“একসময় পোতলিয় পরিব্রাজক ভগবানের কাছে উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে প্রীতিপূর্ণ কুশলালাপ করে একপার্শ্বে উপবেশন করলেন। উপবিষ্ট পোতলিয় পরিব্রাজককে ভগবান এরূপ বললেন :
“হে পোতলিয়, জগতে চার প্রকার পুদ্গল বিদ্যমান। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : এ জগতে কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে, কিন্তু প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে, কিন্তু প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দাও করে না, প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসাও করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে এবং প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে। জগতে এই চার প্রকার পুদ্গল বিদ্যমান। পোতলিয়, এ চার প্রকার পুদ্গলের মধ্যে তোমার কোন পুদ্গলকে শ্রেষ্ঠতর, উৎকৃষ্টতর বলে মনে হয়?”
“মহাশয় গৌতম, জগতে চার প্রকার পুদ্গল বিদ্যমান। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : এ জগতে কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে, কিন্তু প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে, কিন্তু প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দাও করে না, প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসাও করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে এবং প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে। জগতে এ চার প্রকার পুদ্গল বিদ্যমান। মহাশয় গৌতম, এ চার প্রকার পুদ্গলের মধ্যে যে পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে না এবং প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে না; আমার মনে হয় সেই পুদ্গলই শ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতর। তার কারণ কী? যেহেতু এটা সর্বোচ্চ উদাসীনতা।”
“পোতলিয়, জগতে চার প্রকার পুদ্গল বিদ্যমান। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : এ জগতে কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে, কিন্তু প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে, কিন্তু প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দাও করে না, প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসাও করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে এবং প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে। জগতে এ চার প্রকার পুদ্গল বিদ্যমান। পোতলিয়, এ চার প্রকার পুদ্গলের মধ্যে যে পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে এবং প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে, সেই পুদ্গলই শ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতর। তার কারণ কী? যেহেতু এটা সর্বত্র কালজ্ঞ।”
“মহাশয় গৌতম, জগতে চার প্রকার পুদ্গল বিদ্যমান। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : এ জগতে কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে, কিন্তু প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে, কিন্তু প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দাও করে না, প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসাও করে না। কোনো পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে এবং প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে। আমার মনে হয় এ চার প্রকার পুদ্গলের মধ্যে যে পুদ্গল প্রকৃত নিন্দনীয়ের নিন্দা করে এবং প্রকৃত প্রশংসনীয়ের প্রশংসা করে, সেই পুদ্গলই শ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতর। তার কারণ কী? যেহেতু এটা সর্বত্র কালজ্ঞ।”
“মহাশয় গৌতম, খুবই উত্তম! খুবই উত্তম! যেমন অধোমুখীকে ঊর্ধ্বমুখী করে, আবৃতকে অনাবৃত করে, পথভ্রষ্টকে পথ নির্দেশ করে, অন্ধকারে তৈল প্রদীপ ধারণ করে, যাতে চক্ষুষ্মান রূপসমূহ দেখতে পায়। এরূপে মহাশয় গৌতম কর্তৃক অনেক পর্যায়ে ধর্ম প্রকাশিত করা হয়েছে। আমি মহাশয় গৌতমের, তাঁর প্রবর্তিত ধর্মের এবং ভিক্ষুসংঘের শরণাগত হলাম। আজ হতে আমরণ পর্যন্ত আমাকে আপনার শরণাগত উপাসক হিসেবে ধারণা করুন।” (দশম সূত্র)
অসুর বর্গ পঞ্চম সমাপ্ত।
স্মারক-গাথা :
অসুর, তিন সমাধি, পোড়া কাষ্ঠসহ হয় পঞ্চম
রাগ, মনোযোগী, আত্মহিত, শিক্ষা, পোতলিয় দশম।
দ্বিতীয় পঞ্চাশক সমাপ্ত।
ব্যাখ্যা [০]