লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৩]

বর্ষাকার সূত্র

একসময় ভগবান রাজগৃহে অবস্থান করছিলেন বেলুবনস্থ কলন্দকনিবাপে। সেই সময়ে মগধমহামাত্য বর্ষাকার ব্রাহ্মণ ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানের সাথে মিলিত হলেন। অতঃপর প্রীতিপূর্ণ কুশল বিনিময় করে একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট মগধমহামাত্য বর্ষাকার ব্রাহ্মণ ভগবানকে এরূপ বললেন :

“মাননীয় গৌতম, একজন অসৎপুরুষ অন্য একজন অসৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি অসৎপুরুষ’ বলে চিনতে (জানতে) পারে কি?” “হে ব্রাহ্মণ, একজন অসৎপুরুষ অন্য একজন অসৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি অসৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা অসম্ভব।” “মাননীয় গৌতম, একজন অসৎপুরুষ অন্য একজন সৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি সৎপুরুষ’ বলে চিনতে পারে কি?” “হে ব্রাহ্মণ, একজন অসৎপুরুষ অন্য সৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি সৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা অসম্ভব।” “মাননীয় গৌতম, একজন সৎপুরুষ অন্য একজন সৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি সৎপুরুষ’ বলে চিনতে পারে কি?” “হে ব্রাহ্মণ, একজন সৎপুরুষ অন্য একজন সৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি সৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা সম্ভব।” “মাননীয় গৌতম, একজন সৎপুরুষ অন্য একজন অসৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি অসৎপুরুষ’ বলে চিনতে পারে কি? “হে ব্রাহ্মণ, একজন সৎপুরুষ অন্য অসৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি অসৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা সম্ভব।”

মাননীয় গৌতম, কী আশ্চর্য! কী অদ্ভুত! গৌতমের দ্বারা এটি সুভাষিত হলো যে, “হে ব্রাহ্মণ, একজন অসৎপুরুষ অন্য একজন অসৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি অসৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা অসম্ভব। একজন অসৎপুরুষ অন্য একজন সৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি সৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা অসম্ভব। একজন সৎপুরুষ অন্য একজন সৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি সৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা সম্ভব। একজন সৎপুরুষ অন্য একজন অসৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি অসৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা সম্ভব।

মাননীয় গৌতম, একসময় তোদেয়্য ব্রাহ্মণের পরিষদ এরূপ বদনাম করছিল যে, ‘এই মূর্খ এলেয়্যো রাজা শ্রমণ রামপুত্রের প্রতি বিপ্রসন্ন (ভক্ত), শ্রমণ রামপুত্রের প্রতি এরূপে পরম বিনীতভাব প্রদর্শন করেন, যথা : অভিবাদন, প্রত্যুত্থান, অঞ্জলিকর্ম (বন্দনা) ও সমীচীনকর্ম বা শ্রদ্ধানিবেদন করেন। এমনকি এলেয়্যো রাজার পরিষদ, যথা : যমক, মোগ্গলেৱা, উগ্র, নাবিন্দকী, গন্ধর্ব, অগ্নিবৈশ্যগণও মূর্খ যারা শ্রমণ রামপুত্রের প্রতি বিপ্রসন্ন। তারাও শ্রমণ রামপুত্রের প্রতি এরূপে পরম বিনীতভাব প্রদর্শন করেন, যথা : অভিবাদন, প্রত্যুত্থান, অঞ্জলিকর্ম ও সমীচীনকর্ম করেন।” “হে ব্রাহ্মণ, তোদেয়্যো ব্রাহ্মণ তাদের এভাবেই (পরিচালিত করে) উপদেশ দেয়। তারা কি মনে করে যে, পণ্ডিত এলেয়্যো রাজা কার্যমীমাংসায় এবং অন্যের চেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন?” “মাননীয়, এরূপই, পণ্ডিত রাজা এলেয়্যো কার্য-মীমাংসায় এবং বাদ-মীমাংসায় অন্যের চেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন।”

“মাননীয় গৌতম, যেহেতু, রামপুত্র শ্রমণ কার্য-মীমাংসায় বাদ-মীমাংসায় পণ্ডিত রাজা এলেয়্যোর চেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, তাই রাজা এলেয়্যো শ্রমণ রামপুত্রের প্রতি অভিপ্রসন্ন এবং তিনি রামপুত্র শ্রমণের প্রতি এরূপে বিনীতভাব প্রদর্শন করেন, যথা : অভিবাদন, প্রত্যুত্থান, অঞ্জলিকর্ম ও সমীচীনকর্ম করেন।”

“হে ব্রাহ্মণ, তারা মনে করে যে, পণ্ডিত এলেয়্যো রাজার পরিষদ, যথা : যমক, মোগ্গল্লো, উগ্র, নাবিন্দকী, গন্ধর্ব, অগ্নিবৈশ্যগণ কার্য মীমাংসায় এবং বাদ-মীমাংসায় অন্যের চেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন?” ‘মাননীয়, এরূপই, পণ্ডিত এলেয়্যো রাজার পরিষদ যথা : যমক, মোগ্গলেৱা, উগ্র, নাবিন্দকী, গন্ধর্ব, অগ্নিবৈশ্যগণ কার্য মীমাংসায় এবং বাদ-মীমাংসায় অন্যের চেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন।”

“মাননীয় গৌতম, যেহেতু রামপুত্র শ্রমণ কার্য-মীমাংসায় ও বাদ-মীমাংসায় পণ্ডিত এলেয়্যো রাজার পরিষদের চেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, তাই পণ্ডিত এলেয়্যো রাজার পরিষদ শ্রমণ রামপুত্রের প্রতি অভিপ্রসন্ন; এবং তারা শ্রমণ রামপুত্রের প্রতি এরূপে পরম বিনীতভাব প্রদর্শন করেন, যথা : অভিবাদন, প্রত্যুত্থান, অঞ্জলিকর্ম ও সমীচীনকর্ম করেন।”

“মাননীয় গৌতম, কী আশ্চর্য! কী অদ্ভুত! মাননীয় গৌতমের দ্বারা এটি সুভাষিত হলো যে, ‘হে ব্রাহ্মণ, একজন অসৎপুরুষ অন্য একজন অসৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি অসৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা অসম্ভব। একজন অসৎপুরুষ অন্য একজন সৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি সৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা অসম্ভব। একজন সৎপুরুষ অন্য একজন সৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি সৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা সম্ভব। আর একজন সৎপুরুষ অন্য অসৎপুরুষকে ‘এই ব্যক্তি অসৎপুরুষ’ বলে চিনবে, তা সম্ভব। মাননীয় গৌতম, আমরা এখন গমন করব। আমাদের বহুকৃত্য (কার্য) ও করণীয় আছে।” “হে ব্রাহ্মণ, এখন তুমি যা উচিত মনে কর।” অতঃপর মগধমহামাত্য বর্ষাকার ব্রাহ্মণ ভগবানের ভাষণ অভিনন্দন ও অনুমোদন করে আসন হতে উঠে প্রস্থান করলেন। (সপ্তম সূত্র)

ব্যাখ্যা [০]