লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

আজীবক সূত্র

“এক সময় মহামান্য আনন্দ কৌশাম্বীর ঘোষিতারামে অবস্থান করিতেছিলেন। অতঃপর জনৈক আজীবক (সন্ন্যাসী) শ্রাবক গৃহপতি আয়ুষ্মান আনন্দ যেখানে ছিলেন সেখানে উপস্থিত হন। উপস্থিত হইয়া শ্রদ্ধেয় আনন্দকে অভিবাদন করিয়া একপ্রান্তে উপবেশন করেন। একান্তে উপবিষ্ট আজীবক শ্রাবক গৃহপতি আয়ুষ্মান আনন্দকে এইরূপ বলেন, “ভবৎ আনন্দ, কাঁহার ধর্ম সু-ব্যাখ্যাত? জগতে কাঁহারা সৎপথে প্রতিপন্ন? কে জগতে সুগত?” “গৃহপতি, এখন আমি আপনাকে প্রতি প্রশ্ন করিব, আপনি যাহা উপযুক্ত মনে করেন তাহা উত্তর দিবেন। গৃহপতি, আপনার কী মনে হয়? যাঁহারা রাগ, দ্বেষ ও মোহ পরিত্যাগের জন্য ধর্ম ভাষণ করেন তাঁহাদের ধর্ম কি সু-ব্যাখ্যাত না সু-ব্যাখ্যাত নহে? এই বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?” “ভন্তে, যাঁহারা রাগ, দ্বেষ, মোহ পরিত্যাগের জন্য ধর্ম ভাষণ করেন তাঁহাদের ধর্ম সু-ব্যাখ্যাত। ইহাই আমার অভিমত।”

“গৃহপতি, আপনার অভিমত কী? যাঁহাদের রাগ, দ্বেষ ও মোহ পরিত্যক্ত তাঁহারা কি জগতে সৎপথে প্রতিপন্ন না, সৎপথে প্রতিপন্ন নহে?” “হ্যাঁ ভন্তে, তাঁহারা সৎপথে প্রতিপন্ন। ইহাই আমার অভিমত।”

“গৃহপতি, আপনি কী মনে করেন? যাঁহাদের রাগ, দ্বেষ ও মোহ পরিত্যক্ত, মূল ছিন্ন, তালবৃক্ষ সদৃশ ছিন্ন, অনুৎপত্তির হেতুতে পরিণত, ভবিষ্যতে পুনঃ গজাইতে পারে না এইরূপ ভাব প্রাপ্ত হইয়াছে, তাঁহারা কি জগতে সুগত না সুগত নহেন? আপনার মতামত কী?” “হ্যাঁ ভন্তে, তাঁহারা জগতে সুগত, আমার ইহাই মনে হয়।”

“তাহা হইলে আপনি ব্যাপকভাবে স্বীকার করিলেন-যাঁহারা রাগ, দ্বেষ ও মোহ পরিত্যাগের জন্য ধর্ম প্রচার করেন তাঁহাদের ধর্ম সু-ব্যাখ্যাত। যাঁহাদের রাগ, দ্বেষ ও মোহ পরিত্যক্ত, তাহারা জগতে সৎপথে প্রতিপন্ন, যাঁহাদের রাগ, দ্বেষ ও মোহ পরিত্যক্ত, মূল ছিন্ন, তালবৃক্ষ সদৃশ ছিন্ন, অনুৎপত্তির হেতুতে পরিণত, ভবিষ্যতে পুনঃ গজাইতে পারে না এইরূপ ভাব প্রাপ্ত হইয়াছে তাঁহারা জগতে সুগত।” “ভন্তে, ইহা আশ্চর্য! অদ্ভুত! এখানে স্ব ধর্মের কোনো প্রচার নাই, পর ধর্মেরও নিন্দা নাই, কিন্তু যথাযথ ক্ষেত্রে ধর্মের শিক্ষা, এই মাত্র। আপনি মানবের কল্যাণ সম্পর্কে বলিয়াছেন অথচ নিজের সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করেন নাই।”

“ভন্তে আনন্দ, আপনি নিজেই রাগ, দ্বেষ ও মোহ পরিত্যাগের ধর্ম প্রচার করেন। আপনি রাগ, দ্বেষ ও মোহ পরিত্যাগের জন্য নিজেকে পরিচালিত করেন এবং জগতে আপনি সৎপথে প্রতিপন্ন। ভবৎ আনন্দ, আপনার রাগ, দ্বেষ, মোহ পরিত্যক্ত, মূল ছিন্ন, তালবৃক্ষ সদৃশ ছিন্ন, অনুৎপত্তির হেতুতে পরিণত, ভবিষ্যতে পুনঃ গজাইতে পারে না এইরূপ ভাব প্রাপ্ত হইয়াছে। আপনি নিশ্চয়ই জগতে সুগত।”

“ভন্তে আশ্চর্য! অদ্ভুত! ভবৎ আনন্দ, যেমন অধোমুখীকে ঊর্ধ্বমুখী, আবৃতকে অনাবৃত, পথভ্রান্তকে পথপ্রদর্শন বা অন্ধকারে তৈলপ্রদীপ ধারণ করিলে চক্ষুষ্মান রূপ দর্শন করে, তদ্রুপ ভবৎ আনন্দ বিভিন্নভাবে ধর্ম পরিবেশন করেন। ভবৎ আনন্দ, আমাকে আজীবন শরণাগত উপাসক হিসেবে গ্রহণ করুন।”

ব্যাখ্যা [০]