লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৩]

আপত্তি-ভয় সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, আপত্তি-ভয় চার প্রকার। সেই চার প্রকার কী কী? যেমন দোষী চোরকে বেঁধে রাজার নিকট উপস্থিত করে বলে যে, ‘হে দেব, এই ব্যক্তি দোষী, চোর। একে দণ্ড বিধান করুন।’ তখন রাজা এরূপ বলে যে, ‘যাও, একে দৃঢ় রশিতে শক্তভাবে পিছমোড়া করে হস্ত বন্ধন করে, মস্তক মুণ্ডিত করে বিকট শব্দে ভেরি বাজিয়ে এক পথ হতে আরেক পথে এবং চৌরাস্তার মোড়ে নিয়ে যাও। তারপর দক্ষিণ দ্বার দিয়ে বের করে নগরের দক্ষিণ দিকে নিয়ে গিয়ে তার মস্তক ছেদন কর।’ অতঃপর রাজার লোকেরা তাকে দৃঢ় রশিতে শক্তভাবে পিছমোড়া করে বন্ধন করে, মস্তক মুণ্ডিত করে বিকট শব্দে ভেরি বাজিয়ে এক পথ হতে আরেক পথে এবং চৌরাস্তার মোড়ে নিয়ে গেল। তারপর দক্ষিণ দ্বার দিয়ে বের করে নগরের দক্ষিণ দিকে নিয়ে গিয়ে তার মস্তক ছেদন করল। তখন স্থানীয় জনতাদের এরূপ চিন্তা হয় : ‘সত্যিই এই ব্যক্তি নিন্দার্হ ও শিরশ্ছেদনীয় পাপকার্য করেছে। যে কারণে রাজার লোকেরা কাউকে দৃঢ় রশিতে শক্তভাবে পিছমোড়া হস্ত বন্ধন করে, মস্তক মুণ্ডিত করে বিকট শব্দে ভেরি বাজিয়ে এক পথ হতে আরেক পথে এবং চৌরাস্তার মোড়ে নিয়ে যাবে। তারপর দক্ষিণদ্বার দিয়ে বের করে নগরের দক্ষিণ দিকে নিয়ে গিয়ে তার মস্তক ছেদন করবে। সেরূপ নিন্দার্হ, শিরশ্ছেদনীয় পাপকার্য আমি কখনও করব না। হে ভিক্ষুগণ, ঠিক তদ্রূপ যেই ভিক্ষু বা ভিক্ষুণীর নিকট পারাজিকা ধর্মসমূহের প্রতি তীব্র ভয়সংজ্ঞা বিদ্যমান থাকে, তার প্রতি এটাই প্রত্যাশিত যে, সে পারাজিকা অপরাধ করবে না। আর পারাজিকা অপরাধে দোষী হলে যে নিয়মানুযায়ী প্রতিকার করবে।

ভিক্ষুগণ, যেমন কোনো ব্যক্তি কালো বস্ত্র পরিধান করে এলোমেলো চুলে মুষল (লৌহদণ্ড) কাঁধে নিয়ে মহাজনতার কাছে উপস্থিত হয়ে এরূপ বলে যে, ‘মহাশয়, আমি নিন্দার্হ, দণ্ডনীয় পাপকার্য করেছি।’ আপনারা ইচ্ছামতো আমাকে শাস্তি দিন। তখন অন্য স্থানীয় ব্যক্তির এরূপ চিন্তা হয়-সত্যিই, এই ব্যক্তি নিন্দার্হ, দণ্ডনীয় পাপকার্য করেছে। যেরূপ কার্য করলে কোনো ব্যক্তি কালো বস্ত্র পরে এলোমেলো মুষল কাঁধে নিয়ে মহাজনতার নিকট এসে এরূপ বলবে যে, মহাশয়, আমি নিন্দার্হ, দণ্ডনীয়, পাপকার্য করেছি, আপনারা ইচ্ছামতো আমাকে শাস্তি দিন; সেরূপ নিন্দার্হ, দণ্ডনীয়, পাপকার্য আমি কখনও করব না।’ ঠিক তদ্রূপ যেই ভিক্ষু বা ভিক্ষুণীর নিকট সংঘাদিশেষ ধর্মসমূহের প্রতি এরূপ তীব্র ভয়সংজ্ঞা বিদ্যমান থাকে, তার প্রতি এটিই প্রত্যাশিত যে, সে সংঘাদিশেষ অপরাধ করবে না। আর সংঘাদিশেষ অপরাধে দোষী হলে নিয়মানুযায়ী প্রতিকার করবে।

