লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৬]

ক্ষমাশীল সূত্র (প্রথম)

“হে ভিক্ষুগণ, প্রতিপদা চার প্রকার। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : অক্ষমা (ক্ষমাহীনতা) প্রতিপদা, ক্ষমা বা ক্ষমাশীল প্রতিপদা, আত্মদমন প্রতিপদা ও সমা বা মনের সমভাব প্রতিপদা।

ভিক্ষুগণ, অক্ষমা (ক্ষমাহীন) প্রতিপদা কিরূপ? এ জগতে কোনো কোনো ব্যক্তি আক্রোশকারীকে প্রতি-আক্রোশ করে, রোষকারীকে প্রতিরোষ করে ও বিবাদকারীর সঙ্গে প্রতিবিবাদ করে। একেই বলে অক্ষমা প্রতিপদা।

ক্ষমা বা ক্ষমাশীল প্রতিপদা কিরূপ? এ জগতে কোনো কোনো ব্যক্তি আক্রোশকারীকে প্রতি-আক্রোশ করে না, রোষকারীকে প্রতিরোষ করে না, আর বিবাদকারীর সঙ্গে প্রতিবিবাদ করে না। একেই বলে ক্ষমা বা ক্ষমাশীল প্রতিপদা।

আত্মদমন প্রতিপদা কিরূপ? এ জগতে ভিক্ষু চক্ষু দিয়ে রূপ দেখে নিমিত্তগ্রাহী , অনুব্যঞ্জনগ্রাহী হয় না। এ হেতুতে সামান্য অসংযতভাবে বিচরণকারী চক্ষু-ইন্দ্রিয়কে অভিধ্যা-দৌর্মনস্যাদি অকুশল পাপধর্ম আক্রমণ করলেও আচ্ছন্ন করতে পারে না। যেহেতু ভিক্ষু চক্ষু সংবরণে অভিনিবিষ্ট থাকে, চক্ষু-ইন্দ্রিয়কে রক্ষা করে, চক্ষু-ইন্দ্রিয়ে সংবরণ উৎপন্ন করে। কর্ণ দিয়ে শব্দ শুনে নিমিত্তগ্রাহী, অনুব্যঞ্জনগ্রাহী হয় না। এ হেতুতে সামান্য অসংযতভাবে বিচরণকারী কর্ণ-ইন্দ্রিয়কে অভিধ্যা-দৌর্মনস্যাদি অকুশল পাপধর্ম আক্রমণ করলেও আচ্ছন্ন করতে পারে না। যেহেতু ভিক্ষু কর্ণ সংবরণে অভিনিবিষ্ট থাকে, কর্ণ-ইন্দ্রিয়কে রক্ষা করে, কর্ণ-ইন্দ্রিয়ে সংবরণ উৎপন্ন করে। নাসিকা দিয়ে ঘ্রাণ নিয়ে নিমিত্তগ্রাহী, অনুব্যঞ্জনগ্রাহী হয় না। এ হেতুতে সামান্য অসংযতভাবে বিচরণকারী নাসিকা-ইন্দ্রিয়কে অভিধ্যা-দৌর্মনস্যাদি অকুশল পাপধর্ম আক্রমণ করলেও আচ্ছন্ন করতে পারে না। যেহেতু ভিক্ষু নাসিকা সংবরণে অভিনিবিষ্ট থাকে, নাসিকা-ইন্দ্রিয়কে রক্ষা করে, নাসিকা-ইন্দ্রিয়ে সংবরণ উৎপন্ন করে। জিহ্বা দিয়ে রস আস্বাদন করে নিমিত্তগ্রাহী, অনুব্যঞ্জনগ্রাহী হয় না। এ হেতুতে সামান্য অসংযতভাবে বিচরণকারী জিহ্বা-ইন্দ্রিয়কে অভিধ্যা-দৌর্মনস্যাদি অকুশল পাপধর্ম আক্রমণ করলেও আচ্ছন্ন করতে পারে না। যেহেতু ভিক্ষু জিহ্বা সংবরণে অভিনিবিষ্ট থাকে, জিহ্বা-ইন্দ্রিয়কে রক্ষা করে, জিহ্বা-ইন্দ্রিয়ে সংবরণ উৎপন্ন করে। কায় দিয়ে স্পর্শ অনুভব করে নিমিত্তগ্রাহী, অনুব্যঞ্জনগ্রাহী হয় না। এ হেতুতে সামান্য অসংযতভাবে বিচরণকারী কায়-ইন্দ্রিয়কে অভিধ্যা-দৌর্মনস্যাদি অকুশল পাপধর্ম আক্রমণ করলেও আচ্ছন্ন করতে পারে না। যেহেতু ভিক্ষু কায় সংবরণে অভিনিবিষ্ট থাকে, কায়-ইন্দ্রিয়কে রক্ষা করে, কায়-ইন্দ্রিয়ে সংবরণ উৎপন্ন করে। মন দিয়ে ধর্ম জেনে নিমিত্তগ্রাহী, অনুব্যঞ্জনগ্রাহী হয় না। এ হেতুতে সামান্য অসংযতভাবে বিচরণকারী মন-ইন্দ্রিয়কে অভিধ্যা-দৌর্মনস্যাদি অকুশল পাপধর্ম আক্রমণ করলেও আচ্ছন্ন করতে পারে না। যেহেতু ভিক্ষু মন সংবরণে অভিনিবিষ্ট থাকে, মন-ইন্দ্রিয়কে রক্ষা করে, মন-ইন্দ্রিয়ে সংবরণ উৎপন্ন করে। একেই বলা হয় আত্মদমন প্রতিপদা।

সমা (মনের সমভাব) প্রতিপদা কিরূপ? এ জগতে ভিক্ষু উৎপন্ন কাম বিতর্ক গ্রহণ না করে বরং তা পরিত্যাগ, অপনোদন করে সমূলে বিনষ্ট করে এবং চিত্ত পরিশুদ্ধ করে। উৎপন্ন ব্যাপাদ বিতর্ক গ্রহণ না করে বরং তা পরিত্যাগ, অপনোদন করে সমূলে বিনষ্ট করে এবং চিত্ত পরিশুদ্ধ করে। উৎপন্ন বিহিংসা বিতর্ক গ্রহণ না করে বরং তা পরিত্যাগ, অপনোদন করে সমূলে বিনষ্ট করে এবং চিত্ত পরিশুদ্ধ করে। উৎপন্ন-অনুৎপন্ন পাপ ও অকুশলধর্মসমূহ গ্রহণ না করে বরং তা পরিত্যাগ, অপনোদন করে সমূলে বিনষ্ট করে এবং চিত্ত পরিশুদ্ধ করে। একেই সমা প্রতিপদা বলে। ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকার প্রতিপদা।” (চতুর্থ সূত্র)

ব্যাখ্যা [০]