয়াছেন। আমিও তদ্রূপ ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারী যেইরূপ ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারী সেই দেবতাগণ যেইরূপ শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া এখান হইতে চ্যুত হইয়া তথায় উৎপন্ন হইয়াছেন উৎপন্ন হইয়াছেন। আমিও তদ্রূপ ত্যাগসম্পন্ন যেইরূপ ত্যাগসম্পন্ন হইয়া সেই দেবতাগণ যেইরূপ শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া এখান হইতে চ্যুত হইয়া তথায় উৎপন্ন হইয়াছেন। আমিও তাদৃশ প্রজ্ঞাসম্পন্ন যাদৃশ প্রজ্ঞাসম্পন্ন হইয়া সেই দেবতাগণ যেইরূপ শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া এখান হইতে চ্যুত হইয়া তথায় উৎপন্ন হইয়াছেন। যখন তিনি (আর্যশ্রাবক) আপন ও দেবতাদের শ্রদ্ধা, শীল, ধর্মীয় জ্ঞান, ত্যাগ ও প্রজ্ঞা স্মরণ (ভাবেন) তাঁহার চিত্ত সংযত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তের অপবিত্রতা পরিত্যক্ত যেমন বিশাখে স্বর্ণের ময়লা যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা বিদূরীত হয়। কিভাবে?
অগ্নিকুণ্ড, লবণ, লাল মাটি, ফুঁ দেওয়ার পাইপ, চিমটা এবং ব্যক্তির যথাযথ প্রচেষ্টা দ্বারা স্বর্ণের ময়লা দূরীভূত হয়। তদ্রূপ বিশাখে, দূষিত চিত্ত যথাযথ পদ্ধতি দ্বারা বিশুদ্ধ হয়। কোন পদ্ধতি দ্বারা?
হে বিশাখে, আর্যশ্রাবক এইভাবে দেবতানুস্মৃতি ভাবেন-দেবতাদের মধ্যে চতুর্মহারাজিক দেবতা, ত্রয়ত্রিংশ দেবতা, যাম দেবতা, তুষিত দেবতা, নির্মাণ রতি দেবতা, পরনির্মিত বশবর্তী দেবতা, ব্রহ্মকায়িক দেবতা, তাহার অধিক দেবতা আছেন। সেই দেবতাগণ যেইরূপ শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া এখান (এই জগৎ) হইতে চ্যুত হইয়া তথায় উৎপন্ন হইয়াছেন আমিও তদ্রূপ শ্রদ্ধাসম্পন্ন। আমিও তদ্রূপ শীলসম্পন্ন যেইরূপ শীলসম্পন্ন হইয়া সেই দেবতাগণ এখান হইতে চ্যুত হইয়া তথায় উৎপন্ন হইয়াছেন। আমিও তদ্রূপ ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারী যেইরূপ ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারী সেই দেবতাগণ যেইরূপ শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া এখান হইতে চ্যুত হইয়া তথায় উৎপন্ন হইয়াছেন। আমিও তদ্রূপ ত্যাগসম্পন্ন যেইরূপ ত্যাগসম্পন্ন