“অতঃপর আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানকে দর্শনে আসেন। আসিয়া আয়ুষ্মান আনন্দ একপাশে উপবেশন করিলেন। একান্তে উপবিষ্ট আনন্দ ভগবানকে এইরূপ বলেন, ভগবানের সম্মুখে ইহা শুনিয়াছি। ভগবানের সম্মুখেই ইহা লাভ করিয়াছি, “আনন্দ, শিখী বুদ্ধের শ্রাবক অভিভূ ব্রহ্মলোকে স্থিত হইয়া সহস্র লোকধাতু শব্দ দ্বারা অবহিত করিতে পারিতেন।” ভন্তে, ভগবান অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ কতদূর পর্যন্ত তাঁহার শব্দ দ্বারা পরিব্যাপ্ত করিতে পারেন?” “আনন্দ, অভিভু ছিল শ্রাবক মাত্র। তথাগতের ক্ষেত্রে অপ্রমেয়।”
দ্বিতীয়বার আয়ুষ্মান ভগবানকে এইরূপ বলেন, ভগবানের সম্মুখে ইহা শুনিয়াছি। ভগবানের সম্মুখেই ইহা লাভ করিয়াছি, “আনন্দ, শিখী বুদ্ধের শ্রাবক অভিভু ব্রহ্মলোকে স্থিত হইয়া সহস্র লোকধাতু শব্দ দ্বারা পরিব্যাপ্ত করিতে পারেন?” “আনন্দ, সহস্র ছোটো লোকধাতু (জগৎ) সম্পর্কে কখনও শুনিয়াছ কি?” ভগবান, ইহাই সময়! সুগত ইহাই কাল! ভগবানকে এই ব্যাপারে ভাষণের! ভগবানের নিকট শুনিয়া ভিক্ষুগণ ইহা মনে ধারণ করিবেন।” “তাহা হইলে আনন্দ, শ্রবণ কর, মনোযোগ-সহকারে শ্রবণ কর আমি ভাষণ করিতেছি।” “ভন্তে, তাহাই হউক”, আনন্দ ভগবানের উত্তর দিলেন। ভগবান এইরূপ বলেন :
“আনন্দ, যাবৎ চন্দ্র-সূর্য তাহাদের গতিপথে ঘুরে এবং তাহাদের প্রভায় সর্বত্র আলোকিত করে ততদূর পর্যন্ত সহস্রগুণ জগৎ। তাহাতে আছে সহস্র চন্দ্র, সহস্র সূর্য, সহস্র পর্বতরাজ সিনেরু, সহস্র জম্বুদ্বীপ, সহস্র অপরগোয়ান, সহস্র উত্তর কুরু, সহস্র পূর্ববিদেহ, চারি মহাসমুদ্র, চারি সহস্র শক্তিশালী রাজা। সহস্র চারি মহারাজ, সহস্র তাবতিংস স্বর্গ, সহস্র যামলোক, সহস্র তুষিত স্বর্গ, সহস্র নির্মাণরতি স্বর্গ, সহস্র পরনির্মিত বশবর্তী, সহস্র ব্রহ্মলোক আনন্দ, ইহাকেই বলা হয় “সহস্র ক্ষুদ্র লোকধাতু”। আনন্দ, সহস্র ক্ষুদ্র লোকধাতুর সহস্রগুণ হইল “দুই সহস্র মধ্যম লোকধাতু”, আনন্দ, দুই সহস্র মধ্যম লোকধাতুর সহস্রগুণ হইল “ত্রি-সহস্র মহাসহস্র লোকধাতু (জগৎ)।” এখন আনন্দ, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তথাগত তাঁহার শব্দ ত্রি-সহস্র মহা সহস্র লোকধাতু পর্যন্ত বা যদি আকাঙ্ক্ষা করেন তাহারও অধিক পর্যন্ত শ্রবণ করাইতে পারেন।”
“ভন্তে, ভগবান যদি ইচ্ছা করেন তাঁহার শব্দ ত্রি-সহস্র মহাসহস্র লোকধাতু পর্যন্ত শ্রবণ করাইতে পারেন তাহা কিরূপে করা যাইতে পারে?” “আনন্দ, তথাগত ত্রি-সহস্র মহাসহস্র লোকধাতু আলো দ্বারা পরিব্যাপ্ত করেন। যখন এইসব জগতের অধিবাসীরা ইহা অনুভব করে তখনই তথাগত শব্দ উচ্চারণ করেন এবং শব্দ শ্রবণ করান। এইভাবেই তিনি তাহা করেন।”
এইরূপ উক্ত হইলে শ্রদ্ধেয় আনন্দ আয়ুষ্মান উদায়ীকে এইরূপ বলেন : “প্রকৃতপক্ষে আমার জন্য ইহা লাভ! আমার পক্ষে সুলব্ধ যে আমার শাস্তা (শিক্ষক) এইরূপ মহা শক্তিধর এবং মহানুভবসম্পন্ন!” ইহাতে আয়ুষ্মান উদায়ী আয়ুষ্মান আনন্দকে বলেন, “আয়ুষ্মান আনন্দ, ইহা কীরূপ যে, আপনারই শাস্তা এইরূপ মহা শক্তিধর এবং মহানুভবসম্পন্ন?” এই কথা পরিপ্রেক্ষিতে ভগবান আয়ুষ্মান উদায়ীকে উক্তি করেন, “উদায়ী, এইরূপ বল না! উদায়ী, এইরূপ বল না! দুঃখের অবসানকারী আনন্দ অদ্যাবধি অবীতরাগ (রাগমুক্ত) হইলেও তাহার চিত্তের প্রসন্নতা গুণে সে সাতবার দেবতাদের মধ্যে রাজত্ব করিত, সাতবার এই জম্বুদ্বীপের রাজত্ব লাভ করিত। কিন্তু উদায়ী, আনন্দ ইহজীবনেই পরিনির্বাণ লাভ করিবে।”
ব্যাখ্যা [০]