লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৫]

বিস্তার সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, চার প্রকার কর্ম স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা উপলব্ধি করে আমাকর্তৃক প্রজ্ঞাপিত হয়েছে। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : অকুশল বা কৃষ্ণ কর্মে অকুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী, কুশল বা শুক্ল কর্মে কুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী, কুশলাকুশল বা কৃষ্ণ ও শুক্ল কর্মে কুশলাকুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী এবং কুশলও নয়, অকুশলও নয় বা উপেক্ষা কর্ম, যা কর্মক্ষয়ের জন্য পরিলৰিত হয়।

ভিক্ষুগণ, অকুশল কর্মে অকুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী কিরূপ? এ জগতে কোনো কোনো ব্যক্তি হিংসাযুক্ত (ব্যাপাদ) কায়সংস্কার, বাক্‌সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে। সে হিংসাযুক্ত কায়সংস্কার, বাক্‌সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে দুঃখপূর্ণ স্থানে উৎপন্ন হয়। তথায় উৎপন্ন হয়ে সে দুঃখ অনুভব করে এবং নারকীয় সত্ত্বগণের ন্যায় একান্তই দুঃখ ভোগ করে থাকে। ভিক্ষুগণ, একে বলে অকুশল কর্মে অকুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী।

কুশল কর্মে কুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী কিরূপ? এ জগতে কোনো ব্যক্তি অহিংসাযুক্ত (অব্যাপাদ) কায়সংস্কার, বাক্‌সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে। সে অহিংসাযুক্ত কায়সংস্কার, বাক্‌সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে সুখময় স্থানে উৎপন্ন হয়। তথায় উৎপন্ন হয়ে সে সুখ অনুভব করে এবং স্বর্গের দেবগণের ন্যায় একান্তই সুখ ভোগ করে থাকে। একে বলে কুশল কর্মে কুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী।

কুশলাকুশল কর্মে কুশলাকুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী কিরূপ? এ জগতে কোনো কোনো ব্যক্তি হিংসাযুক্ত ও অহিংসাযুক্ত (ব্যাপাদ ও অব্যাপাদ) কায়সংস্কার, বাক্‌সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে। সে হিংসাযুক্ত ও অহিংসাযুক্ত কায়সংস্কার, বাক্‌সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে দুঃখ-সুখময় স্থানে উৎপন্ন হয়। তথায় সে কখনো দুঃখ, কখনো সুখ অনুভব করে এবং নারকীয় সত্ত্বগণের ন্যায় দুঃখ ও স্বর্গীয় সত্ত্বগণের ন্যায় সুখ ভোগ করে থাকে। এটাই কুশলাকুশল কর্মে কুশলাকুশল বিপাক।

কিরূপ কর্ম ও ফল অকুশলও নয়, কুশলও নয় বা উপেক্ষা কর্ম, যা কর্মক্ষয়ের জন্য পরিলৰিত হয়? তথায় কৃষ্ণকর্ম ও কৃষ্ণবিপাক প্রহানের জন্য যেরূপ চেতনা, আবার শুক্লকর্ম ও শুক্লবিপাক প্রহানের জন্য যেরূপ চেতনা এবং কৃষ্ণ-শুক্লকর্ম কৃষ্ণ-শুক্ল বিপাক প্রহানের জন্যও অনুরূপ চেতনা বিদ্যমান, তাকেই বলা হয় অকুশলও নয়, কুশলও নয় কর্ম এবং ফল, যা কর্মক্ষয়ের জন্য পরিচালিত হয়। ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকার কর্ম স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা উপলব্ধি করে আমাকর্তৃক প্রজ্ঞাপিত হয়েছে।” (দ্বিতীয় সূত্র)

ব্যাখ্যা [০]