“হে ভিক্ষুগণ, চক্রবর্তী রাজার চার প্রকার আশ্চর্য, অদ্ভুত ধর্ম বিদ্যমান। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : ক্ষত্রিয় পরিষদ যদি চক্রবর্তী রাজার দর্শনার্থে উপস্থিত হয়, তাহলে সেই দর্শন লাভে তারা আনন্দিত হয়। তখন যদি চক্রবর্তী রাজা উপদেশ প্রদান করে, তাহলে সেই উপদেশ শ্রবণ করে তারা আনন্দিত হয়। আর চক্রবর্তী রাজা মৌন থাকলে ক্ষত্রিয় পরিষদের তৃপ্তি মিটে না।
ব্রাহ্মণ পরিষদ যদি চক্রবর্তী রাজার দর্শনার্থে উপস্থিত হয়, তাহলে সেই দর্শন লাভে তারা আনন্দিত হয়। তখন যদি চক্রবর্তী রাজা উপদেশ প্রদান করে, তাহলে সেই উপদেশ শ্রবণ করে তারা আনন্দিত হয়। আর চক্রবর্তী রাজা মৌন থাকলে ব্রাহ্মণ পরিষদের তৃপ্তি মিটে না।
গৃহপতি পরিষদ যদি চক্রবর্তী রাজার দর্শনার্থে উপস্থিত হয়, তাহলে সেই দর্শন লাভে তারা আনন্দিত হয়। তখন যদি চক্রবর্তী রাজা উপদেশ প্রদান করে, তাহলে সেই উপদেশ শ্রবণ করে তারা আনন্দিত হয়। আর চক্রবর্তী রাজা মৌন থাকলে গৃহপতি পরিষদের তৃপ্তি মিটে না।
শ্রমণ পরিষদ যদি চক্রবর্তী রাজার দর্শনার্থে উপস্থিত হয়, তাহলে সেই দর্শন লাভে তারা আনন্দিত হয়। তখন যদি চক্রবর্তী রাজা উপদেশ প্রদান করে, তাহলে সেই উপদেশ শ্রবণ করে তারা আনন্দিত হয়। আর চক্রবর্তী রাজা মৌন থাকলে শ্রমণ পরিষদের তৃপ্তি মিটে না। ভিক্ষুগণ, চক্রবর্তী রাজার এই চার প্রকার আশ্চর্য, অদ্ভুত ধর্ম বিদ্যমান।
ভিক্ষুগণ, ঠিক এরূপে আনন্দের চার প্রকার আশ্চর্য, অদ্ভুত ধর্ম বিদ্যমান। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : ভিক্ষু পরিষদ যদি আনন্দকে দর্শনার্থে উপস্থিত হয়, তাহলে সেই দর্শন লাভে তারা আনন্দিত হয়, তখন যদি আনন্দ ধর্মদেশনা প্রদান করে, তাহলে সেই ধর্মদেশনা শ্রবণ করে তারা আনন্দিত হয়। আর আনন্দ মৌন থাকলে ভিক্ষু পরিষদের তৃপ্তি মিটে না।
ভিক্ষুণী পরিষদ যদি আনন্দকে দর্শনার্থে উপস্থিত হয়, তাহলে সেই দর্শন লাভে তারা আনন্দিত হয়, তখন যদি আনন্দ ধর্মদেশনা প্রদান করে, তাহলে সেই ধর্মদেশনা শ্রবণ করে তারা আনন্দিত হয়। আর আনন্দ মৌন থাকলে ভিক্ষুণী পরিষদের তৃপ্তি মিটে না।
উপাসক পরিষদ যদি আনন্দকে দর্শনার্থে উপস্থিত হয়, তাহলে সেই দর্শন লাভে তারা আনন্দিত হয়, তখন যদি আনন্দ ধর্মদেশনা প্রদান করে, তাহলে সেই ধর্মদেশনা শ্রবণ করে তারা আনন্দিত হয়। আর আনন্দ মৌন থাকলে উপাসক পরিষদের তৃপ্তি মিটে না।
উপাসিকা পরিষদ যদি আনন্দকে দর্শনার্থে উপস্থিত হয়, তাহলে সেই দর্শন লাভে তারা আনন্দিত হয়, তখন যদি আনন্দ ধর্মদেশনা প্রদান করে, তাহলে সেই ধর্মদেশনা শ্রবণ করে তারা আনন্দিত হয়। আর আনন্দ মৌন থাকলে উপাসিকা পরিষদের তৃপ্তি মিটে না।
ভিক্ষুগণ, আনন্দের এই চার প্রকার আশ্চর্য, অদ্ভুত ধর্ম বিদ্যমান।” (দশম সূত্র)
ভয় বর্গ সমাপ্ত।
স্মারক-গাথা :
আত্মানুবাদ, ঊর্মি, নানাকরণ দুটি করে সবই
মৈত্রী, আশ্চর্য দুটি দুটি মিলে হয় দশমই।
ব্যাখ্যা [০]