লোড হচ্ছে

অনুবাদসমূহ [২০]

সমাধি সূত্র (তৃতীয়)

“হে ভিক্ষুগণ, জগতে চার প্রকার পুদ্গল বিদ্যমান। সেই চার প্রকার কী কী? যথা : এ জগতে কোনো পুদ্গল অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী, কিন্তু অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী নয়। কোনো পুদ্গল অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী, কিন্তু অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী নয়। কোনো পুদ্গল অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভীও নয়, অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভীও নয়। কোনো পুদ্গল অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী এবং অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন লাভী।

ভিক্ষুগণ, যে পুদ্গল অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী, কিন্তু অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী নয়, তদ্ধেতু সে অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী পুদ্গলের কাছে উপস্থিত হয়ে এরূপ বলে, ‘বন্ধু, কীভাবে সংস্কার দর্শন করা উচিত? কীভাবে সংস্কার জ্ঞাত হওয়া উচিত? কীভাবে সংস্কার অনুধাবন করা উচিত’? এর উত্তরে অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী তার যথাদৃষ্ট, যথাজ্ঞাত ব্যাখ্যা করে : ‘বন্ধু, এভাবে সংস্কার দ্রষ্টব্য, এভাবে সংস্কার জ্ঞাতব্য, এভাবে সংস্কার অনুধাবনীয়’। তার নিকট হতে এরূপ শুনে পরবর্তীকালে সেই পুদ্গল অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী এবং অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শন লাভী হয়।

যে পুদ্গল অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী, কিন্তু অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী নয়, তদ্ধেতু সে অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী পুদ্গলের কাছে উপস্থিত হয়ে এরূপ বলে, ‘বন্ধু, কীভাবে চিত্তকে শান্ত করা উচিত? কীভাবে চিত্তকে অটল করা উচিত? কীভাবে চিত্তকে সন্নিকৃষ্ট করা উচিত’? এর উত্তরে অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী তার যথাদৃষ্ট, যথাজ্ঞাত ব্যাখ্যা করে : ‘বন্ধু, এভাবে চিত্তকে শান্ত করা উচিত, এভাবে চিত্তকে অটল করা উচিত এভাবে চিত্তকে সন্নিকৃষ্ট করা উচিত’। তার নিকট হতে এরূপ শুনে পরবর্তীকালে সেই পুদ্গল অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী এবং অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী হয়।

যে পুদ্গল অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভীও নয়, অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভীও নয়, তদ্ধেতু সে অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী এবং অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী পুদ্গলের কাছে উপস্থিত হয়ে এরূপ বলে, ‘বন্ধু, কীভাবে চিত্তকে শান্ত করা উচিত? কীভাবে চিত্তকে অটল করা উচিত? কীভাবে চিত্তকে সন্নিকৃষ্ট করা উচিত? এবং কীভাবে সংস্কার দর্শন করা উচিত? কীভাবে সংস্কার জ্ঞাত হওয়া উচিত? কীভাবে সংস্কার অনুধাবন করা উচিত’? এর উত্তরে অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী এবং অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী তার যথাদৃষ্ট, যথাজ্ঞাত ব্যাখ্যা করে : ‘বন্ধু, এভাবে চিত্তকে শান্ত করা উচিত? এভাবে চিত্তকে অটল করা উচিত, এভাবে চিত্তকে সন্নিকৃষ্ট করা উচিত। এবং এভাবে সংস্কার দৃষ্টব্য, এভাবে সংস্কার জ্ঞাতব্য, এভাবে সংস্কার অনুধাবনীয়’। তার নিকট হতে এরূপ শুনে পরবর্তীকালে সেই পুদ্গল অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী এবং অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী হয়।

যে পুদ্গল অধ্যাত্মচিত্ত শমথলাভী এবং অধিপ্রজ্ঞাধর্ম বিদর্শনলাভী, (তদ্ধেতু) তার কুশলধর্মসমূহে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসবক্ষয়ের জন্য ভাবনা করা উচিত। এই চার প্রকার পুদ্গল জগতে বিদ্যমান।” (চতুর্থ সূত্র)

ব্যাখ্যা [০]