লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৩]

সামুগিয় সূত্র

একসময় আয়ুষ্মান আনন্দ কোলিয়তে অবস্থান করছিলেন সামুগং নামক কোলিয়দের গ্রামে। অতঃপর বহুসংখ্যক সামুগিয় কোলিয়পুত্র আয়ুষ্মান আনন্দের নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে অভিবাদন করে একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট সেই সামুগিয় কোলিয়পুত্রগণকে আয়ুষ্মান আনন্দ এরূপ বললেন, “সেই ভগবান অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক সত্ত্বগণের বিশুদ্ধির জন্য, শোক পরিদেবন অতিক্রমের জন্য, দুঃখ দৌর্মনস্য তিরোধানের জন্য, ন্যায়মার্গ লাভের জন্য ও নির্বাণ সাক্ষাতের জন্য চার প্রকার শ্রেষ্ঠ, পরিশুদ্ধ প্রধানীয় বা অনুশীলনীয় অঙ্গ জ্ঞাত, দর্শিত ও সম্যকরূপে ব্যাখ্যাত হয়েছে। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : শীলপরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ, চিত্ত পরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ, দৃষ্টি পরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ ও বিমুক্তি পরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ।

শ্রেষ্ঠ শীলপরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ কিরূপ? এ জগতে ভিক্ষু শ্রেষ্ঠ শীলবান হয়, প্রাতিমোক্ষ সংবরে সংযত, আচার-গোচরসম্পন্ন, অণুমাত্র নিন্দনীয় আচরণেও ভয়দর্শী হয়ে অবস্থান করে এবং শিক্ষাপদসমূহ গ্রহণ করে চরিত্র গঠন করে। একেই শীল পরিশুদ্ধি বলে। এরূপে শীল পরিশুদ্ধি অপরিপূর্ণ থাকলে ‘পরিপূর্ণ করব’, পরিপূর্ণ থাকলে ‘সর্বত্র অনুগ্রহণ করব’ আর তথায় যেই ছন্দ (ইচ্ছা), ব্যায়াম (প্রচেষ্টা), উৎসাহ, উদ্যম, চেষ্টা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞান; একেই বলা হয় শীলপরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ।

শ্রেষ্ঠ চিত্তপরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ কিরূপ? এ জগতে ভিক্ষু শ্রেষ্ঠ কাম (কামনা) ও অকুশলধর্মসমূহ হতে বিবিক্ত (পৃথক) হয়ে সবিতর্ক, সবিচার ও বিবেকজনিত প্রীতি সুখমণ্ডিত প্রথম ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে। বিতর্ক ও বিচারের উপশমে আধ্যাত্মিক সম্প্রসাদী, চিত্তের একীভাব আনয়নকারী, অবিতর্ক, অবিচার সমাধিজনিত প্রীতি সুখমণ্ডিত দ্বিতীয় ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে। সে প্রীতির প্রতিও বিরাগী হয়ে উপেক্ষাশীল হয়ে অবস্থান করে এবং স্মৃতিমান ও সম্প্রজ্ঞানী হয়ে কায়িক সুখ অনুভব করে, যে অবস্থায় থাকলে আর্যগণ ‘উপেক্ষক, স্মৃতিমান, সুখবিহারী’ বলে অভিহিত করেন, সেই তৃতীয় ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে। সর্ববিধ সুখ-দুঃখ পরিত্যাগ করে পূর্বেই মানসিক সৌমনস্য ও দৌর্মনস্যের বিনাশ সাধন করে সুখ-দুঃখহীন ‘উপেক্ষা স্মৃতি পরিশুদ্ধি’ নামক চতুর্থ ধ্যান লাভ করে অবস্থান করে। একেই চিত্তপরিশুদ্ধি বলে। এরূপে চিত্তপরিশুদ্ধি অপরিপূর্ণ থাকলে ‘পরিপূর্ণ করব’ পরিপূর্ণ থাকলে ‘সর্বত্র অনুগ্রহণ করব’। আর তথায় যেই ছন্দ, ব্যায়াম, উৎসাহ, উদ্যম, চেষ্টা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞান; একেই বলা হয় চিত্ত পরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ।

দৃষ্টিপরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ কিরূপ? এ জগতে ভিক্ষু ‘এটি দুঃখ’ তা যথার্থরূপে জানে, ‘এটি দুঃখ সমুদয়’, ‘এটি দুঃখ নিরোধ’, ‘এটি দুঃখ নিরোধের উপায়’ যথার্থভাবে জানে। একেই দৃষ্টিপরিশুদ্ধি বলে। এরূপে দৃষ্টিপরিশুদ্ধি অপরিপূর্ণ থাকলে ‘পরিপূর্ণ করব’, পরিপূর্ণ থাকলে ‘সর্বত্র অনুগ্রহণ করব’ আর তথায় যেই ছন্দ, ব্যায়াম, উৎসাহ, উদ্যম, চেষ্টা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞান; একেই বলা হয় চিত্ত পরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ।

শ্রেষ্ঠ বিমুক্তিপরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ কিরূপ? শ্রেষ্ঠ আর্যশ্রাবক এই শীলপরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ, চিত্তপরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ ও দৃষ্টিপরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ দ্বারা কামোদ্দীপক ধর্মসমূহ হতে চিত্তকে সরিয়ে রাখে ও বন্ধন মুক্তিকারক ধর্মসমূহ দ্বারা চিত্তকে মুক্ত করে। সে কামোদ্দীপক ধর্মসমূহ হতে চিত্তকে সরিয়ে রেখে ও বন্ধন মুক্তিকারক ধর্মসমূহ দ্বারা চিত্তকে মুক্ত করে সম্যক বিমুক্তি লাভ করে। একেই বিমুক্তিপরিশুদ্ধি বলে। এরূপে বিমুক্তিপরিশুদ্ধি অপরিপূর্ণ থাকলে ‘পরিপূর্ণ করব’, পরিপূর্ণ থাকলে ‘সর্বত্র অনুগ্রহণ করব’ আর তথায় যেই ছন্দ, ব্যায়াম, উৎসাহ, উদ্যম, চেষ্টা, স্মৃতি ও সম্প্রজ্ঞান; একেই বলা হয় বিমুক্তিপরিশুদ্ধি প্রধানীয় অঙ্গ।

সেই ভগবান অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ কর্তৃক সত্ত্বগণকে বিশুদ্ধির জন্য, শোক-পরিদেবন অতিক্রমের জন্য, দুঃখ-দৌর্মনস্য তিরোধানের জন্য, ন্যায়মার্গ লাভের জন্য ও নির্বাণ সাক্ষাতের জন্য এই চার প্রকার শ্রেষ্ঠ পরিশুদ্ধ প্রধানীয় বা অনুশীলনীয় অঙ্গ জ্ঞাত, দর্শিত ও সম্যকরূপে ব্যাখ্যাত হয়েছে।” (চতুর্থ সূত্র)

ব্যাখ্যা [০]