একসময় ভগবান রাজগৃহে গিজ্ঝকূট পর্বতে অবস্থান করছিলেন। তখন বহু অভিজ্ঞাত পরিব্রাজক সিপ্পিনিকা তীরে অবস্থান করত। যেমন : অন্নভার, বরধর, সকুলুদায়ীসহ আরও অভিজ্ঞাত অভিজ্ঞাত পরিব্রাজক। একদিন ভগবান সন্ধ্যার সময় নির্জনতা হতে উঠে সিপ্পিনিকা তীরে পরিব্রাজকারামে উপস্থিত হলেন, এবং প্রজ্ঞাপ্ত আসনে উপবেশন করলেন। উপবিষ্ট ভগবান সেই পরিব্রাজকগণকে এরূপ বললেন :
“হে পরিব্রাজকগণ, চার প্রকার ধর্মপদ প্রসিদ্ধ, শীর্ষস্থানীয়, কুলীন বংশজাত, প্রাচীন, অসংকীর্ণ, অসংকীর্ণপূর্ব, বর্তমানেও সন্দেহাতীত, ভবিষ্যতেও তাই এবং শ্রমণ, ব্রাহ্মণ, বিজ্ঞগণ কর্তৃক প্রশংসিত। সেই চার প্রকার ধর্মপদ কী কী? যথা : অনভিধ্যা ধর্মপদ প্রসিদ্ধ, শীর্ষস্থানীয়, কুলীন বংশজাত, প্রাচীন, অসংকীর্ণ, অসংকীর্ণপূর্ব, বর্তমানেও সন্দেহাতীত, ভবিষ্যতেও তাই এবং শ্রমণ, ব্রাহ্মণ, বিজ্ঞগণ কর্তৃক প্রশংসিত।
অব্যাপাদ ধর্মপদ প্রসিদ্ধ, শীর্ষস্থানীয়, কুলীন বংশজাত, প্রাচীন, অসংকীর্ণ, অসংকীর্ণপূর্ব, বর্তমানেও সন্দেহাতীত, ভবিষ্যতেও তাই এবং শ্রমণ, ব্রাহ্মণ, বিজ্ঞগণ কর্তৃক প্রশংসিত।
সম্যক স্মৃতি ধর্মপদ প্রসিদ্ধ, শীর্ষস্থানীয়, কুলীন বংশজাত, প্রাচীন, অসংকীর্ণ, অসংকীর্ণপূর্ব, বর্তমানেও সন্দেহাতীত, ভবিষ্যতেও তাই এবং শ্রমণ, ব্রাহ্মণ, বিজ্ঞগণ কর্তৃক প্রশংসিত।
সম্যক সমাধি ধর্মপদ প্রসিদ্ধ, শীর্ষস্থানীয়, কুলীন বংশজাত, প্রাচীন, অসংকীর্ণ, অসংকীর্ণপূর্ব, বর্তমানেও সন্দেহাতীত, ভবিষ্যতেও তাই এবং শ্রমণ, ব্রাহ্মণ, বিজ্ঞগণ কর্তৃক প্রশংসিত।
পরিব্রাজকগণ, এ চার প্রকার ধর্মপদ প্রসিদ্ধ, শীর্ষস্থানীয়, কুলীন বংশজাত, প্রাচীন, অসংকীর্ণ, অসংকীর্ণপূর্ব, বর্তমানেও সন্দেহাতীত, ভবিষ্যতেও তাই এবং শ্রমণ, ব্রাহ্মণ, বিজ্ঞগণ কর্তৃক প্রশংসিত। কেউ যদি এরূপ বলে : ‘আমি এ অনভিধ্যা ধর্মপদ প্রত্যাখ্যান করে অভিধ্যাসম্পন্ন, কামের প্রতি তীব্র বাসনাযুক্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে প্রকাশ করব।’ তখন আমি তাকে এরূপ বলব : ‘আসুক, বলুক বা না বলুক আমি তার প্রভাব দেখছি।’ পরিব্রাজকগণ, সে অবশ্যই যে, অনভিধ্যা ধর্মপদ প্রত্যাখ্যান করে অভিধ্যাসম্পন্ন, কামের প্রতি তীব্র বাসনাযুক্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে প্রকাশ করবে, এ কারণ বিদ্যমান নেই।
পরিব্রাজকগণ, কেউ যদি এরূপ বলে : ‘আমি এ অব্যাপাদ ধর্মপদ প্রত্যাখ্যান করে দূষিত চিত্তসম্পন্ন ও সংকল্পে প্রদুষ্টমনা শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে প্রকাশ করব।’ তখন আমি তাকে এরূপ বলব : ‘আসুক, বলুক বা না বলুক আমি তার প্রভাব দেখছি।’ পরিব্রাজকগণ, সে অবশ্যই যে, অব্যাপাদ ধর্মপদ প্রত্যাখ্যান করে দূষিত চিত্তসম্পন্ন ও সংকল্পে প্রদুষ্টমনা শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে প্রকাশ করবে, এ কারণ বিদ্যমান নেই।
