একসময় ভগবান শ্রাবস্তীতে অনাথপিণ্ডিক কর্তৃক নির্মিত জেতবনারামে অবস্থান করছিলেন। সে সময় মল্লিকাদেবী ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট মল্লিকাদেবী ভগবানকে এরূপ বললেন :
“ভন্তে, কোন হেতু ও কোন প্রত্যয়ে কোনো কোনো স্ত্রীলোক দুর্বর্ণা, বিশ্রী, অত্যন্ত পাপী, দরিদ্র, নিঃস্ব, অল্পভোগী ও প্রভাবহীনা হয়?
কোন হেতু ও কোন প্রত্যয়ে কোনো কোনো স্ত্রীলোক দুর্বর্ণা, বিশ্রী ও অত্যন্ত পাপী হয় কিন্তু আঢ্য, মহাধনী, মহাভোগী ও প্রভাবশালী হয়?
কোন হেতু ও কোন প্রত্যয়ে কোনো কোনো স্ত্রীলোক অভিরূপা, দর্শনীয়া, প্রাসাদিকা ও পরম বর্ণ সৌন্দর্যতায় সমন্নাগতা হয়; কিন্তু দরিদ্র, নিঃস্ব, অল্পভোগী ও প্রভাবহীনা হয়?
আর কোন হেতু ও কোন প্রত্যয়ে কোনো কোনো স্ত্রীলোক অভিরূপা, দর্শনীয়া, প্রাসাদিকা, পরম বর্ণ সৌন্দর্যতায় সমন্নাগতা এবং আঢ্য, মহাধনী, মহাভোগী ও প্রভাবশালী হয়?”
“হে মল্লিকে, এ জগতে কোনো কোনো স্ত্রীলোক ক্রোধী ও উপায়াসবহুলী হয়। সামান্য কিছু বললেই সে ক্রুদ্ধ ও কুপিত হয়ে বিবাদ আর লাফালাফি করে (অত্যধিক প্রতিবাদী হয়ে উঠে); কোপ, দোষ (দ্বেষ) ও অসন্তোষ প্রকাশ করে। সে শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে অন্ন, পানীয়, বস্ত্র, যান, মাল্য, সুগন্ধি দ্রব্য, বিলেপনীয় বস্তু, শয্যা, গৃহ ও প্রদীপাদি কিছুই দান করে না। ঈর্ষাপরায়ণা হয়, অপরের লাভ-সৎকার-গৌরব-সম্মান-বন্দনা ও পূজাদি প্রাপ্তিতে ঈর্ষা করে, ঈর্ষাবশে আক্রোশ করে দোষ খোঁজে এবং ঈর্ষাচিত্ত পোষণ করে। সেরূপ কর্ম সম্পাদনহেতু তথা হতে মৃত্যুর পর স্ত্রীত্ব প্রাপ্ত হয়। সে যেই যেই স্থানে পুনর্জন্ম হোক না কেন দুর্বর্ণা, বিশ্রী, অত্যন্ত পাপী, দরিদ্র, নিঃস্ব, অল্পভোগী ও প্রভাবহীনা হয়।
মল্লিকে, এ জগতে কোনো কোনো স্ত্রীলোক ক্রোধী ও উপায়াসবহুলী হয়। সামান্য কিছু বললেই সে ক্রুদ্ধ ও কুপিত হয়ে বিবাদ আর লাফালাফি করে; কোপ, দোষ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে। কিন্তু সে শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে অন্ন, পানীয়, বস্ত্র, যান, মাল্য, সুগন্ধি দ্রব্য, বিলেপনীয় বস্তু, শয্যা, গৃহ ও প্রদীপাদি দান করে। ঈর্ষাপরায়ণা হয় না, অপরের লাভ-সৎকার-গৌরব-সম্মান-বন্দনা ও পূজাদি প্রাপ্তিতে ঈর্ষা করে না, ঈর্ষাবশে আক্রোশ করে দোষ খোঁজে না এবং ঈর্ষাচিত্ত পোষণ করে না। সেরূপ কর্ম সম্পাদনহেতু তথা হতে মৃত্যুর পর স্ত্রীত্ব প্রাপ্ত হয়। সে যেই যেই স্থানে পুনর্জন্ম হোক না কেন দুর্বর্ণা, বিশ্রী, অত্যন্ত পাপী হয় কিন্তু আঢ্য, মহাধনী, মহাভোগী ও প্রভাবশালী হয়।
