একসময় শিখামৌদ্গলায়ন ব্রাহ্মণ ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানের সাথে মিলিত হলেন। অতঃপর প্রীতিপূর্ণ কুশল আলাপান্তে একপাশে উপবেশন করলেন। একপাশে উপবিষ্ট শিখামৌদ্গলায়ন ব্রাহ্মণ ভগবানকে এরূপ বললেন :
“মাননীয় গৌতম, কয়েকদিন পূর্বে শোণকায়ন মানব আমার নিকট গিয়ে এরূপ বললেন, ‘শ্রমণ গৌতম সর্ববিধ কর্মের অক্রিয়া প্রজ্ঞাপন করেন। সর্ববিধ কর্মের অক্রিয়া প্রজ্ঞাপনকালে তিনি জগতের উচ্ছেদ সম্বন্ধে প্রচার করেন। আরে মহাশয়, এই জগৎ তো কর্মসত্য ও কর্মতৎপরতায় প্রতিষ্ঠিত’।”
“হে ব্রাহ্মণ, আমি শোণকায়ন মানবের দর্শনও জানি না; কোথায় আর এরূপ বাক্যালাপ হবে! ব্রাহ্মণ, চার প্রকার কর্ম স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা উপলব্ধি করে আমাকর্তৃক প্রজ্ঞাপিত হয়েছে। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : অকুশল কর্মে অকুশল বিপাক, কুশল কর্মে কুশল বিপাক, কুশলাকুশল কর্মে কুশলাকুশল বিপাক এবং কুশলও নয়, অকুশলও নয় কর্ম, যা কর্মক্ষয়ের জন্য পরিচালিত হয়।
ব্রাহ্মণ, অকুশল কর্মে অকুশল বিপাক কিরূপ? এ জগতে কোনো কোনো ব্যক্তি ব্যাপাদ বা হিংসাযুক্ত কায়সংস্কার, বাক্সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে। সে হিংসাযুক্ত কায়সংস্কার, বাক্সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে দুঃখপূর্ণ স্থানে উৎপন্ন হয়। তথায় উৎপন্ন হয়ে সে দুঃখানুভব করে এবং নারকীয় সত্ত্বগণের ন্যায় একান্তই দুঃখ ভোগ করে থাকে। একে বলে অকুশল কর্মে অকুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী।
কুশল কর্মে কুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী কিরূপ? এ জগতে কোনো কোনো ব্যক্তি অব্যাপাদ বা অহিংসাযুক্ত কায়সংস্কার, বাক্সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে। সে অহিংসাযুক্ত কায়সংস্কার বাক্সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে সুখময় স্থানে উৎপন্ন হয়। তথায় উৎপন্ন হয়ে সে সুখ অনুভব করে। এবং স্বর্গীয় দেবগণের ন্যায় একান্তই সুখ ভোগ করে থাকে। এটিই কুশল কর্মে কুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী।
কুশলাকুশল কর্মে কুশলাকুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী কিরূপ? এ জগতে কোনো কোনো কোনো ব্যক্তি হিংসা ও অহিংসাযুক্ত কায়সংস্কার, বাক্সংস্কার, মনঃসংস্কার সম্পাদন করে। সে হিংসা ও অহিংসাযুক্ত কায়সংস্কার, বাক্সংস্কার ও মনঃসংস্কার সম্পাদন করে দুঃখ ও সুখময় স্থানে উৎপন্ন হয়। তথায় সে কখনো দুঃখ, কখনো সুখ অনুভব করে। এবং নারকীয় সত্ত্বগণের ন্যায় দুঃখ ও স্বর্গীয় সত্ত্বগণের ন্যায় সুখ ভোগ করে থাকে। এটিই কুশলাকুশল কর্মে কুশলাকুশল বিপাক বা ফলপ্রদায়ী।
কিরূপ কর্ম ও ফল অকুশলও নয়, কুশলও নয়, যা কর্মক্ষয়ের জন্য পরিচালিত হয়। তথায় কৃষ্ণকর্ম ও কৃষ্ণ বিপাক প্রহানের জন্য যেরূপ চেতনা, আবার শুক্লকর্ম ও শুক্লবিপাক প্রহানের জন্য যেরূপ চেতনা এবং কুশলাকুশলকর্ম ও কুশলাকুশল বিপাক প্রহানের জন্যও অনুরূপ চেতনা বিদ্যমান, তাকেই বলা হয় অকুশলও নয় কুশলও নয় কর্মে অকুশলও নয় কুশলও নয় বিপাক, যা কর্মক্ষয়ের জন্য পরিচালিত হয়। ব্রাহ্মণ, এই চার প্রকার কর্ম স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা উপলব্ধি করে আমাকর্তৃক প্রজ্ঞাপিত হয়েছে।” (তৃতীয় সূত্র)
ব্যাখ্যা [০]