“হে ভিক্ষুগণ, কায়ের কারণে ও কায়িক জ্ঞান (সঞ্চেতন) হেতু আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। বাক্যের কারণে ও বাক্ সঞ্চেতন হেতু আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। মনের কারণে ও মানসিক সঞ্চেতন হেতু আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয় ও অবিদ্যা প্রত্যয়ে আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়।
নিজের দ্বারা কায়সংস্কার পুনঃ প্রকাশ (পুনঃ জাগ্রত) পায়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। অপরের দ্বারাও কায়সংস্কার পুনঃ প্রকাশ পায়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। সম্প্রজ্ঞানে বা ইচ্ছাপূর্বক কায়সংস্কার পুনঃ প্রকাশ হয়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। অসম্প্রজ্ঞানতায় বা অনিচ্ছাপূর্বক কায়সংস্কার পুনঃ প্রকাশ পায়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়।
নিজের দ্বারা বাচনিক সংস্কার পুনঃ প্রকাশ পায়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। অপরের দ্বারাও বাচনিক সংস্কার পুনঃ প্রকাশ পায়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। সম্প্রজ্ঞানে বা ইচ্ছাপূর্বক বাচনিক সংস্কার পুনঃ প্রকাশ পায়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। অসম্প্রজ্ঞানতায় বা অনিচ্ছাপূর্বক বাচনিক সংস্কার পুনঃ প্রকাশ পায়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়।
নিজের দ্বারা মনঃসংস্কার পুনঃ প্রকাশ হয়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। অপরের দ্বারাও মনঃসংস্কার পুনঃ প্রকাশ পায়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। সম্প্রজ্ঞানে বা ইচ্ছাপূর্বক মনঃসংস্কার পুনঃ প্রকাশ পায়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। অসম্প্রজ্ঞানতায় বা অনিচ্ছাপূর্বক মনঃসংস্কার পুনঃ প্রকাশ পায়, যার দরুন আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়।
ভিক্ষুগণ, এ ধর্মসমূহে অবিদ্যা সংঘটিত হয়, অবিদ্যার সম্পূর্ণরূপে বিরাগ, নিরোধ হলে কায় উৎপন্ন হয় না, যে প্রত্যয়ে বা (যার দরুন) সেই আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। বাক্য উৎপন্ন হয় না, যার দরুন সেই আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। মন উৎপন্ন হয় না, যার কারণে সেই আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। ক্ষেত্র উৎপন্ন হয় না, যার কারণে সেই আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। বস্তু উৎপন্ন হয় না, যার কারণে সেই আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। আয়তন উৎপন্ন হয় না, যার কারণে সেই আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়। সেই অধিকরণ উৎপন্ন হয় না, যার কারণে সেই আধ্যাত্মিক সুখ-দুঃখ উৎপন্ন হয়।”