মল্লিকে, এ জগতে কোনো কোনো স্ত্রীলোক অক্রোধী ও উপায়াসবিহীন হয়। তাকে বহু কিছু বলা হলেও সে ক্রুদ্ধ ও কুপিত হয়ে বিবাদ আর লাফালাফি করে না; কোপ, দোষ (দ্বেষ) ও অসন্তোষ প্রকাশ করে না। কিন্তু সে শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে অন্ন, পানীয়, বস্ত্র, যান, মাল্য, সুগন্ধি দ্রব্য, বিলেপনীয় বস্তু, শয্যা, গৃহ ও প্রদীপাদি কিছুই দান করে না। ঈর্ষাপরায়ণা হয়, অপরের লাভ-সৎকার-গৌরব-সম্মান-বন্দনা ও পূজাদি প্রাপ্তিতে ঈর্ষা করে, ঈর্ষাবশে আক্রোশ করে দোষ খোঁজে এবং ঈর্ষাচিত্ত পোষণ করে। সেরূপ কর্ম সম্পাদনহেতু তথা হতে মৃত্যুর পর স্ত্রীত্ব প্রাপ্ত হয়। আর সে যেই যেই স্থানে পুনর্জন্ম হোক না কেন অভিরূপা, দর্শনীয়া, প্রাসাদিকা ও পরম বর্ণসৌন্দর্যতায় সমন্নাগতা হয়; কিন্তু দরিদ্র, নিঃস্ব, অল্পভোগী ও প্রভাবহীনা হয়।
মল্লিকে, এ জগতে কোনো কোনো স্ত্রীলোক অক্রোধী ও উপায়াসবিহীন হয়। তাকে বহু কিছু বলা হলেও সে ক্রুদ্ধ ও কুপিত হয়ে বিবাদ আর লাফালাফি করে না; কোপ, দোষ (দ্বেষ) ও অসন্তোষ প্রকাশ করে না। সে শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে অন্ন, পানীয়, বস্ত্র, যান, মাল্য, সুগন্ধি দ্রব্য, বিলেপনীয় বস্তু, শয্যা, গৃহ ও প্রদীপাদি দান করে। সে ঈর্ষাপরায়ণা হয় না, অপরের লাভ-সৎকার-গৌরব-সম্মান-বন্দনা ও পূজাদি প্রাপ্তিতে ঈর্ষা করে না, ঈর্ষাবশে আক্রোশ করে দোষ খোঁজে না এবং ঈর্ষাচিত্তও পোষণ করে না। সেরূপ কর্ম সম্পাদন হেতু তথা হতে মৃত্যুর পর স্ত্রীত্ব প্রাপ্ত হয়। সে যেই যেই স্থানে পুনর্জন্ম হোক না কেন অভিরূপা, দর্শনীয়া, প্রাসাদিকা, পরম বর্ণ সৌন্দর্যতায় সমন্নাগতা, আঢ্য, মহাধনী, মহাভোগী ও প্রভাবশালী হয়।
মল্লিকে, এই হেতু ও এই প্রত্যয়ের কারণে কোনো কোনো স্ত্রীলোক দুর্বর্ণা, বিশ্রী, অত্যন্ত পাপী, দরিদ্র, নিঃস্ব, অল্পভোগী ও প্রভাবহীনা হয়। এই হেতু ও প্রত্যয়ের কারণে কোনো কোনো স্ত্রীলোক দুর্বর্ণা, বিশ্রী ও অত্যন্ত পাপী হয়; কিন্তু আঢ্য, মহাধনী, মহাভোগী ও প্রভাবশালী হয়। এই হেতু ও এই প্রত্যয়ের কারণে কোনো কোনো স্ত্রীলোক অভিরূপা, দর্শনীয়া, প্রাসাদিকা ও পরম বর্ণ সৌন্দর্যতায় সমন্নাগতা হয়; কিন্তু দরিদ্র, নিঃস্ব, অল্পভোগী ও প্রভাবহীনা হয়। আর এই হেতু ও এই প্রত্যয়ের কারণেই কোনো কোনো স্ত্রীলোক অভিরূপা, দর্শনীয়া, প্রাসাদিকা, পরম বর্ণ সৌন্দর্যতায় সমন্নাগতা, আঢ্য, মহাধনী, মহাভোগী ও প্রভাবশালী হয়।”
