লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৪]

মালুক্যপুত্র সূত্র

একসময় আয়ুষ্মান মালুক্যপুত্র ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদনপূর্বক একপার্শ্বে বসলেন। একপার্শ্বে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান মালুক্যপুত্র ভগবানকে এরূপ বললেন :

“উত্তম, ভন্তে, আপনি আমাকে সংক্ষিপ্তরূপে ধর্মদেশনা প্রদান করুন, যাতে আমি ভগবানের ধর্ম শ্রবণ করে একাকী, ধ্যানপরায়ণ, অপ্রমত্ত, অত্যুৎসাহী ও উদ্যমশীল হয়ে অবস্থান করতে পারি।” “হে মালুক্যপুত্র, তোমার মতো জরা-জীর্ণ-বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি যদি তথাগতের নিকট সংক্ষিপ্ত দেশনা প্রার্থনা করে, তাহলে যারা এখনো নবীন ভিক্ষু তাদের কি বা বলব!”

“ভন্তে, আমাকে সংক্ষিপ্তরূপে ধর্মদেশনা প্রদান করুন। হে সুগত, সংক্ষিপ্তরূপে ধর্মদেশনা প্রদান করুন। অল্প হলেও আমি ভগবানের ভাষিত অর্থ বুঝতে পারব এবং ভগবানের ভাষণ কিঞ্চিৎ হলেও আমার জন্য উপকার হবে।”

“হে মালুক্যপুত্র, চার প্রকারে তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়, যাতে ভিক্ষুর উৎপন্নশীল তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : চীবরের কারণে ভিক্ষুর উৎপন্নশীল তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়, পিণ্ডপাতের কারণে ভিক্ষুর উৎপন্নশীল তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়, শয়নাসনের কারণে ভিক্ষুর উৎপন্নশীল তৃষ্ণা উৎপন্ন হয় এবং ‘অমুক স্থানে উৎপন্ন হবো’, ‘অমুক স্থানে হবো না’ এরূপ হেতুতে ভিক্ষুর উৎপন্নশীল তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়। মালুক্যপুত্র, এই চার প্রকারে তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়, যাতে বা যে কারণে ভিক্ষুর উৎপন্নশীল তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়। মালুক্যপুত্র, যখন হতে ভিক্ষুর তৃষ্ণা উচ্ছিন্নমূল তালবৃক্ষের ন্যায় প্রহীন হয়, ভবিষ্যতে আর পুনরুৎপত্তি হয় না; মালুক্যপুত্র, তখন এরূপ বলা হয়, ‘ভিক্ষু তৃষ্ণা ক্ষয় করেছে, সংযোজন রুদ্ধ এবং সম্যকরূপে মান-অভিমান জ্ঞাত হয়ে দুঃখের অন্তঃসাধন করেছে’।”

আয়ুষ্মান মালুক্যপুত্র ভগবান কর্তৃক এরূপ উপদেশে উপদিষ্ট হয়ে আসন হতে উঠে ভগবানকে অভিবাদন করে প্রদক্ষিণ করে চলে গেল। অতঃপর আয়ুষ্মান মালুক্যপুত্র একাকী, ধ্যানপরায়ণ, অপ্রমত্ত, অত্যুৎসাহী ও উদ্যমশীল হয়ে অবস্থান করতে করতে অচিরেই যার জন্য কুলপুত্রগণ সম্যকরূপে আগার হতে অনাগারিক প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন, সেই অনুত্তর ব্রহ্মচর্যাবসানে এ জীবনে স্বয়ং অভিজ্ঞা দ্বারা সাক্ষাৎ করে, অবস্থান করতে লাগলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, ‘আমার জন্ম ক্ষীণ হয়েছে, ব্রহ্মচর্য ব্রত উদ্‌যাপিত হয়েছে, করণীয় কৃত হয়েছে এবং আসবক্ষয়ের নিমিত্তে আর অন্য কোনো করণীয় নাই।’ আয়ুষ্মান মালুক্যপুত্র অন্যতর অর্হৎ হলেন। (চতুর্থ সূত্র)

ব্যাখ্যা [০]