হইয়া সেই দেবতাগণ যেইরূপ শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া এখান হইতে চ্যুত হইয়া তথায় উৎপন্ন হইয়াছেন। আমিও তাদৃশ প্রজ্ঞাসম্পন্ন যাদৃশ প্রজ্ঞাসম্পন্ন হইয়া সেই দেবতাগণ যেইরূপ শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া এখান হইতে চ্যুত হইয়া তথায় উৎপন্ন হইয়াছেন। যখন তিনি (আর্যশ্রাবক) আপন ও দেবতাদের শ্রদ্ধা, শীল, ধর্মীয় জ্ঞান, ত্যাগ ও প্রজ্ঞা স্মরণ (ভাবেন) তাঁহার চিত্ত সংযত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তের অপবিত্রতা পরিত্যক্ত হয়। এই আর্যশ্রাবক দেবোপসথ পালন করেন বলিয়া কথিত হয়-তিনি দেবতাদের সাথে বাস করেন, চিত্ত সংযত হয়, প্রীতি উৎপন্ন হয়, চিত্তের ক্লেশ প্রহীন হয়। হে বিশাখে, এইভাবেই যথাযথ পদ্ধতিতে চিত্তের ক্লেশ মুক্ত হয়।
হে বিশাখে, সেই আর্যশ্রাবক এইরূপ চিন্তা করেন : অর্হতেরা যাবজ্জীবন প্রাণিহত্যা পরিত্যাগ করিয়া, প্রাণিহত্যা বিরত হইয়া, দণ্ড পরিহার করিয়া, শস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া লজ্জাশীল, বিনয়, দয়াশীল, সর্ব প্রাণীর প্রতি হিত ও অনুকম্পাপরায়ণ। তদ্রূপ আমিও দিবারাত্রি প্রাণিহত্যা পরিত্যাগ করিয়া, প্রাণিহত্যা বিরত হইয়া, দণ্ড পরিহার, শস্ত্র পরিহার করিয়া লজ্জাশীল, দয়াশীল, সর্ব প্রাণীর প্রতি হিত ও অনুকম্পাশীল হইয়া বিহার করি। এই আচরণ পদ্ধতি দ্বারা আমি অর্হতের অনুকরণ করি এবং তদ্বারা আমার উপোসথও পালিত হইবে।
অর্হতেরা যাবজ্জীবন অদত্তবস্তু গ্রহণ পরিহার করিয়া, অদত্তবস্তু গ্রহণ প্রতিবিরত হইয়া, প্রদত্তবস্তু গ্রহণ করিয়া, প্রদত্তবস্তু গ্রহণে আকাঙ্ক্ষিত হইয়া, চৌর্যবৃত্তিহীন হইয়া পরিশুদ্ধভাবে বাস করেন। তদ্রূপ আমিও অদত্তবস্তু গ্রহণ পরিহার করিয়া, অদত্তবস্তু গ্রহণ প্রতিবিরত হইয়া, প্রদত্তবস্তু গ্রহণ করিয়া, প্রদত্তবস্তু গ্রহণে আকাঙ্ক্ষিত হইয়া, চৌর্য বৃত্তিহীন হইয়া পরিশুদ্ধভাবে এই দিনরাত্রি বিহার করি। এই আচরণ পদ্ধতি দ্বারা আমি অর্হতের অনুকরণ করি এবং তদ্বারা আমার উপোসথ পালিত হইবে।
অর্হতেরা যাবজ্জীবন অব্রহ্মচর্য পরিত্যাগ করিয়া, ব্রহ্মচর্য প্রতিপালন করিয়া, অব্রহ্মচর্য বিরত হইয়া, মৈথুন সেবন (গ্রাম্য ধর্ম) বিরত হইয়া বিহার করেন। তদ্রূপ আমিও এই দিন রাত্রি অব্রহ্মচর্য পরিত্যাগ করিয়া, ব্রহ্মচর্য প্রতিপালন করিয়া, অব্রহ্মচর্য বিরত হইয়া, মৈথুন সেবন বিরত হইয়া বাস করি। এই আচরণ পদ্ধতি দ্বারা আমি অর্হতের অনুকরণ করি এবং উপোসথ পালন করিব।