পরিব্রাজকগণ, কেউ যদি এরূপ বলে : ‘আমি এ সম্যক স্মৃতি ধর্মপদ প্রত্যাখ্যান করে স্মৃতিহীন, অশিষ্টাচারসম্পন্ন শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে প্রকাশ করব। তখন আমি তাকে এরূপ বলব : ‘আসুক, বলুক বা না বলুক আমি তার প্রভাব দেখছি।’ পরিব্রাজকগণ, সে অবশ্যই যে, সম্যক স্মৃতি ধর্মপদ প্রত্যাখ্যান করে স্মৃতিহীন, অশিষ্টাচারসম্পন্ন শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে প্রকাশ করবে, এ কারণ বিদ্যমান নেই।
পরিব্রাজকগণ, কেউ যদি এরূপ বলে : ‘আমি এ সম্যক সমাধি ধর্মপদ প্রত্যাখান করে অসমাহিত, বিক্ষিপ্ত চিত্তসম্পন্ন শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে প্রকাশ করব। তখন আমি তাকে এরূপ বলব : ‘আসুক, বলুক বা না বলুক আমি তার প্রভাব দেখছি।’ পরিব্রাজকগণ, সে অবশ্যই যে, সম্যক সমাধি ধর্মপদ প্রত্যাখ্যান করে অসমাহিত, বিক্ষিপ্ত চিত্তসম্পন্ন শ্রমণ-ব্রাহ্মণকে প্রকাশ করবে, এ কারণ বিদ্যমান নেই।
পরিব্রাজকগণ, যে এ চার ধর্মপদ নিন্দা করে প্রত্যাখান করা উচিত মনে করে, তার দৃষ্টধর্মে চার ধর্ম সম্বন্ধনীয় নিন্দার কারণ হয়। সেই চার ধর্ম কী কী? যথা : কোনো সম্মানিত ব্যক্তি যদি অনভিধ্যা ধর্মপদ নিন্দা করে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে সে অভিধ্যাসম্পন্ন, কামের প্রতি তীব্র বাসনাযুক্ত শ্রমণ-ব্রাহ্মণদের কাছে পূজিত, প্রশংসিত হয়।
কোনো সম্মানিত ব্যক্তি যদি অব্যাপাদ ধর্মপদ নিন্দা করে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে সে দূষিত চিত্তসম্পন্ন, সংকল্পে প্রদুষ্টমনা শ্রমণ-ব্রাহ্মণদের কাছে পূজিত, প্রশংসিত হয়।
কোনো সম্মানিত ব্যক্তি যদি সম্যক স্মৃতি ধর্মপদ নিন্দা করে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে সে স্মৃতিহীন, অশিষ্টাচারসম্পন্ন শ্রমণ-ব্রাহ্মণদের কাছে পূজিত, প্রশংসিত হয়।
কোনো সম্মানিত ব্যক্তি যদি সম্যক সমাধি ধর্মপদ নিন্দা করে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে সে অসমাহিত, বিক্ষিপ্ত চিত্তসম্পন্ন শ্রমণ-ব্রাহ্মণদের কাছে পূজিত, প্রশংসিত হয়।
পরিব্রাজকগণ, যে ব্যক্তি এ চার ধর্মপদ নিন্দাযোগ্য, প্রত্যাখ্যানযোগ্য মনে করে, তার এ চার ধর্ম সম্বন্ধনীয় বাদানুবাদ দৃষ্টধর্মে নিন্দার কারণ হয়। যারা উক্কলবাসী পরিব্রাজক ছিলেন, তারা অহেতুকবাদী, অক্রিয়বাদী, নাস্তিকবাদী হয়েও এ চার ধর্মপদকে নিন্দাযোগ্য, প্রত্যাখ্যানযোগ্য মনে করেনি। তার কারণ কী? হিংসা, নিন্দা, তিরস্কারের ভয় হেতু।”
“স্মৃতিমান লোভমুক্ত, আধ্যাত্মিক সুসমাহিত,
অত্যাগ্রাহী বিনয় শিক্ষায় বলে তাকে অপ্রমত্ত।” (দশম সূত্র)
স্মারক-গাথা :
দুই উরুবেলা, এক লোক, কালক, ব্রহ্মচর্যসহ পঞ্চম
অসৎ, সন্তুষ্টি, বংশ, ধর্মপদ, পরিব্রাজক মিলে দশম।
ব্যাখ্যা [০]