লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৮]

উরুবেলা সূত্র (প্রথম)

আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান শ্রাবস্তীতে অনাথপিণ্ডিকের নির্মিত জেতবন বিহারে অবস্থান করছিলেন। তখন ভগবান ভিক্ষুগণকে ‘হে ভিক্ষুগণ’ বলে আহ্বান করলেন। ‘হ্যাঁ ভদন্ত’ বলে ভিক্ষুগণ ভগবানের আহ্বানে প্রত্যুত্তর প্রদান করলেন। ভগবান এরূপ বললেন :

“হে ভিক্ষুগণ, একসময় আমি উরুবেলাতে নৈরঞ্জনা নদীর তীরে অজপাল নিগ্রোধমূলে অবস্থান করছিলাম, সম্বোধি জ্ঞান লাভের পর। তখন আমার ধ্যাননিমগ্ন চিত্তে এরূপ পরিবিতর্ক উদয় হয়েছিল যে, “জীবনে দুঃখের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে অবস্থান করা কঠিন। আমি কি অন্য কোনো শ্রমণ, ব্রাহ্মণকে সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তাদের উপনিশ্রয়ে অবস্থান করব?”

“ভিক্ষুগণ, এমন পরিবিতর্কে আমার এরূপ চিন্তা উদয় হয়েছিল যে, আমার শীলস্কন্ধ কি এখনো অপরিপূর্ণ, আমি কি অন্য কোনো শ্রমণ, ব্রাহ্মণকে সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তার উপনিশ্রয়ে অবস্থান করব? তখন আমি দেবলোক, ব্রহ্মলোক, মারভুবনসহ এ জগতে শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দেব-মনুষ্যের মধ্যে এমন কোনো শ্রমণ, ব্রাহ্মণকে নিজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ শীলসম্পন্ন দেখতে পাইনি, যাকে আমি সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তার আশ্রয়ে অবস্থান করতে পারি।

আমার সমাধিস্কন্ধ কি এখনো অপরিপূর্ণ, আমি কি অন্য কোনো শ্রমণ, ব্রাহ্মণকে সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তার উপনিশ্রয়ে অবস্থান করব? তখন আমি দেবলোক, ব্রহ্মলোক, মারভুবনসহ এ জগতে শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দেব-মনুষ্যের মধ্যে এমন কোনো শ্রমণ, ব্রাহ্মণকে নিজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সমাধিসম্পন্ন দেখতে পাইনি, যাকে আমি সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তার আশ্রয়ে অবস্থান করতে পারি।

আমার প্রজ্ঞাস্কন্ধ কি এখনো অপরিপূর্ণ, আমি কি অন্য কোনো শ্রমণ, ব্রাহ্মণকে সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তার উপনিশ্রয়ে অবস্থান করব? তখন আমি দেবলোক, ব্রহ্মলোক, মারভুবনসহ এ জগতে শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দেব-মনুষ্যের মধ্যে এমন কোনো শ্রমণ, ব্রাহ্মণকে নিজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাসম্পন্ন দেখতে পাইনি, যাকে আমি সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তার আশ্রয়ে অবস্থান করতে পারি।

আমার বিমুক্তিস্কন্ধ কি এখনো অপরিপূর্ণ, আমি কি অন্য কোনো শ্রমণ, ব্রাহ্মণকে সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তার উপনিশ্রয়ে অবস্থান করব? তখন আমি দেবলোক, ব্রহ্মলোক, মারভুবনসহ এ জগতে শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, দেব-মনুষ্যের মধ্যে এমন কোনো শ্রমণ, ব্রাহ্মণকে নিজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বিমুক্তিসম্পন্ন দেখতে পাইনি, যাকে আমি সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তার আশ্রয়ে অবস্থান করতে পারি।”

“ভিক্ষুগণ, এ কারণে আমার এরূপ চিন্তা উদয় হয়েছিল যে, ‘তাহলে এখন যে ধর্ম আমার উপলব্ধ হয়েছে, আমি সেই ধর্মকে সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তার উপনিশ্রয়ে অবস্থান করতে পারি।’”

অতঃপর সহম্পতি ব্রহ্মা আমার চিত্ত পরিবিতর্ক জানতে পেরে যেমন কোনো বলবান পুরুষ মুহূর্তের মধ্যে সংকুচিত বাহু প্রসারিত অথবা প্রসারিত বাহু সংকুচিত করে ঠিক তেমন সময়ের মধ্যেই ব্রহ্মলোক হতে অন্তর্হিত হয়ে আমার সম্মুখে আবির্ভূত হলেন। আর উত্তরীয় বস্ত্র একাংশ করে দক্ষিণ জানুমণ্ডল ভূমিতে স্পর্শ করে আমাকে কৃতাঞ্জলিপূর্ণ প্রণাম করে এরূপ বললেন, “প্রভু ভগবান, আপনি এরূপ করুন; সুগত, আপনি এরূপ করুন। ভন্তে, অতীতে অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধগণ যেভাবে ধর্মকেই সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে অবস্থান করেছিলেন, ভবিষ্যতে অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধগণ যেভাবে ধর্মকেই সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে অবস্থান করবেন; আপনিও তাঁদের মতন অর্হৎ সম্যকসম্বুদ্ধ হয়ে ধর্মকেই সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে অবস্থান করুন।” সহম্পতি ব্রহ্মা এরূপ বললেন। এরূপ বলার পর এ গাথা উচ্চারণ করলেন :

“অতীত আর অনাগতের বুদ্ধগণ প্রত্যেকে,
সম্বুদ্ধ প্রাপ্ত হলেন বহুজনের শোক নাশে।
গুরু মেনে সদ্ধর্মে সবে ছিলেন বিহার-বিচরণে,
বুদ্ধগণের ধর্মতা ইহা এ মতো অবস্থানে।
আত্মপ্রেম সাথে নিয়ে মহৎ আকাঙ্ক্ষায়,
অগ্রসর হোন প্রভু, বুদ্ধশাসন প্রতিষ্ঠায়।”

“ভিক্ষুগণ, সহম্পতি ব্রহ্মা এরূপ বলার পর আমাকে অভিবাদন করে প্রদক্ষিণপূর্বক তথা হতে অন্তর্ধান হন। অতঃপর আমি ব্রহ্মার সেই প্রার্থনা জ্ঞাত হয়ে, যে-ধর্ম আমার উপলব্ধ হয়েছে সেই ধর্মকে সম্মান প্রদর্শন করে গুরু মেনে তার উপনিশ্রয়ে অবস্থান করেছি।

এ হেতুতে সংঘ ধর্মগুণ মহত্ত্বতায় সমন্বিত হলে আমার এবং সংঘের উভয়েরই গৌরব হয়।” (প্রথম সূত্র)

ব্যাখ্যা [০]