লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [১৯]

আর্যবংশ সূত্র

“হে ভিক্ষুগণ, চার আর্যবংশ প্রসিদ্ধ, শীর্ষস্থানীয়, কুলীন বংশজাত, প্রাচীন, অসংকীর্ণ ও অসংকীর্ণপূর্ব; বর্তমানেও সন্দেহাতীত, ভবিষ্যতেও তাই এবং শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, বিজ্ঞগণ দ্বারা প্রশংসিত। সেই চার আর্যবংশ কী কী? যথা : এ জগতে ভিক্ষু যেকোনো চীবরে সন্তুষ্ট হয়, যেকোনো চীবরে সন্তুষ্টির প্রশংসাকারী হয়। চীবর-হেতু অসঙ্গত, নিন্দনীয় কাজ সম্পাদন করে না। অলব্ধ চীবরে স্পৃহা দেখায় না, লব্ধ চীবরে অনুরাগহীন, অলোভী, অনাসক্ত হয়ে আদীনবদর্শী ও মুক্তি লাভের আশায় পরিভোগ করে। যেকোনো চীবরে সন্তুষ্ট থাকার দরুন আত্মপ্রশংসা করে না; অপরকে নিন্দা করে না। এ কাজে দক্ষ, নিরলস, শিষ্টাচারসম্পন্ন, মনোযোগী হয়। এই ভিক্ষুকে বলা হয় প্রাচীন, প্রসিদ্ধ, আর্যবংশে স্থিত।

পুনঃ, ভিক্ষু যেকোনো পিণ্ডপাতে সন্তুষ্ট হয়, যেকোনো পিণ্ডপাতে সন্তুষ্টির প্রশংসাকারী হয়। পিণ্ডপাত-হেতু অসঙ্গত, নিন্দনীয় কাজ সম্পাদন করে না। অলব্ধ পিণ্ডপাতে স্পৃহা দেখায় না, লব্ধ পিণ্ডপাতে অনুরাগহীন, অলোভী, অনাসক্ত হয়ে আদীনবদর্শী ও মুক্তি লাভের আশায় পরিভোগ করে। যেকোনো পিণ্ডপাতে সন্তুষ্ট থাকার দরুন আত্মপ্রশংসা করে না; অপরকে নিন্দা করে না। এই কাজে দক্ষ, নিরলস, শিষ্টাচারসম্পন্ন, মনোযোগী হয়। এই ভিক্ষুকে বলা হয় প্রাচীন, প্রসিদ্ধ, আর্যবংশে স্থিত।

পুনঃ, ভিক্ষু যেকোনো শয়নাসনে সন্তুষ্ট হয়, যেকোনো শয়নাসনে সন্তুষ্টির প্রশংসাকারী হয়। শয়নাসন হেতু অসঙ্গত, নিন্দনীয় কাজ সম্পাদন করে না। অলব্ধ শয়নাসনে স্পৃহা দেখায় না, লব্ধ শয়নাসনে পরিভোগহীন, অলোভী, অনাসক্ত হয়ে আদীনবদর্শী ও মুক্তি লাভের আশায় পরিভোগ করে। যেকোনো শয়নাসনে সন্তুষ্ট থাকার দরুন আত্মপ্রশংসা করে না; অপরকে নিন্দা করে না। এই কাজে দক্ষ, নিরলস, শিষ্টাচারসম্পন্ন, মনোযোগী হয়। এই ভিক্ষুকে বলা হয় প্রাচীন, প্রসিদ্ধ, আর্যবংশে স্থিত।

পুনঃ, কোনো ভিক্ষু ভাবনাময় সুখে ভাবনারত হয়, ত্যাগময় সুখে ত্যাগরত, শিষ্টাচারসম্পন্ন, মনোযোগী হয়। এই ভিক্ষুকে বলা হয় প্রাচীন, প্রসিদ্ধ আর্যবংশে স্থিত। এ চার আর্যবংশ প্রসিদ্ধ, শীর্ষস্থানীয়, কুলীন বংশজাত, প্রাচীন, অসংকীর্ণ, অসংকীর্ণপূর্ব, বর্তমানেও সন্দেহাতীত, ভবিষ্যতেও তাই এবং শ্রমণ, ব্রাহ্মণ, বিজ্ঞগণ কর্তৃক প্রশংসিত।”

“ভিক্ষুগণ, এ চার আর্যবংশে সমন্বিত ভিক্ষু পূর্ব দিকে অবস্থানকালে নিরানন্দকে অতিক্রম করে, সেই নিরানন্দ তাকে অতিক্রম করে না; পশ্চিম দিকে অবস্থানকালে নিরানন্দকে অতিক্রম করে, সেই নিরানন্দ তাকে অতিক্রম করে না; উত্তর দিকে অবস্থানকালে নিরানন্দকে অতিক্রম করে, সেই নিরানন্দ তাকে অতিক্রম করে না; দক্ষিণ দিকে অবস্থানকালে নিরানন্দকে অতিক্রম করে, সেই নিরানন্দ তাকে অতিক্রম করে না। তার কারণ কী? আনন্দ-নিরানন্দকে অতিক্রমকারীই হচ্ছে ধীর।”

“ধীরকেও নাহি ছাড়ে নিরানন্দ কভু,
নিরানন্দ অতিক্রমে ধীর সুখী তবু।
সর্বকর্ম বর্জনকারী বর্জনকে কেবা নিবারিবে?
খাঁটি সোনা অনিন্দনীয় যথা ত্রিভুবনে;
ধীরও প্রশংসিত হয় দেব-ব্রহ্মগণে।” (অষ্টম সূত্র)

ব্যাখ্যা [০]