অর্হতেরা যাবজ্জীবন মিথ্যা ভাষণ পরিহার করিয়া, মিথ্যা ভাষণ বিরত হইয়া, সত্যবাদী হইয়া, সত্য ভাষণে অংশ গ্রহণ করিয়া, বিপথগামী না হইয়া বিশ্বস্ত, জগতের অবিসংবাদী হইয়া বাস করেন। আমি স্বয়ং এই দিবারাত্রি মিথ্যা ভাষণ পরিত্যাগ করিয়া, মিথ্যা ভাষণ বিরত হইয়া, সত্যবাদী হইয়া, সত্য ভাষণে অংশ গ্রহণ করিয়া, বিপথগামী না হইয়া, বিশ্বস্ত ও জগতের অবিসংবাদী হইয়া বাস করি। এই আচরণ পদ্ধতি দ্বারা আমি অর্হতের অনুকরণ করি এবং উপোসথ পালন করিব।
যাবৎ অর্হতেরা বাঁচিয়া থাকেন তাবৎ তাঁহারা সুরা, মদ্যপান, নেশাজনক দ্রব্য পরিহার করিয়া, সুরা-মদ্যপান, নেশাজনক দ্রব্য বিরত হইয়া বাস করেন। তদ্রূপ আমিও এই দিবারাত্রি সুরা-মদ্যপান, নেশাজনক দ্রব্য পরিত্যাগ করিয়া সুরা-মদ্যপান, নেশাজনক দ্রব্য বিরত হইয়া বাস করি। এই আচরণ পদ্ধতি দ্বারা আমি অর্হতের অনুকরণ করি এবং উপোসথ পালন করিয়া থাকিব।
যাবৎ অর্হতেরা বাঁচিয়া থাকেন তাবৎ তাঁহারা দিনে একবার মাত্র ভোজন করিয়া, বিকালে ভোজন গ্রহণ পরিত্যাগ করিয়া, অসময়ে খাদ্য গ্রহণে বিরত হইয়া বাস করেন। তদ্রূপ আমিও এই দিবারাত্রি একাহারী হইয়া, বিকাল ভোজন বিরত হইয়া অসময়ে খাদ্য গ্রহণ বিরত হইয়া বাস করি। এই আচরণ দ্বারা আমি অর্হতের অনুকরণ করি এবং আমার উপোসথ পালিত হইবে।
যাবৎ অর্হতেরা বাঁচিয়া থাকেন তাবৎ তাঁহারা নৃত্যগীত দর্শন, সুগন্ধি মালা ধারণ, মণ্ডণ, বিভূষণ, বিলেপন প্রভৃতি বিরত হইয়া বাস করেন। তদ্রূপ আমিও এই দিনরাত্রি নৃত্যগীত দর্শন, সুগন্ধি মালা বিলেপন, ধারণ মণ্ডণ বিভূষণ বিরত হইয়া বাস করি। এই আচরণ দ্বারা আমি অর্হতের অনুকরণ করি এবং আমার উপোসথ পালিত হইবে।
যাবৎ অর্হতেরা বাঁচিয়া থাকেন তাবৎ তাঁহারা উচ্চশয্যা মহাশয্যা পরিহার করিয়া, উচ্চশয্যা, মহাশয্যা বিরত হইয়া বাস করেন। নীচু শয্যায় মঞ্চ বা তৃণ শয্যায় শয়ন করেন। তদ্রূপ আমিও দিবারাত্রি উচ্চশয্যা মহাশয্যা পরিহার করিয়া উচ্চশয্যা মহাশয্যা বিরত হইয়া নীচু শয্যায়, মঞ্চে বা তৃণাচ্ছাদনীযুক্ত শয্যায় শয়ন করি। এই আচরণ দ্বারা আমি অর্হতের অনুকরণ করি এবং আমার উপোসথ পালিত হইবে। হে বিশাখে, আর্য উপোসথ এইরূপ। বিশাখে, এইরূপ উপোসথ পালিত হইলে তাহা মহাফল, মহাহিত সাধন করে অতীব উজ্জ্বল ও দীপ্তিমান হয়।
