“হে ভিক্ষুগণ, তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাবে চার প্রকার আশ্চর্য অদ্ভুত ধর্ম প্রাদুর্ভাব হয়। সেই চার প্রকার ধর্ম কী কী? যথা : বোধিসত্ত্ব যখন তুষিত দেবলোক ত্যাগ করে স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞানে মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন, তখন দেবলোক, ব্রহ্মলোক, মার ভুবনসহ এ জগতে শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দেব-মনুষ্যগণের দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্তি প্রাদুর্ভূত হয়। অনন্তঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন লোকান্তরিক নিরয় যেখানে মহাঋদ্ধিসম্পন্ন এবং মহানুভাব চন্দ্র-সূর্যের কিরণ প্রবেশ করতে অক্ষম, সেখানেও দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্তি প্রাদুর্ভূত হয়। যেসব সত্ত্ব ওই স্থানে উৎপন্ন হয়েছে তারাও সেই আলোতে পরস্পরকে জানতে পারে : ‘ওহো! অন্যান্য সত্ত্বও এখানে উৎপন্ন হয়েছে।’ তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাবে এই প্রথম আশ্চর্য, অদ্ভুত ধর্ম প্রাদুর্ভূত হয়।
পুনঃ, বোধিসত্ত্ব যখন স্মৃতি-সম্প্রজ্ঞানে মাতৃকুক্ষি হতে ভূমিষ্ঠ হন; তখন দেবলোক, ব্রহ্মলোক, মার ভুবনসহ এ জগতে শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দেব-মনুষ্যগণের দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্তি প্রাদুর্ভূত হয়। অনন্তঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন লোকান্তরিক নিরয় যেখানে মহাঋদ্ধিসম্পন্ন এবং মহানুভাব চন্দ্র-সূর্যের কিরণ প্রবেশ করতে অক্ষম, সেখানেও দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্তি প্রাদুর্ভূত হয়। যেসব সত্ত্ব ওই স্থানে উৎপন্ন হয়েছে তারাও সেই আলোতে পরস্পরকে জানতে পারে : ‘ওহো! অন্যান্য সত্ত্বও এখানে উৎপন্ন হয়েছে।’ তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাবে এই দ্বিতীয় আশ্চর্য, অদ্ভুত ধর্ম প্রাদুর্ভূত হয়।
পুনঃ, তথাগত যখন অনুত্তর সম্যক বুদ্ধত্বজ্ঞান প্রাপ্ত হন, তখন দেবলোক, ব্রহ্মলোক, মার ভুবনসহ এ জগতে শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দেব-মনুষ্যগণের দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্তি প্রাদুর্ভূত হয়। অনন্তঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন লোকান্তরিক নিরয় যেখানে মহাঋদ্ধিসম্পন্ন এবং মহানুভাব চন্দ্র-সূর্যের কিরণ প্রবেশ করতে অক্ষম, সেখানেও দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্তি প্রাদুর্ভূত হয়। যেসব সত্ত্ব ওই স্থানে উৎপন্ন হয়েছে তারাও সেই আলোতে পরস্পরকে জানতে পারে : ‘ওহো! অন্যান্য সত্ত্বও এখানে উৎপন্ন হয়েছে।’ তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাবে এই তৃতীয় আশ্চর্য, অদ্ভুত ধর্ম প্রাদুর্ভূত হয়।
পুনঃ, তথাগত যখন অনুত্তর ধর্মচক্র প্রবর্তন করেন, তখন দেবলোক, ব্রহ্মলোক, মার ভুবনসহ এ জগতে শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দেব-মনুষ্যগণের দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্তি প্রাদুর্ভূত হয়। অনন্তঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন লোকান্তরিক নিরয় যেখানে মহাঋদ্ধিসম্পন্ন এবং মহানুভাব চন্দ্র-সূর্যের কিরণ প্রবেশ করতে অক্ষম, সেখানেও দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্তি প্রাদুর্ভূত হয়। যেসব সত্ত্ব ওই স্থানে উৎপন্ন হয়েছে তারাও সেই আলোতে পরস্পরকে জানতে পারে : ‘ওহো! অন্যান্য সত্ত্বও এখানে উৎপন্ন হয়েছে।’ তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাবে এই চতুর্থ আশ্চর্য, অদ্ভুত ধর্ম প্রাদুর্ভূত হয়। ভিক্ষুগণ, তথাগত অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধের আবির্ভাবে এই চার প্রকার আশ্চর্য, অদ্ভুত ধর্ম প্রাদুর্ভূত হয়।” (সপ্তম সূত্র)
ব্যাখ্যা [০]