লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৭]

প্রবিবেক সূত্র

“ভিক্ষুগণ, অন্যতীর্থিয় পরিব্রাজকগণ এই তিন প্রকার নির্জনতা আদেশ করেন। কী কী? চীবর প্রবিবেক, পিণ্ডপাত (আহার) প্রবিবেক, আবাস প্রবিবেক। চীবর প্রবিবেকের ক্ষেত্রে অন্য তীর্থিয় পরিব্রাজকগণ মোটা কাপড়, শনের বস্ত্র, বিবিধ আঁশনির্মিত বস্ত্র, বাতিল মৃত বস্ত্র, জঞ্জাল স্তূপের কম্বল, গাছের বাকলের আঁশ, কৃষ্ণসার মৃগচর্ম, মৃগচর্মের ফালি, কুশ-তৃণ-বস্ত্র, বৃক্ষ-বাকলের বস্ত্র, তক্তার আঁশ, কেশ কম্বল, মনুষ্যচুল-নির্মিত কম্বল, পেঁচকের ডানা পরিধানের আদেশ করেন। ভিক্ষুগণ, চীবর সম্পর্কে তাঁহারা এই প্রবিবেক প্রজ্ঞাপন করেন। তৎপর ভিক্ষুগণ, অন্য তীর্থিয় পরিব্রাজকেরা আহার সম্পর্কে এইরূপ প্রবিবেক নির্দেশ করেন-তাঁহারা শাক-সব্জি, জোয়ার, শুকনা চাউল, বন্য চাউল, চাউলের গুঁড়া, ভাতের জ্বলন্ত গাঁজলা, বীজ তৈলের ময়দা, তৃণ এবং গোবর ভক্ষণ করেন। তাঁহারা বনের শিকড় এবং ফল, পতিত ফলাহার করিয়া নিজেদের বাঁচাইয়া রাখেন। তাঁহাদের আহার প্রবিবেক এইরূপ।

পুনঃ ভিক্ষুগণ, অন্য তীর্থিয় পরিব্রাজকগণ, আবাস নির্জনতা ব্যাপারে এইরূপ নিয়ম ঘোষণা করেন-অরণ্যে বৃক্ষমূলে, শ্মশানে, নির্জন জঙ্গল পথে, মুক্ত আকাশে, খর স্তূপে, খড়কুটার চালাবিশিষ্ট আশ্রয়ে-পরিব্রাজকগণ এইরূপ আবাসের নির্দেশ করেন। ভিক্ষুগণ, অন্য তীর্থিয় পরিব্রাজকদের নির্জনতার এই তিনটি নির্দেশ।

ভিক্ষুগণ, এই ধর্ম-বিনয়ে ভিক্ষুর তিন প্রকার নির্জনতা (প্রবিবেক) আছে। কী কী? ভিক্ষুগণ, ভিক্ষু শীলবান, সে দুঃশীলতা পরিত্যাগ করিয়াছে। তাহা হইতে সে নির্জন। তাহার আছে সম্যক দৃষ্টি, সে মিথ্যাদৃষ্টি পরিত্যাগ করিয়াছে। তাহা হইতে সে নির্জন। সে আসক্তি ক্ষয় করিয়াছে, তাহা দ্বারা আসক্তি পরিত্যক্ত, তাহা হইতে সে নির্জন। ভিক্ষুগণ, এই তিন, “পূর্ণতা প্রাপ্ত হইয়াছে,” সার প্রাপ্ত হইয়াছে, শুদ্ধ সারে প্রতিষ্ঠিত” (শীল, সমাধি, প্রজ্ঞাসার)

যেমন ভিক্ষুগণ, কোনো কৃষক গৃহপতির শালিক্ষেত্র যথাযথ পর্যায়ে আছে। সেই কৃষক শীঘ্রই ধান্য কর্তন করে এবং এইরূপ করিয়া শীঘ্রই শস্য সংগ্রহ করে, শীঘ্রই আঁটি হইতে মাড়াইয়া লয়, ছাড়াইয়া লয়, তুষ উড়াইয়া দেয়, চাউল সংগ্রহ করে, ঝাড় দেয়, শীঘ্রই তুষ বাহির করে। এইভাবে সেই কৃষক গৃহপতির শস্য পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়, সার প্রাপ্ত হয়, পরিষ্কৃত ও শুদ্ধ সারে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ব্যাখ্যা [০]