কিভাবে ইহা মহাফল, মহা হিত সাধন করে, অতীব উজ্জ্বল ও দীপ্তিমান হয়? যেমন বিশাখে, এই ষোড়শ মহাজনপদে কোনো ব্যক্তি যদি প্রভূত সপ্ত রত্নসহ আধিপত্য বা রাজত্ব করে, যেমন-অঙ্গগণ, মগধগণ, কাশীগণ, কোশলগণ, বজ্জীগণ, মল্লগণ, চেতিগণ, বংশগণ, কুরুগণ, পঞ্চালগণ, মৎস্যগণ, সুরসেনগণ, অশ্বকগণ, অবন্তীগণ, গন্ধারগণ, কম্বোজগণ এর উপর আধিপত্য অষ্টাঙ্গ উপোসথশীল পালনকারীর ষোল ভাগের একাংশ ফলও লাভ হয় না। ইহার কারণ কী? হে বিশাখে, দিব্য (স্বর্গীয়) সুখের নিকট মানবিক আধিপত্য নগণ্য হেতু।
হে বিশাখে, মনুষ্যদের পঞ্চাশ বৎসরে চতুর্মহারাজিক দেবতাদের এক দিবারাত্রি। তদ্রূপ ত্রিশদিন ও রাত্রিতে এক মাস, বারো মাসে এক বৎসর। এইরূপ পাঁচশত বৎসর চতুর্মহারাজিক দেবগণের আয়ুপ্রমাণ। কিন্তু বিশাখে, ইহা সম্ভব যে, কোনো কোনো স্ত্রী বা পুরুষ অষ্টাঙ্গ উপোসথশীল পালন করিয়া কায়ভেদে মৃত্যুর পর চতুর্মহারাজিক দেবগণের মধ্যে পুনর্জন্ম লাভ করিতে পারেন। হে বিশাখে, এই কারণেই আমি বলিয়াছি; “দিব্যসুখের নিকট মানবিক আধিপত্য নগণ্য।”
পুনঃ বিশাখে, মনুষ্যদের এক শত বৎসরে তাবতিংস (ত্রয়স্ত্রিংশ) দেবগণের এক দিবারাত্রি। তদ্রূপ ত্রিশ দিনরাত্রিতে এক মাস, বারো মাসে এক বৎসর। এইরূপ সহস্র বৎসর দিব্য আয়ু এই তাবতিংস দেবতাদের। হে বিশাখে, ইহা সম্ভব যে, কোনো কোনো স্ত্রী বা পুরুষ অষ্টাঙ্গ উপোসথশীল পালনের দ্বারা মৃত্যুর পর তাবতিংস দেবগণের মধ্যে পুনর্জন্ম লাভ করিতে পারেন। এই কারণেই আমি বলিয়াছি, “দিব্যসুখের নিকট মানবিক প্রভুত্ব নগণ্য।”
হে বিশাখে, মনুষ্যদের দ্বিশত বৎসরে যাম দেবগণের এক দিবারাত্রি। সেইরূপ ত্রিশ দিন-রাত্রিতে এক মাস, বারো মাসে এক বৎসর। তদ্রূপ দ্বি সহস্র বৎসর যাম দেবগণের আয়ু প্রমাণ। হে বিশাখে, ইহা সম্ভব যে, কোনো কোনো স্ত্রী বা পুরুষ অষ্টাঙ্গ উপোসথশীল পালন করিয়া কায়ভেদে মৃত্যুর পর যাম দেবগণের মধ্যে পুনর্জন্ম লাভ করিতে পারেন, এই কারণেই আমি বলিয়াছি, “দিব্যসুখের নিকট মানবিক রাজত্ব নগণ্য।”
