“হে ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকার পুদ্গল পৃথিবীতে বিদ্যমান। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : এ জগতে কোনো ভিক্ষু চিত্তবিমুক্তি লাভ করে অবস্থান করে। সে পঞ্চস্কন্ধ (সৎকায়) নিরোধে মনোযোগ দেয়। তার পঞ্চস্কন্ধ নিরোধের প্রতি মনোযোগ থাকলেও পঞ্চস্কন্ধ নিরোধে চিত্ত অগ্রসর হয় না, প্রসাদিত হয় না, স্থিত হয় না ও প্রবর্তিত হয় না (আকর্ষণ করে না)। এভাবে সেই ভিক্ষুর পঞ্চস্কন্ধ নিরোধ প্রত্যাশিত হয় না। ভিক্ষুগণ, যেমন পুরুষ আঠালো হস্ত দ্বারা বৃক্ষের শাখা গ্রহণ করে থাকে, তার সেই হস্ত তাতে সংলগ্ন হয়, লেগে যায় এবং দৃঢ়ভাবে আটকা পড়ে; ঠিক এরূপেই কোনো ভিক্ষু চিত্তবিমুক্তি লাভ করে অবস্থান করে। সে পঞ্চস্কন্ধ নিরোধে মনোযোগ দেয়। তার সৎকায় নিরোধের প্রতি মনোযোগ থাকলেও পঞ্চস্কন্ধ নিরোধে চিত্ত অগ্রসর হয় না, প্রসাদিত হয় না, স্থিত হয় না ও প্রবর্তিত হয় না। এভাবে সেই ভিক্ষুর পঞ্চস্কন্ধ নিরোধ প্রত্যাশিত হয় না।
এ জগতে কোনো ভিক্ষু চিত্তবিমুক্তি লাভ করে অবস্থান করে। সে পঞ্চস্কন্ধ নিরোধে মনোযোগ দেয়। তার পঞ্চস্কন্ধ নিরোধের প্রতি মনোযোগ থাকলে পঞ্চস্কন্ধ নিরোধে চিত্ত অগ্রসর হয়, প্রসাদিত হয়, স্থিত হয় ও প্রবর্তিত হয়। এভাবে সেই ভিক্ষুর পঞ্চস্কন্ধ নিরোধ প্রত্যাশিত হয়। ভিক্ষুগণ, যেমন কোনো পুরুষ পরিষ্কার হস্তে বৃক্ষের শাখা গ্রহণ করে থাকে, তার সেই হস্ত তাতে সংলগ্ন হয় না, লেগে যায় না এবং দৃঢ়ভাবে আটকা পড়ে না; ঠিক এরূপেই কোনো ভিক্ষু চিত্তবিমুক্তি লাভ করে অবস্থান করে। সে পঞ্চস্কন্ধ নিরোধে মনোযোগ দেয়। তার পঞ্চস্কন্ধ নিরোধের প্রতি মনোযোগ থাকলে সৎকায় নিরোধে চিত্ত অগ্রসর হয়, প্রসাদিত হয়, স্থিত হয় ও প্রবর্তিত হয়। এভাবেই সেই ভিক্ষুর সৎকায় নিরোধ প্রত্যাশিত হয়।
এ জগতে কোনো ভিক্ষু চিত্তবিমুক্তি লাভ করে অবস্থান করে। সে অবিদ্যা-প্রভেদে মনোযোগ দেয়। তার অবিদ্যা-প্রভেদের প্রতি মনোযোগ থাকলেও অবিদ্যা-প্রভেদে চিত্ত অগ্রসর হয় না। ভিক্ষুগণ, যেমন বহুবর্ষ ধরে অপরিষ্কৃত কোনো এক পুষ্করিণী আছে। তাতে যেই জল প্রবেশদ্বারাদি আছে, কোনো পুরুষ এসে সেগুলো বন্ধ করে দেয়, জল নির্গমন দ্বারাদি খুলে দেয় এবং বৃষ্টিদেবও যথাসময়ে বর্ষণ করে না। সেজন্য সেই অপরিষ্কার পুষ্করিণীর আলিতে (বাঁধে) কোনো ফাটল প্রত্যাশিত হয় না। ঠিক এরূপেই কোনো ভিক্ষু চিত্তবিমুক্তি লাভ করে অবস্থান করে। সে অবিদ্যা-প্রভেদে মনোযোগ দেয়। তার অবিদ্যা-প্রভেদের প্রতি মনোযোগ থাকলেও অবিদ্যা-প্রভেদে চিত্ত অগ্রসর হয় না, প্রসাদিত হয় না, স্থিত হয় না ও প্রবর্তিত হয় না। এভাবেই সেই ভিক্ষুর অবিদ্যা প্রভেদ প্রত্যাশিত হয় না।
এ জগতে কোনো ভিক্ষু চিত্তবিমুক্তি লাভ করে অবস্থান করে। সে অবিদ্যা-প্রভেদে মনোযোগ দেয়। তার অবিদ্যা-প্রভেদের প্রতি মনোযোগ থাকলে অবিদ্যা-প্রভেদে চিত্ত অগ্রসর হয়, স্থিত হয় ও প্রবর্তিত হয়। এভাবে সেই ভিক্ষুর অবিদ্যা-প্রভেদ প্রত্যাশিত হয়। ভিক্ষুগণ, যেমন বহুবর্ষ ধরে অপরিষ্কৃত কোনো এক পুষ্করিণী আছে। তাতে যেই জল প্রবেশদ্বারাদি আছে, কোনো পুরুষ এসে সেগুলো খুলে দেয়, জল নির্গমন দ্বারাদি বন্ধ করে দেয় এবং বৃষ্টিদেবও যথাসময়ে বর্ষণ করে। সেজন্য সেই অপরিষ্কার পুষ্করিণীর আলিতে (বাঁধে) ফাটল প্রত্যাশিত হয়। ঠিক এরূপেই কোনো ভিক্ষু চিত্তবিমুক্তি লাভ করে অবস্থান করে। সে অবিদ্যা-প্রভেদে মনোযোগ দেয়। তার অবিদ্যা প্রভেদের প্রতি মনোযোগ থাকলে অবিদ্যা-প্রভেদে তার চিত্ত অগ্রসর হয়, প্রসাদিত হয়, স্থিত হয় ও প্রবর্তিত হয়। এভাবে সেই ভিক্ষুর অবিদ্যা-প্রভেদ প্রত্যাশিত হয়। ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকার পুদ্গল পৃথিবীতে বিদ্যমান।” (অষ্টম সূত্র)
ব্যাখ্যা [০]