এরূপ উক্ত হলে মল্লিকাদেবী ভগবানকে এরূপ বলেলেন, “ভন্তে, সম্ভবত আমি পূর্বজন্মে ক্রোধী ও উপায়াসবহুলী ছিলাম, সামান্য কিছু বললেই ক্রুদ্ধ ও কুপিত হয়ে বিবাদ করেছি আর দুর্বিনীত আচরণ করেছি, কোপ, দোষ (দ্বেষ) ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছি, যার দরুন আমি এখন দুর্বর্ণা, বিশ্রী ও অত্যন্ত পাপী।
ভন্তে, সম্ভবত আমি পূর্বজন্মে শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে অন্ন, পানীয়, বস্ত্র, যান, মাল্য, সুগন্ধি দ্রব্য, বিলেপনীয় বস্তু, শয্যা, গৃহ ও প্রদীপাদি দান করেছি, যার দরুন এখন আমি আঢ্য, মহাধনী ও মহাভোগী।
ভন্তে, সম্ভবত আমি পূর্বজন্মে ঈর্ষাপরায়ণা ছিলাম না, অপরের লাভ-সৎকার-গৌরব-সম্মান-বন্দনা ও পূজাদি প্রাপ্তিতে ঈর্ষা করিনি, ঈর্ষাবশে আক্রোশ করে দোষ খুঁজিনি এবং ঈর্ষাচিত্তও পোষণ করিনি। যার দরুন এখন আমি প্রভাবশালী। ভন্তে, এই রাজকুলে ক্ষত্রিয় কন্যা, ব্রাহ্মণ কন্যা ও গৃহপতি কন্যা আছে, তাদের আমি শাসন (অত্যাচার) করি। আজ হতে আমি অক্রোধী ও উপায়াসবিহীনা হবো, বহুকিছু বললেও ক্রুদ্ধ ও কুপিত হয়ে বিবাদ করব না, আর দুর্বিনীত আচরণ করব না; কোপ, দোষ (দ্বেষ) ও অসন্তোষও প্রকাশ করব না; শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে অন্ন, পানীয়, বস্ত্র, যান, মাল্য, সুগন্ধি দ্রব্য, বিলেপনীয় বস্তু, শয্যা, গৃহ ও প্রদীপাদি দান করব। আমি ঈর্ষাপরায়ণা হবো না, অপরের লাভ-সৎকার-গৌরব-সম্মান-বন্দনা ও পূজাদি প্রাপ্তিতে ঈর্ষা করব না। ঈর্ষাবশে আক্রোশ করে দোষ খোঁজব না এবং ঈর্ষাচিত্তও পোষণ করব না। ভন্তে, অতি সুন্দর! অতি মনোরম! যেমন, কেউ অধোমুখী পাত্রকে ঊর্ধ্বমুখী করে, আবৃতকে অনাবৃত করে, পথভ্রষ্টকে পথ বলে দেয় এবং অন্ধকারে তৈল প্রদীপ ধারণ করে, যাতে চক্ষুষ্মান ব্যক্তি রূপাদি দেখতে পায়; ঠিক সেরূপেই ভগবানের দ্বারা অনেক পর্যায়ে ধর্ম প্রকাশিত হলো। এখন হতে আমি ভগবানের শরণ গ্রহণ করছি, তাঁর ধর্ম এবং ভিক্ষুসংঘের শরণও গ্রহণ করছি। ভন্তে, আজ হতে আমাকে আপনার আমরণ শরণাগতা উপাসিকারূপে ধারণ করুন।” (সপ্তম সূত্র)
ব্যাখ্যা [০]