“হে ভিক্ষুগণ, আত্মভাব প্রতিলাভ চার প্রকার। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : এমন আত্মভাব (বা দেহসম্পত্তি) প্রতিলাভ আছে, যেই আত্মভাব প্রতিলাভের দরুন আত্মসঞ্চেতন বা আত্ম-জ্ঞান লাভ (আত্ম বিষয়ে জ্ঞান বা ধারণা) হয়, পরোপলব্ধি (অপরের সম্বন্ধে জ্ঞান বা ধারণা) হয় না। এমন আত্মভাব প্রতিলাভ আছে, যেই আত্মভাব প্রতিলাভের দরুন পরোপলব্ধি হয়, কিন্তু আত্মোপলব্ধি হয় না। আবার, এমন আত্মভাব প্রতিলাভ আছে, যেই আত্মভাব প্রতিলাভের দরুন আত্মোপলব্ধিও হয়, পরোপলব্ধিও হয়। এমন আত্মভাব প্রতিলাভ আছে, যেই আত্মভাব প্রতিলাভের দরুন আত্মোপলব্ধিও হয় না, পরোপলব্ধিও হয় না। এই চার প্রকার আত্মভাব প্রতিলাভ।”
এরূপে ব্যক্ত হলে আয়ুষ্মান সারিপুত্র ভগবানকে এরূপ বললেন, “ভন্তে ভগবান কর্তৃক সংক্ষিপ্তভাবে ভাষিত এই বিষয়ের অর্থ এরূপে আমি বিস্তৃতভাবে জানি। ভন্তে, তথায় যেরূপ আত্মভাব (বা দেহসম্পত্তি) প্রতিলাভের দরুন আত্মোপলব্ধি হয়, কিন্তু পরোপলব্ধি হয় না, তাদৃশ আত্মোপলব্ধি হেতু সেই সত্ত্বগণের (দেবগণের) কায় তথা হতে চ্যুত হয়। তথায় যেরূপ আত্মভাব প্রতিলাভের দরুন পরোপলব্ধি হয়, কিন্তু আত্মোপলব্ধি হয় না, সেরূপ পরোপলব্ধি হেতু সেই সত্ত্বগণের কায়ও তথা হতে চ্যুত হয়। তথায় যেরূপ আত্মভাব প্রতিলাভের দরুন আত্মোপলব্ধি ও পরোপলব্ধি উভয়ই হয় এবং সেরূপ আত্মোপলব্ধি পরোপলব্ধি হেতু সেই সত্ত্বগণের কায় তথা হতে চ্যুত হয়। ভন্তে, তথায় যেরূপ আত্মভাব প্রতিলাভের দরুন আত্মোপলব্ধিও হয় না, পরোপলব্ধিও হয় না, তা দ্বারা তাদের কোন দেবগণরূপে জানা উচিত?” “হে সারিপুত্র, তাদের নৈবসংজ্ঞা-নাসংজ্ঞায়তন প্রাপ্ত দেবগণরূপে জানা উচিত।”
“ভন্তে, কোন হেতু ও কোন প্রত্যয়ে কোনো কোনো সত্ত্ব তথা হতে চ্যুত হয়ে এ জগতে আগমন ও প্রত্যাগমন করে? আর কোন হেতু ও কোন প্রত্যয়ের কারণে কোনো কোনো সত্ত্ব তথা হতে চ্যুত হয়ে এ জগতে আগমন ও প্রত্যাগমন করে না?” “হে সারিপুত্র, এ জগতে কোনো কোনো পুদ্গলের অধোভাগীয় সংযোজনসমূহ অপ্রহীন থাকে; সে এজন্মে নৈবসংজ্ঞা-নাসংজ্ঞায়তন লাভ করে অবস্থান করে। সে তা আস্বাদন করে, আকাঙ্ক্ষা করে এবং তা দ্বারা সে আনন্দানুভব করে। তথায় সেভাবে প্রতিষ্ঠিত অভিনিবিষ্ট, বহুলবিহারী হয় এবং তা পরিহীন না হয়ে মৃত্যুর পর নৈবসংজ্ঞা-নাসংজ্ঞায়তনপ্রাপ্ত দেবগণের সাহচর্যে উৎপন্ন হয়। সে তথা হতে চ্যুত হয়ে এ জগতে আগমন ও প্রত্যাগমন করে।
সারিপুত্র, এ জগতে কোনো কোনো পুদ্গলের অধোভাগীয় সংযোজনসমূহ প্রহীন হয়; সে এ জন্মে নৈবসংজ্ঞা-নাসংজ্ঞায়তন লাভ করে অবস্থান করে। সে তা আস্বাদন করে, আকাঙ্ক্ষা করে এবং তা দ্বারা সে আনন্দানুভব করে। তথায় সেভাবে প্রতিষ্ঠিত, অভিনিবিষ্ট, বহুল বিহারী হয় এবং তা পরিহীন না হয়ে মৃত্যুর পর নৈবসংজ্ঞা-নাসংজ্ঞায়তনপ্রাপ্ত দেবগণের সাহচর্যে উৎপন্ন হয়। সে তথা হতে চ্যুত হয়ে এ জগতে আগমন ও প্রত্যাগমন করে না।
সারিপুত্র, এই হেতু ও এই প্রত্যয়ে কোনো কোনো সত্ত্ব তথা হতে চ্যুত হয়ে, এ জগতে আগমন ও প্রত্যাগমন করে। আর এই হেতু ও এই প্রত্যয়ের কারণে কোনো কোনো সত্ত্ব তথা হতে চ্যুত হয়ে এই জগতে আগমন ও প্রত্যাগমন করে না।” (প্রথম সূত্র)
ব্যাখ্যা [১]
Deutsch