শ্রাবস্তী এই কথোপকথনের স্থান।
অতঃপর ছন্ন নামক পরিব্রাজক শ্রদ্ধেয় আনন্দকে দর্শন করিতে আসেন। উপনীত হইয়া বিনীতভাবে তাহাকে অভিবাদন করেন। অভিবাদন কার্য সম্পাদন করিয়া তিনি একপ্রান্তে উপবেশন করেন। একপ্রান্তে উপবিষ্ট পরিব্রাজক ছন্ন মহান আনন্দকে এইরূপ বলেন, “শ্রদ্ধেয় আনন্দ, আপনি কি রাগ (কাম লিপ্সা) দ্বেষ, মোহ পরিত্যাগের কথা প্রচার করেন?” “বন্ধুবর, হ্যাঁ আমরা রাগ, দ্বেষ ও মোহ পরিত্যাগের কথা প্রচার করি।” “বন্ধুবর, কি অসুবিধা প্রত্যক্ষ করিয়া আপনারা তদ্রূপ প্রচার করেন?”
“কেন মহাশয়, রাগাভিভূত ব্যক্তি চিত্তের নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া এমন চিন্তা করে যাহা তাহাকে দুঃখ দেয়, অপরকে দুঃখ দেয়, নিজ ও অপর উভয়কে দুঃখ দেয় এবং তদ্রূপ মানসিক দুঃখ ও নৈরাশ্য ভোগ করে। কিন্তু রাগ পরিত্যক্ত হইলে সে নিজে, অপরে, নিজে ও পরে উভয়ে দুঃখ ভোগ করে না এবং তাহার ফলে সে মানসিক দুঃখ ও নৈরাশ্য ভোগ করে না। পুনঃ মহাশয়, রাগাভিভূত ব্যক্তি কায়িক, বাচনিক ও মানসিক দুষ্কর্ম সম্পাদন করে। কিন্তু রাগ প্রহীন হইলে সে তদ্রূপ করে না। পুনঃ মহাশয়, রাগাভিভূত ব্যক্তি নিজের মঙ্গল, অপরের মঙ্গল, নিজের ও অপরের উভয়ের মঙ্গল যথাযথ উপলব্ধি করে না। কিন্তু রাগ পরিত্যক্ত হইলে সে নিজের অপরের কিংবা নিজের ও পরের উভয়ের মঙ্গল যথাযথ উপলব্ধি করে। পুনঃ রাগ অন্ধত্ব, অচক্ষুত্ব, অজ্ঞানতা, অপ্রজ্ঞার কারণ। ইহা (রাগ) দুঃখ সংযুক্ত, ইহা নির্বাণে পৌঁছায় না।
বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিও চিত্তের নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া এমন চিন্তা করে যাহা তাহাকে দুঃখ দেয়, অপরকে দুঃখ দেয়, নিজ ও অপর উভয়কে দুঃখ দেয় এবং তদ্রূপ মানসিক দুঃখ ও নৈরাশ্য ভোগ করে। কিন্তু দ্বেষ পরিত্যক্ত হইলে সে নিজে, অপরে, নিজে ও পরে উভয়ে দুঃখ ভোগ করে না এবং তাহার ফলে সে মানসিক দুঃখ ও নৈরাশ্য ভোগ করে না। পুনঃ মহাশয়, দ্বেষাভিভূত ব্যক্তি কায়িক, বাচনিক ও মানসিক দুষ্কর্ম সম্পাদন করে। কিন্তু দ্বেষ প্রহীন হইলে সে তদ্রূপ করে না। পুনঃ মহাশয়, দ্বেষাভিভূত ব্যক্তি নিজের মঙ্গল, অপরের মঙ্গল, নিজের ও অপরের উভয়ের মঙ্গল যথাযথ উপলব্ধি করে না। কিন্তু দ্বেষ পরিত্যক্ত হইলে সে নিজের অপরের কিংবা নিজের ও পরের উভয়ের মঙ্গল যথাযথ উপলব্ধি করে। পুনঃ দ্বেষ অন্ধত্ব, অচক্ষুত্ব, অজ্ঞানতা, অপ্রজ্ঞার কারণ। ইহা (দ্বেষ) দুঃখ-সংযুক্ত, ইহা নির্বাণে পৌঁছায় না।
মহাশয়, মোহপরায়ণ ব্যক্তি চিত্তের নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া এমন সব চিন্তা করে যাহা তাহাকে, অপরকে, নিজ ও অপর উভয়কে দুঃখ দেয় এবং তদ্রূপ মানসিক দুঃখ ও নৈরাশ্য ভোগ করে। কিন্তু মোহ পরিত্যক্ত হইলে সে তদ্রুপ করে না এবং তাহার ফলে মানসিক দুঃখ ও নৈরাশ্য ভোগ করে না। পুনঃ মহাশয়, মোহিত ব্যক্তি কায়িক, বাচনিক, মানসিক দুষ্কর্ম সম্পাদন করে। কিন্তু মোহ প্রহীন হইলে সে তদ্রূপ করে না। পুনঃ মহাশয়, মোহাভিভূত ব্যক্তি নিজের, অপরের কিংবা নিজের ও অপরের উভয়ের মঙ্গল যথাযথ উপলব্ধি করে না। কিন্তু মোহ পরিত্যক্ত হইলে সে নিজের, অপরের কিংবা নিজের ও অপরের উভয়ের মঙ্গল যথাযথ উপলব্ধি করে। পুনঃ মোহ অন্ধত্ব, অচক্ষুত্ব, অজ্ঞানতা অপ্রজ্ঞার কারণ। মোহ দুঃখ-সংযুক্ত, ইহা নির্বাণে উপনীত করে না।
“কিন্তু মহাশয়, রাগ, দ্বেষ, মোহ পরিত্যাগের কোনো মার্গ, কোনো প্রতিপদা আছে কি?” “হ্যাঁ মহাশয়, রাগ, দ্বেষ ও মোহ, প্রহীণের উপায়, প্রতিপদা নিশ্চয়ই আছে।” “মহাশয়, সেই উপায়টি কী? সেই প্রতিপদাটি কী?” “মহাশয়, ইহা আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ, যেমন-সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি।” “মহাশয়, রাগ, দ্বেষ, মোহ পরিত্যাগের এইটি উৎকৃষ্ট মার্গ, এইটি উৎকৃষ্ট প্রতিপদা। অধিকন্তু মহাশয় আনন্দ, অপ্রমাদের (উদ্যোগ গ্রহণে) পথে ইহা উপযোগী।”
ব্যাখ্যা [০]