ভিক্ষুগণ, যেমন কোনো ব্যক্তি কালো বস্ত্র পরিধান করে এলোমেলো চুলে ছাইপূর্ণ বস্তা কাঁধে নিয়ে মহাজনতার কাছে উপস্থিত হয়ে এরূপ বলে যে, ‘মহাশয়, আমি নিন্দার্হ, (ভস্মপুট) অকরণীয় পাপকার্য করেছি। আপনারা ইচ্ছামতো আমাকে শাস্তি দিন।’ তখন অন্য স্থানীয় ব্যক্তির এরূপ চিন্তা হয় : ‘সত্যিই এই ব্যক্তি নিন্দার্হ, অকরণীয়, পাপকার্য করেছে। যেরূপ কার্য করলে কোনো ব্যক্তি কালো বস্ত্র পরে এলোমেলো চুলে ছাইপূর্ণ বস্তা নিয়ে মহাজনতার নিকট এসে এরূপ বলবে যে, মহাশয়, আমি নিন্দার্হ, অকরণীয় পাপকার্য করেছি। আপনারা ইচ্ছামতো আমাকে শাস্তি দিন। সেরূপ নিন্দার্হ, অকরণীয়, পাপকার্য অবশ্যই আমি কখনও করব না।’ ভিক্ষুগণ, ঠিক তদ্রূপ যেই ভিক্ষু বা ভিক্ষুণীর নিকট পাচিত্তিয় ধর্মসমূহের প্রতি এরূপ ভয়সংজ্ঞা বিদ্যমান থাকে, তার প্রতি এটাই প্রত্যাশিত যে, সে পাচিত্তিয় অপরাধ করবে না। আর পাচিত্তিয় অপরাধে দোষী হলে সে নিয়মানুযায়ী প্রতিকার করবে।

পুনঃ, কোনো ব্যক্তি কালো বস্ত্র পরিধান করে এলোমেলো চুলে মহাজনতার কাছে উপস্থিত হয়ে এরূপ বলে যে, ‘মহাশয়, আমি ঘৃণার্হ বা হীন, নিন্দনীয় পাপকার্য করেছি, আপনারা ইচ্ছামতো আমাকে শাস্তি দিন।’ তখন অন্য স্থানীয় ব্যক্তির এরূপ চিন্তা হয় : ‘সত্যিই এই ব্যক্তি হীন বা ঘৃণার্হ, নিন্দনীয় পাপকার্য করেছে। যেরূপ কার্য করলে কোনো ব্যক্তি এরূপ কালো বস্ত্র পরে এলোমেলো মহাজনতার নিকট এসে এরূপ বলবে যে, মহাশয়, আমি হীন, নিন্দনীয় পাপকার্য করেছি, আপনারা ইচ্ছামতো আমাকে শাস্তি দিন। সেরূপ হীন, নিন্দনীয় পাপকার্য কখনও করব না। ঠিক তদ্রূপ যেই ভিক্ষু বা ভিক্ষুণীর নিকট পাটিদেসনীয় ধর্মসমূহের প্রতি এরূপ তীব্র ভয়সংজ্ঞা বিদ্যমান থাকে, তাদের প্রতি এটাই প্রত্যাশিত যে, সে পাটিদেসনীয় অপরাধ করবে না। আর পাটিদেসনীয় অপরাধে দোষী হলে নিয়মানুযায়ী প্রতিকার করবে।

ভিক্ষুগণ, এই হচ্ছে চার প্রকার আপত্তি-ভয়।” (দ্বিতীয় সূত্র)

ব্যাখ্যা [০]