হে বিশাখে, মনুষ্যদের চারি শত বৎসরে তুষিত দেবতাদের এক দিবারাত্রি। সেইরূপ ত্রিশ দিনরাত্রিতে এক মাস, বারো মাসে এক বৎসর। তদ্রূপ চারি সহস্র বৎসর তুষিত দেবগণের আয়ু। হে বিশাখে, ইহা সম্ভব যে, কোনো স্ত্রী বা পুরুষ অষ্টাঙ্গ উপোসথশীল পালন করিয়া কায়ভেদে মৃত্যুর পর তুষিত দেবগণের মধ্যে পুনর্জন্ম লাভ করিতে পারেন। এই কারণেই আমি বলিয়াছি, “দিব্যসুখের নিকট মনুষ্য আধিপত্য নগণ্য।”
হে বিশাখে, মনুষ্যদের আটশত বৎসরে নির্মাণরতি দেবগণের এক দিবারাত্রি। সেইরূপ ত্রিশ দিনরাত্রিতে এক মাস, বারো মাসে এক বৎসর। তদ্রূপ দিব্য আট সহস্র বৎসর নির্মাণরতি দেবগণের আয়ু প্রমাণ। হে বিশাখে, ইহা সম্ভব যে, কোনো স্ত্রী বা পুরুষ অষ্টাঙ্গ উপোসথশীল পালন করিয়া কায়ভেদে মৃত্যুর পর নির্মাণরতি দেবগণের মধ্যে পুনর্জন্ম লাভ করিতে পারেন। এই কারণেই আমি বলিয়াছি, “দিব্যসুখের নিকট মনুষ্য আধিপত্য নগণ্য।”
হে বিশাখে, মনুষ্যদের ষোড়শ শত বৎসরে পরনির্মিত বশবর্তী দেবগণের এক দিনরাত্রি। সেইরূপ ত্রিশ দিনরাত্রিতে এক মাস, বারো মাসে এক বৎসর। তদ্রূপ ষোড়শ সহস্র দিব্য আয়ু পরনির্মিত বশবর্তী দেবগণের আয়ু। হে বিশাখে, ইহা সম্ভব যে, কোনো স্ত্রী বা পুরুষ অষ্টাঙ্গ উপোসথশীল পালন করিয়া কায়ভেদে মৃত্যুর পর পরনির্মিত বশবর্তী দেবগণের মধ্যে পুনর্জন্ম লাভ করিতে পারেন। এই কারণেই আমি বলিয়াছি, “দিব্যসুখের নিকট মনুষ্য আধিপত্য নগণ্য।”
প্রাণিহত্যা করিবে না, অদত্তবস্তু গ্রহণ করিবে না,
মিথ্যা ভাষণ করিবে না, মদ্যপান করিবে না।
অব্রহ্মচর্য হইতে বিরত হইবে।
রাত্রিতে ভোজন করিবে না, অসময়ে খাদ্য গ্রহণ করিবে না,
মালা পরিবে না, সুগন্ধি ব্যবহার করিবে না,
মাটির উপর বিস্তৃত মাদুরে শয্যা গ্রহণ করিবে।
ইহাই অষ্টাঙ্গ উপোসথ শীল। বুদ্ধকর্তৃক দুঃখের অন্তসাধনের
উপায় ব্যাখ্যাত হইয়াছে।
চন্দ্র ও সূর্য যাহা দেখিতে মধুর সেইগুলি এইদিক
সেইদিক ঘুরাফেরা করে, সেইখানে ঘুরে তথায় আলো দেয়,
আকাশপথে ঘুরিতে ঘুরিতে অন্ধকার দূর করে,
মেঘমালা দীপ্তিমান সর্বত্র আলোকিত করে।
এই ভুমণ্ডলে সর্ববিধ ধন পাওয়া যায়-
মুক্তা, স্ফটিক, পান্না, ভাগ্য প্রস্তর, স্বর্ণ থালা;
দীপ্তিমান স্বর্ণ এবং যাহা হাটক নামে অভিহিত।
তথাপি এইসব অষ্টাঙ্গ উপোসথের ষোলাংশের
একাংশ যোগ্য নহে।
তারাগণ পরিবৃত চন্দ্রও না।
সুতরাং নর বা নারী যাহারা অষ্টাঙ্গ উপোসথ শীল রক্ষা করে,
পুণ্য অর্জন করে তাহারা অনিন্দিত স্বর্গে জন্ম লাভ করে।”
ব্যাখ্যা [০]